রবিবার, ১০ মে ২০২৬, ০২:৩০ পূর্বাহ্ন

মোহাম্মদ আজম ও তার সাথীরা অভ্যুত্থানের সাংস্কৃতিক ইতিহাসকে বিলুপ্ত করার প্রজেক্ট হাতে নিয়েছেন – এনামূল হক পলাশ

মোহাম্মদ আজম ও তার সাথীরা অভ্যুত্থানের সাংস্কৃতিক ইতিহাসকে বিলুপ্ত করার প্রজেক্ট হাতে নিয়েছেন – এনামূল হক পলাশ

এনামূল হক পলাশ:

একটা জাতির সাংস্কৃতিক লড়াইয়ের ইতিহাস খুবই গুরুত্বপূর্ণ। এই ইতিহাস বিলুপ্ত তারাই করতে চায় যারা ইতিহাসের চাকা ঘুরিয়ে দিতে চায়। বিগত কর্তৃত্ববাদী সরকারকে হটিয়ে নয়া ব্যবস্থা কায়েমের জন্য এই দেশের কবি, সাহিত্যিক, সংস্কৃতি কর্মী সহ আপামর জনতা মাঠে সরব ছিলেন। বাংলাদেশের মানুষ এক অভূতপূর্ব ঘটনার সাক্ষী হন। এই ঘটনায় শাসক পালিয়ে যান। পরিবর্তন হয় সকল সেক্টরে। এই পরিবর্তনের ধারাবাহিকতায় মোহাম্মদ আজম বাংলা একাডেমির মহাপরিচালক নিযুক্ত হন। সে প্রেক্ষিতে আমাদের প্রত্যাশা ছিল একটা নয়া সাংস্কৃতিক বন্দোবস্তের নেতৃত্ব দিয়ে বাংলা একাডেমি তার বিগত দিনের পাপ মোচন করবে। তারা অভ্যুত্থানের ঘটনা নিয়ে ব্যবসায় অবতীর্ণ হয়েছেন। জুলাই অভ্যুত্থানের কবিতা সংকলন প্রকাশের মাধ্যমে সে তার স্পিরিটকে জানান দেওয়ার ঘোষণা দিয়েছিল। প্রকৃতপক্ষে এটা তাদের অভ্যুত্থান বিরোধী শক্তিকে পূনর্বাসনের প্রজেক্ট। দ্বিতীয় কথা হচ্ছে জুলাইয়ের কবি লেখক শিল্পীদের প্রকৃত ইতিহাসকে বিকৃত করাই এদের মূল মিশন। সংকলনে জুলাইয়ের অধিকাংশ তরুণদের লেখা স্থান দেয়া হয় নি। এরা বলার চেষ্টা করছে,
“যে কবিতা— কবিতা হয়ে উঠেছে সেগুলোই সংকলনে স্থান পেয়েছে।”
ফলে জুলাই অভ্যুত্থানের অংশীজনের যে এক অটো তালিকা হওয়ার সম্ভাবনা ছিল তা নষ্ট হয়ে গেছে। অভিযোগ আছে যে, এই সংকলনে ঢুকে গেছে অভ্যুত্থান বিরোধী কিছু লেখক। এরকম একটি ঘটনা ঘটে যাওয়ার পর এর দায় স্বীকার না করে সাফাই গাওয়ার মানে হচ্ছে পরিকল্পিত ভাবে ইতিহাসকে বিভ্রান্ত করা। আজকের তরুণ লেখকরা ভবিষ্যত প্রভাব বিস্তারকারী লেখক হবেন। অভ্যুত্থানে তাদের ভূমিকা কি ছিল এই প্রশ্নগুলো তখন সামনে আসবে। আমরা হয়তো তখন সাক্ষ্য দেয়ার জন্য আর জীবিত নাও থাকতে পারি। ১৯৭১ সালে মুক্তিযোদ্ধাদের তালিকা এখন প্রশ্নবিদ্ধ। এর কারণ হচ্ছে, এই তালিকা যাদের করার কথা ছিল তারা করেন নি। রাজাকার গোত্রীয় তালিকাও সঠিক সম্পন্ন হয় নি। ফলে প্রকৃত মুক্তিযোদ্ধাকেও এখন সন্দেহের মধ্যে থাকতে হয়। তালিকা না হওয়ার কারণে শুধুমাত্র মুসলিম লীগকে সমর্থন করেছিলেন এমন ব্যক্তিকেও রাজাকার বলে গালি দেয়া হয়। আবার প্রকৃত রাজাকার মুক্তিযোদ্ধার সনদ নিয়ে বুক ফুলিয়ে জীবন কাটিয়ে দিয়েছেন। যাই হউক এইসব ইতিহাস সুকৌশলে বিকৃত করা হয়েছে। এখন আমাদের চোখের সামনে আরেকটি ইতিহাস বিকৃতির প্রক্রিয়া চলছে যার নেতৃত্ব দিচ্ছেন বাংলা একাডেমির মহাপরিচালক মোহাম্মদ আজম।
আমরা এই সাংস্কৃতিক ইতিহাসকে পরিকল্পিতভাবে বিলুপ্ত করার প্রক্রিয়ার তীব্র বিরোধিতা করি। এদের কাজে এদেশের আপামর বৈষম্য বিরোধী কবি লেখক শিল্পীদের মধ্যে তীব্র প্রতিক্রিয়া সৃষ্টি হয়েছে। যে উদ্যোগ বাংলা একাডেমির গ্রহণ করার কথা ছিল সেরকম উদ্যোগ ইতিমধ্যে দুইটি লিটল ম্যাগ এর সম্পাদক গ্রহণ করেছেন। বাংলাদেশে প্রথম জুলাই অভ্যুত্থান নিয়ে সংখ্যা করেন কবি সাদমান শহীদ। তার ম্যাগাজিনটির নাম হচ্ছে বৃত্তান্ত। পরবর্তীতে মনসুর আজিজ সম্পাদিত আদ্যাপত্র বের হয়। অনলাইন সাহিত্য পত্রিকার মধ্যে সাজ্জাদ বিপ্লব সম্পাদিত বাংলা রিভিউ শুরু থেকেই অভ্যুত্থানের পক্ষে কাজ করেছেন। পরবর্তীতে তিনি একটি সংখ্যাও প্রকাশ করে প্রচার করেছেন। ঠিক এর বিপরীত কাজ করেছে বাংলা একাডেমি। জুলাই অভ্যুত্থানকে তোয়াক্কা না করে মোহাম্মদ আজমের নেতৃত্বে ফ্যা/সি/বা/দী শক্তিকে পুনর্বাসনের কাজে লিপ্ত হয়েছে। মোহাম্মদ আজম দায়িত্ব গ্রহণের পর বাংলা একাডেমির কোন গুণগত মৌলিক পরিবর্তন হয়নি। বরং বিগত অপশাসনের আমলে চাটুকারেরা বহাল তবিয়তে আছেন। এই অভিযোগ এই প্রজন্মের সকল তরুণ লেখকদের। তাহলে প্রশ্ন উঠাই স্বাভাবিক, মোহাম্মদ আজম কি অভ্যুত্থানের সাংস্কৃতিক ইতিহাসকে বিলুপ্ত করার প্রজেক্ট হাতে নিয়েছেন?

লেখক : কবি ও ভাবুক।

( নেত্রকোণার আলো ডট কম’র প্রকাশিত/প্রচারিত কোনো সংবাদ, তথ্য, ছবি, আলোকচিত্র, রেখাচিত্র, ভিডিওচিত্র, অডিও কনটেন্ট কপিরাইট আইনে পূর্বানুমতি ছাড়া ব্যবহার করা যাবে না। )

Comments are closed.




© All rights reserved © 2024 www.netrakon-r-alo.com