রবিবার, ১০ মে ২০২৬, ০৪:৫৬ পূর্বাহ্ন
নিউজ ডেস্ক, নেত্রকোণার আলো ডটকম:
দেশে উদ্বেগজনক হারে বাড়ছে হামের সংক্রমণ। রাজশাহী, বরিশাল, চট্টগ্রাম ও ময়মনসিংহসহ বিভিন্ন অঞ্চলে দ্রুত ছড়িয়ে পড়ছে এই ভাইরাস। সর্বশেষ তথ্য অনুযায়ী, গতকাল বুধবার রাত পর্যন্ত হামে আক্রান্ত হয়ে দেশে ৪২ শিশুর মৃত্যু হয়েছে। জনস্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞরা জানিয়েছেন, সংক্রমণ এখন আর বিচ্ছিন্ন পর্যায়ে নেই, এটি ইতোমধ্যে কমিউনিটি পর্যায়ে ছড়িয়ে পড়েছে।
পরিস্থিতির ভয়াবহতা:
হাসপাতালগুলোতে প্রতিদিন বাড়ছে আক্রান্ত শিশুর সংখ্যা। জ্বর, কাশি ও লালচে ফুসকুড়ি নিয়ে ভর্তি হওয়া শিশুদের অনেকেরই নিউমোনিয়া বা ডায়রিয়ার মতো জটিলতা দেখা দিচ্ছে। রাজধানীর সংক্রামক ব্যাধি হাসপাতালেই এ বছর ২৩ শিশুর মৃত্যু হয়েছে। এছাড়া ময়মনসিংহ ও চট্টগ্রামেও পরিস্থিতির অবনতি হচ্ছে। চিকিৎসকরা জানিয়েছেন, আক্রান্ত শিশুদের একটি বড় অংশই পুষ্টিহীনতায় ভুগছে এবং তাদের বয়স ৯ মাসের নিচে।
সরকারের বিশেষ উদ্যোগ:
সংক্রমণ নিয়ন্ত্রণে আগামী ৫ এপ্রিল থেকে দেশব্যাপী বিশেষ টিকাদান কর্মসূচি শুরু করছে সরকার। স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণমন্ত্রী সরদার মো. সাখাওয়াত হোসেন জানিয়েছেন, ৬ মাস থেকে ১০ বছর বয়সী প্রায় ২ কোটি ১৯ লাখ শিশুকে এই টিকার আওতায় আনা হবে। পরিস্থিতির গুরুত্ব বিবেচনায় প্রথম ডোজ টিকার বয়স ৯ মাস থেকে কমিয়ে ৬ মাসে নামিয়ে আনা হয়েছে।
বিশেষজ্ঞদের পরামর্শ:
বিশেষজ্ঞদের মতে, নিয়মিত টিকাদানে ব্যাঘাত ও অপুষ্টির কারণেই এই বিপর্যয়। হামের ভাইরাস অত্যন্ত সংক্রামক; একজন আক্রান্ত শিশু ১২ থেকে ১৮ জনকে সংক্রমিত করতে পারে। ময়মনসিংহ মেডিক্যাল কলেজের শিশু চিকিৎসক ডা. বিজন কুমার বণিক জানান, হাম প্রতিরোধের একমাত্র পথ হলো টিকা। সময়মতো দুই ডোজ টিকা নিলে ৯৭ শতাংশ পর্যন্ত সুরক্ষা নিশ্চিত করা সম্ভব।
শিশুর শরীরে জ্বর বা ফুসকুড়ি দেখা দিলে দেরি না করে দ্রুত চিকিৎসকের পরামর্শ নিতে এবং আক্রান্ত শিশুকে আলাদা রাখার আহ্বান জানিয়েছেন চিকিৎসকরা।