শনিবার, ০৯ মে ২০২৬, ০৭:৪৫ অপরাহ্ন
নিউজ ডেস্ক, নেত্রকোণার আলো ডটকম:
পেটের গ্যাস, বদহজম কিংবা অ্যাসিডিটির সমস্যায় ভুগছেন না—এমন মানুষ খুঁজে পাওয়া ভার। অনেকেই এর সমাধানে নিয়মিত ওষুধ বা ঘরোয়া টোটকার ওপর নির্ভর করেন। তবে বিশেষজ্ঞরা বলছেন, শুধু ওষুধ বা টোটকা নয়, বরং দৈনন্দিন খাবারের ধরনে ছোট কিছু পরিবর্তনই আপনাকে এই অস্বস্তি থেকে মুক্তি দিতে পারে।
সময় মেনে খাবার খান
শরীরের হজমপ্রক্রিয়া একটি নির্দিষ্ট ছন্দ মেনে চলে। সকাল থেকে দুপুর ১টা পর্যন্ত আমাদের হজমক্ষমতা সবচেয়ে সক্রিয় থাকে। তাই এই সময়ের মধ্যে ভারী খাবার সেরে নেওয়া ভালো। দুপুরের খাবার দুপুর ২টা বা ৩টার পর খেলে হজমে স্বাভাবিকের চেয়ে দ্বিগুণ সময় লাগে, যা থেকে গ্যাস ও পেট ফাঁপার সৃষ্টি হয়।
রাতের খাবারে সতর্কতা
অনেকেই রাত ৯টা বা ১০টার পর ভারী খাবার খেয়ে দ্রুত ঘুমানোর প্রস্তুতি নেন। রাতে শরীরের বিপাক প্রক্রিয়া ধীর হয়ে যায়। তাই ঘুমানোর অন্তত ২-৩ ঘণ্টা আগে রাতের খাবার শেষ করা উচিত। অন্যথায় পেটে ব্যাকটেরিয়ার প্রভাবে গ্যাস ও অস্বস্তি বাড়তে পারে।
ভালো করে চিবিয়ে খাওয়ার অভ্যাস
হজম শুরু হয় মুখ থেকেই। তাড়াহুড়া করে খাবার গিলে ফেললে খাবারের সাথে অতিরিক্ত বাতাস পেটে ঢুকে যায়, যাকে চিকিৎসাবিজ্ঞানে ‘এয়ারোফেজিয়া’ বলা হয়। এটি পেট ফাঁপা ও ঢেকুর ওঠার প্রধান কারণ। প্রতিটি গ্রাস অন্তত ২৫-৩০ বার চিবিয়ে খাওয়া উচিত।
রাতে সালাদ এড়িয়ে চলুন
কাঁচা সবজি বা সালাদে থাকা সেলুলোজ হজম করা পাকস্থলীর জন্য কঠিন। বিশেষ করে রাতে হজমশক্তি কম থাকায় কাঁচা খাবারের বদলে ভাপানো বা সেদ্ধ সবজি খাওয়া পেটের জন্য বেশি আরামদায়ক।
খাওয়ার পর ১০ মিনিট হাঁটুন
খাবার খেয়েই বিছানায় শুয়ে পড়ার অভ্যাস হজমে মারাত্মক ব্যাঘাত ঘটায়। খাওয়ার পর অন্তত ১০ মিনিট ধীরগতিতে হাঁটাহাঁটি করলে অন্ত্রের কার্যকারিতা বাড়ে এবং রক্তে শর্করার মাত্রা নিয়ন্ত্রণে থাকে। এছাড়া খাওয়ার পরপরই খুব ঠান্ডা পানি পান করা থেকে বিরত থাকার পরামর্শ দিচ্ছেন বিশেষজ্ঞরা।
জীবনযাত্রায় এই সামান্য পরিবর্তনগুলো আনলেই আপনি ওষুধ ছাড়াই হজমের সমস্যা থেকে মুক্তি পেতে পারেন। তবে সমস্যা দীর্ঘমেয়াদী হলে অবশ্যই চিকিৎসকের পরামর্শ নিন।