শনিবার, ০৭ নভেম্বর ২০২৬, ০৯:৪৮ অপরাহ্ন
নিউজ ডেস্ক, নেত্রকোণার আলো ডটকম:
মডেলিং দিয়ে শোবিজে পদচারণা শুরু করে সুন্দরী প্রতিযোগিতার মুকুট জয়, টিভি নাটকে সাফল্য এবং পরবর্তীতে রূপালি পর্দায় নিজের শক্ত অবস্থান তৈরি—সব মিলিয়ে চিত্রনায়িকা ইয়ামিন হক ববির ক্যারিয়ার আপাতদৃষ্টিতে বেশ মসৃণ মনে হলেও এর নেপথ্যের লড়াইটা ছিল অত্যন্ত কঠিন। বিশেষ করে বড় পর্দায় নাম লেখানোর শুরুতে পরিবার থেকে তীব্র বাধার মুখে পড়তে হয়েছিল তাকে; এমনকি চলচ্চিত্রে অভিনয় করার খবর প্রকাশ পাওয়ার পর বাসায় চড়-থাপ্পড়ও খেতে হয়েছিল এই অভিনেত্রীকে।
সম্প্রতি নিজের ক্যারিয়ারের শুরুর দিনগুলোর স্মৃতিচারণ করতে গিয়ে ববি জানান, শৈশব থেকেই তার বড় পর্দায় নিজেকে দেখার সুপ্ত বাসনা ছিল। বন্ধুদের সঙ্গে আড্ডা দেওয়া বা খেলাধুলার চেয়ে বাবার সঙ্গে সিনেমা দেখতেই বেশি ভালোবাসতেন তিনি। স্কুল থেকে ফিরে দ্রুত হোমওয়ার্ক শেষ করে বাবার অপেক্ষায় থাকতেন এবং অফিস শেষে বাবার সঙ্গে হলে গিয়ে সিনেমা দেখতেন। এভাবে নিয়মিত সিনেমা দেখতে দেখতেই মনের অজান্তে বড় পর্দার নায়িকা হওয়ার স্বপ্ন ডালপালা মেলে।
তবে পরিবারের চাওয়া ছিল সম্পূর্ণ বিপরীত। ববির পরিবারের সদস্যরা চেয়েছিলেন তিনি যেন চিকিৎসক কিংবা আইনজীবী হন। তার এক বোন বর্তমানে চিকিৎসক। ফলে সিনেমার প্রতি ববির ঝোঁক থাকায় পরিবার থেকে তার ওপর কড়া নজরদারি রাখা হতো। একপর্যায়ে পড়ার কথা বলে কৌশলে অমিতাভ রেজা চৌধুরীর পরিচালনায় একটি টেলিকম প্রতিষ্ঠানের বিজ্ঞাপনের কাজ করেন তিনি।
সেই বিজ্ঞাপনটি দেখেই চিত্রপরিচালক ইফতেখার চৌধুরী তাকে অনন্ত জলিলের অভিষেক চলচ্চিত্র ‘খোঁজ: দ্য সার্চ’-এর জন্য প্রস্তাব দেন। অ্যাকশন দৃশ্যে অভিনয়ের জন্য শারীরিকভাবে ফিট কাউকে খুঁজছিলেন পরিচালক। পরিবারকে না জানিয়ে লুকিয়েই স্ক্রিন টেস্ট দেন ববি এবং পরে তাকে চূড়ান্ত করার কথা জানানো হয়। কিন্তু দীর্ঘমেয়াদি সিনেমার শুটিংয়ের জন্য কীভাবে পরিবারের অনুমতি নেবেন, তা নিয়ে গভীর সংকটে পড়েন তিনি।
চলচ্চিত্রে চূড়ান্ত হওয়ার বিষয়টি পরিবারে জানাজানি হতেই শুরু হয় তীব্র পারিবারিক অশান্তি। ববি বলেন, “বাসায় বিষয়টি জানানোর পর অনেক চড়-থাপ্পড় খেয়েছি। কান্নাকাটি করে তখন বাবাকে বলেছিলাম—এটাই আমার জীবনের শেষ সিনেমা, আর কখনো জীবনে সিনেমা করব না। হাতে-পায়ে ধরে এবং পড়াশোনার ক্ষতি হবে না বলে প্রতিশ্রুতি দিয়ে পরিবারকে রাজি করিয়েছিলাম।”
অনুমতি পাওয়ার পর সিনেমার জন্য পুরোদমে কঠোর অ্যাকশন ও ফাইট অনুশীলন শুরু করেন তিনি। অনুশীলনে হাত-পা ও ঘাড়ে চোট পাওয়ার যন্ত্রণা সয়ে ২০১০ সালে ‘খোঁজ: দ্য সার্চ’ ছবির মাধ্যমে বড় পর্দায় অভিষেক হয় ববির। আর সেই ছবির সাফল্যের মাধ্যমেই ঢাকাই চলচ্চিত্রে স্থায়ী জায়গা করে নেন তিনি।