সোমবার, ১২ অক্টোবর ২০২৬, ০২:৫২ অপরাহ্ন
নিউজ ডেস্ক, নেত্রকোণার আলো ডটকম:
শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের পরিবেশ, তীব্র শিক্ষক সংকট ও শিক্ষা খাতে পর্যাপ্ত অর্থায়নের দাবিতে ফ্রান্সজুড়ে উচ্চবিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীদের বিক্ষোভ তীব্র রূপ নিয়েছে। শুক্রবার দেশটির বিভিন্ন শহরে বিক্ষোভকারীদের সঙ্গে দাঙ্গা পুলিশের ব্যাপক সংঘর্ষের ঘটনা ঘটে। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রাজধানী প্যারিসের উপশহরসহ স্ট্রাসবুর্গ, মার্সেই ও রেন শহরে টিয়ার শেল, কাঁদানে গ্যাস ও লাঠিচার্জ পরিচালনা করেছে পুলিশ।
ফ্রান্সের বিচারমন্ত্রী জেরাল্ড দারমানিন জানিয়েছেন, আন্দোলন শুরুর পর থেকে এ পর্যন্ত পুলিশ প্রায় ২ হাজার মানুষকে গ্রেপ্তার করেছে, যাদের বড় অংশই কিশোর। শুক্রবার দেশটির প্রায় ৪০০টি উচ্চবিদ্যালয় (মোট উচ্চবিদ্যালয়ের প্রায় ১০ শতাংশ) পুরোপুরি বন্ধ ছিল।
আন্দোলনের মূল কারণ ও সার্বিক পরিস্থিতি:
সংকটের নেপথ্যে: শ্রেণিকক্ষে ধারণক্ষমতার চেয়ে অতিরিক্ত শিক্ষার্থী, পর্যাপ্ত শিক্ষকের অভাব, অবকাঠামোগত দুরবস্থা এবং ২০২৭ সালের খসড়া বাজেটে মূল্যস্ফীতির তুলনায় কম অর্থ বরাদ্দের প্রতিবাদে আন্দোলন শুরু করে শিক্ষার্থীরা।
বিভিন্ন শহরে সংঘাত: রেন শহরে আবর্জনার পাত্রে আগুন দেওয়া এবং মার্সেইয়ে পুলিশকে লক্ষ্য করে আতশবাজি ছোড়ার ঘটনা ঘটে। প্যারিসে ‘আমাদের সহ্য করার নয়, গড়ার মতো ভবিষ্যৎ আছে’ লেখা প্ল্যাকার্ড হাতে হাজার হাজার শিক্ষার্থী রাস্তায় নামে।
পুলিশি ভূমিকা ও বিতর্ক: আন্তর্জাতিক মানবাধিকার সংস্থা ‘অ্যামনেস্টি ইন্টারন্যাশনাল’ কিশোর শিক্ষার্থীদের ওপর পুলিশের অতিরিক্ত বলপ্রয়োগ নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করেছে। পুলিশের সহিংসতার অভিযোগে ইতোমধ্যে ৩টি আনুষ্ঠানিক তদন্ত শুরু করেছে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়।
সীমান্ত পেরিয়ে আন্তর্জাতিক প্রভাব: ফ্রান্সের এই বিক্ষোভের প্রভাব পড়েছে প্রতিবেশী দেশ বেলজিয়ামেও। দেশটির লিয়েজ শহরের কয়েকটি উচ্চবিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীরা ফরাসি শিক্ষার্থীদের প্রতি সংহতি জানিয়ে বিক্ষোভ শুরু করেছে।
ফ্রান্সের শিক্ষা ও যুবমন্ত্রী অভিভাবকদের সন্তানদের বিক্ষোভ থেকে দূরে রাখার আহ্বান জানিয়েছেন। অন্যদিকে, সরকার এই আন্দোলনকে রাজনৈতিকভাবে ব্যবহারের চেষ্টা করছে বলে বিরোধী দলগুলো পাল্টা অভিযোগ তুলছে।