রবিবার, ১০ মে ২০২৬, ০৭:১৫ পূর্বাহ্ন
নিউজ ডেস্ক, নেত্রকোণার আলো ডটকম:
‘জুলাই আন্দোলনের বিপ্লবীরাই একদিন বিশ্বকে নেতৃত্ব দেবে’—এমন মন্তব্য করেছেন প্রধান উপদেষ্টা ড. মুহাম্মদ ইউনূস। বুধবার (২৮ জানুয়ারি) দুপুরে রাজধানীর বাংলাদেশ-চীন মৈত্রী সম্মেলন কেন্দ্রে ‘ডিজিটাল ডিভাইস অ্যান্ড ইনোভেশন এক্সপো-২০২৬’-এর উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে তিনি এ কথা বলেন।
ড. ইউনূস বলেন, জুলাই অভ্যুত্থানে ইন্টারনেট বন্ধের পর গড়ে ওঠা প্রবল জনরোষই এক মহাশক্তিশালী সরকারের পতন ঘটিয়েছিল। রাজনীতিতে এই আন্দোলন যেমন নতুন দুয়ার খুলেছে, তথ্যপ্রযুক্তিতে এই এক্সপো-ও তেমনই নতুন সম্ভাবনা তৈরি করবে। তিনি ডিজিটাল খাতকে পরিবর্তনের মূল চালিকাশক্তি হিসেবে উল্লেখ করে বলেন, এ খাতের প্রভাব সব ক্ষেত্রে ছড়িয়ে পড়বে।
নাগরিক সেবার ডিজিটাল রূপান্তর প্রসঙ্গে প্রধান উপদেষ্টা আক্ষেপ করে বলেন, ডিজিটালাইজেশন এতদিন কাগজে-কলমেই সীমাবদ্ধ ছিল, বাস্তবে রূপ পায়নি। তথ্যপ্রযুক্তির শক্তি কাজে লাগিয়ে সরকার এমন সিস্টেম তৈরি করবে যা সাধারণ মানুষ সহজেই ব্যবহার করতে পারবে।
পার্বত্য চট্টগ্রামের শিক্ষা পরিস্থিতি নিয়ে তিনি জানান, সেখানকার আড়াই হাজার স্কুলের মধ্যে মাত্র ১২টিতে ইন্টারনেট ছিল। শিক্ষক সংকটের সমাধান হিসেবে ইন্টারনেটকেই ‘শ্রেষ্ঠ শিক্ষক’ হিসেবে ব্যবহারের ওপর জোর দেন তিনি।
চাকরি প্রসঙ্গে ভিন্নধর্মী মত দিয়ে ড. ইউনূস বলেন, “সবার জন্য চাকরি নিশ্চিতের ধারণা এক প্রকার দাসপ্রথা। আমাদের লক্ষ্য হওয়া উচিত উদ্যোক্তা হওয়া।” সরকারি কর্মকর্তাদের দীর্ঘমেয়াদী চাকরির সমালোচনা করে তিনি বলেন, ৫ বছরের বেশি এক পদে থাকা উচিত নয়, কারণ এতে সৃজনশীলতা নষ্ট হয়। এমনকি প্রতিটি প্রতিষ্ঠানকে ১০ বছর পরপর নতুন লক্ষ্য নিয়ে পুনর্গঠন করার পরামর্শ দেন তিনি।
পরিশেষে প্রযুক্তি খাতে জালিয়াতি বন্ধের কঠোর আহ্বান জানিয়ে তিনি বলেন, “জালিয়াতির কারণে বিদেশে আমাদের ভাবমূর্তি ক্ষুণ্ন হয়েছে। আমরা মাথা উঁচু করে দাঁড়াতে চাই, আর সেই সামর্থ্য আমাদের আছে।”