রবিবার, ১৮ অক্টোবর ২০২৬, ০৫:৩৩ পূর্বাহ্ন

শিরোনাম :
কুড়িগ্রামে ট্রাক চাপায় একই পরিবারের ৫ জনের মৃত্যু হামে মৃত্যু থামছেই না, মোট প্রাণহানি বেড়ে ১১৮৯ সাড়ে চার ঘণ্টায় ১৩ স্থান পরিদর্শন প্রধানমন্ত্রীর, অসন্তোষে দিলেন সময়সীমা ফুটবলে এবার ‘ইলেকট্রনিক কার্ড’ শিশু হাসপাতালে চিকিৎসকের কক্ষে ধূমপান, বরখাস্তের নির্দেশ প্রধানমন্ত্রীর ইনানীর টুপটুপ রিসোর্টে আগুন, নিহত বেড়ে ১০ জামায়াত নেতা ডা. খালিদুজ্জামানকে ‘সুযোগসন্ধানী ভণ্ড’ বললেন রাশেদ খাঁন কুয়েত মৈত্রী হাসপাতালের ব্যবস্থাপনা নিয়ে প্রধানমন্ত্রীর অসন্তোষ, ৭ দিনের আল্টিমেটাম পাকিস্তানি ‘শেইদাই’ নকলের অভিযোগ নিলয়-হিমির নাটকের বিরুদ্ধে সিলেটে প্রথমবার শতহাতের দুর্গা প্রতিমা, দেখতে দর্শনার্থীদের ভিড়
সৌদি আরবকে কি হুথিদের হাত থেকে রক্ষা করতে পারবে তুরস্ক ও পাকিস্তান

সৌদি আরবকে কি হুথিদের হাত থেকে রক্ষা করতে পারবে তুরস্ক ও পাকিস্তান

নিউজ ডেস্ক, নেত্রকোণার আলো ডটকম:

সৌদি আরবের রাজধানী রিয়াদের আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর ও কৌশলগত তেল স্থাপনাগুলোতে একের পর এক ড্রোন ও ক্ষেপণাস্ত্র হামলার পর দেশটির আকাশ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থার বড় ধরনের দুর্বলতা উন্মোচিত হয়েছে। এমন পরিস্থিতিতে আগস্টে স্বাক্ষরিত ‘মক্কা যৌথ প্রতিরক্ষা চুক্তি’র আওতায় আঙ্কারা ও ইসলামাবাদ সৌদি আরবকে দ্রুত সামরিক সহায়তা দেওয়ার যে প্রতিশ্রুতি দিয়েছে, তা এখন বাস্তব পরীক্ষার মুখে পড়েছে। ভূরাজনৈতিক বিশেষজ্ঞদের বিশ্লেষণে দেখা যাচ্ছে, তুরস্কের সর্বাধুনিক রাডার ও আকাশ প্রতিরক্ষা প্রযুক্তি এবং পাকিস্তানের বিদ্যমান সামরিক উপস্থিতি ও অভিজ্ঞ সেনা দল সৌদির প্রতিরক্ষা ব্যুহকে বেশ শক্তিশালী করবে ঠিকই; তবে হুথিদের কম খরচের ড্রোন ও ক্ষেপণাস্ত্র হামলা পুরোপুরি নস্যাৎ করা কিংবা ইয়েমেন যুদ্ধের গতিপথ পুরোপুরি বদলে দেওয়া অত্যন্ত কঠিন ও জটিল এক চ্যালেঞ্জ।

বিশ্লেষকদের মতে, তুরস্কের ‘কোরকুত’, ‘হিসার’ ও ‘জিইউআরজেড’-এর মতো স্বল্প থেকে মাঝারি পাল্লার কামান ও ক্ষেপণাস্ত্র প্রতিরক্ষা প্রযুক্তি স্বল্প খরচের ড্রোন হামলাকে প্রতিহত করতে সাহায্য করতে পারে। অন্যদিকে, সৌদিতে আগে থেকেই পাকিস্তানের প্রায় ৮ হাজার সেনা, জেএফ-১৭ (JF-17) যুদ্ধবিমান স্কোয়াড্রন ও এইচকিউ-৯ (HQ-9) আকাশ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা থাকায় দ্রুত সামরিক সমন্বয় সম্ভব। কিন্তু তুরস্ক সরাসরি বিদেশে আক্রমণাত্মক সামরিক অভিযানে না যাওয়ার বিষয়ে স্পষ্ট অবস্থান নিয়েছে এবং পাকিস্তানকেও প্রতিবেশী ইরানের সঙ্গে সম্পর্ক ও অভ্যন্তরীণ রাজনীতি বিবেচনা করে এগোতে হচ্ছে। ফলে এই ত্রিদেশীয় জোট সৌদির সার্বিক প্রতিরক্ষাকে জোরদার করতে পারলেও এবং যুক্তরাষ্ট্রের ওপর একক নির্ভরতা কমাতে সহায়তা করলেও তা ইয়েমেনের ভেতরে হুথিদের সামরিক সক্ষমতা পুরোপুরি নির্মূল করার নিশ্চয়তা দেয় না।

সামরিক সাহায্য ও ভূরাজনৈতিক বিশ্লেষণের মূল দিকসমূহ:
আকাশ প্রতিরক্ষার জরুরি প্রয়োজন: রিয়াদ বিমানবন্দর ও মদিনার কাছে তেল পাইপলাইনে হামলার পর স্বল্প খরচের ড্রোন ও ড্রোন-ঝাঁক থেকে গুরুত্বপূর্ণ পরিকাঠামো রক্ষা করা সৌদির প্রধান চ্যালেঞ্জ হয়ে দাঁড়িয়েছে।

তুরস্কের প্রযুক্তিগত সহায়তা: আঙ্কারা মূলত রাডার , ই-ওয়ারফেয়ার এবং ‘কোরকুত’ ও ‘হিসার’-এর মতো মাল্টি-লেয়ার্ড বা বহুস্তরীয় আকাশ প্রতিরক্ষা প্রযুক্তি ও টেকনিশিয়ান পাঠাতে প্রস্তুত।

পাকিস্তানের সুপ্রতিষ্ঠিত অবস্থান: সৌদিতে পাকিস্তানের বিদ্যমান সেনাবহর ও আকাশ প্রতিরক্ষা কাঠামোর কারণে খুব দ্রুত সমন্বিত প্রতিরোধ গড়ে তোলা সম্ভব।

কূটনৈতিক ও রাজনৈতিক সীমাবদ্ধতা: আঙ্কারা ও ইসলামাবাদ সৌদি ভূখণ্ড রক্ষা করতে প্রতিশ্রুতিবদ্ধ হলেও ইয়েমেনের ভেতরে সরাসরি আক্রমণাত্মক যুদ্ধে জড়াতে নারাজ।

আঞ্চলিক সমীকরণ ও রাজনৈতিক বার্তা: যুক্তরাষ্ট্রের বাইরে আঙ্কারা ও ইসলামাবাদের সঙ্গে সামরিক জোট গঠন রিয়াদের প্রতিরক্ষা ক্ষেত্রে একটি বড় ধরনের কৌশলগত পরিবর্তনকে নির্দেশ করে।

( নেত্রকোণার আলো ডট কম’র প্রকাশিত/প্রচারিত কোনো সংবাদ, তথ্য, ছবি, আলোকচিত্র, রেখাচিত্র, ভিডিওচিত্র, অডিও কনটেন্ট কপিরাইট আইনে পূর্বানুমতি ছাড়া ব্যবহার করা যাবে না। )

Comments are closed.




© All rights reserved © 2024 www.netrakon-r-alo.com