রবিবার, ০১ নভেম্বর ২০২৬, ০৬:১০ অপরাহ্ন
নিউজ ডেস্ক, নেত্রকোণার আলো ডটকম:
ব্যক্তিগত ও পারিবারিক আর্থিক নিরাপত্তা নিশ্চিত করা এবং ভবিষ্যৎ সুরক্ষায় সঞ্চয়ের গুরুত্ব তুলে ধরার লক্ষ্য নিয়ে বিশ্বজুড়ে আজ ৩১ অক্টোবর পালিত হচ্ছে ‘বিশ্ব সঞ্চয় দিবস’। জীবনের যেকোনো অনিশ্চয়তা মোকাবিলা, আপৎকালীন জরুরি প্রয়োজন মেটানো এবং টেকসই ভবিষ্যৎ পরিকল্পনা বাস্তবায়নে সঞ্চয়ের ভূমিকা অনস্বীকার্য।
বিশ্বব্যাপী মানুষের মধ্যে সঞ্চয়ের মানসিকতা তৈরি এবং ব্যাংকসহ বৈধ আর্থিক প্রতিষ্ঠানে আমানত রাখার প্রতি উৎসাহিত করাই দিবসটির মূল উদ্দেশ্য। বিশেষ করে শিশু-কিশোর ও তরুণ প্রজন্মের মধ্যে ছোটবেলা থেকেই সঞ্চয়ী মনোভাব এবং আর্থিক সচেতনতা গড়ে তোলার ওপর দিবসটিতে বিশেষ তাগিদ দেওয়া হয়।
বর্তমান বাংলাদেশের প্রেক্ষাপটে দিবসটির গুরুত্ব আরও বেশি অনুভূত হচ্ছে। নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যের চড়া মূল্য, জীবনযাত্রার ব্যয় বৃদ্ধি এবং অর্থনৈতিক চাপের মুখে সীমিত ও মধ্যম আয়ের পরিবারের জন্য অর্থ জমানো একটি বড় চ্যালেঞ্জ হয়ে দাঁড়িয়েছে। তবে অর্থনীতিবিদ ও আর্থিক বিশেষজ্ঞদের মতে, আয়ের সামান্য একটি নির্দিষ্ট অংশ যদি প্রতি মাসে নিয়মিতভাবে আলাদা করে জমানো যায়, তবে তা ভবিষ্যতের বড় ধরনের আর্থিক বিপর্যয় ও চাপ মোকাবিলায় ঢাল হিসেবে কাজ করে।
অর্থনৈতিক শৃঙ্খলা বজায় রাখতে পরিবারগুলোতে ব্যক্তিগত বাজেট তৈরি, অপচয় ও বিলাসী ব্যয় হ্রাস, বৈধ ও অনুমোদিত আর্থিক প্রতিষ্ঠানে অর্থ রাখা এবং ঝুঁকিহীন খাতে বিনিয়োগের অভ্যাস গড়ে তোলার আহ্বান জানানো হয়েছে। একই সঙ্গে অধিক মুনাফার লোভ দেখিয়ে সাধারণ মানুষের অর্থ হাতিয়ে নেওয়া অনুমোদনহীন ভুঁইফোড় প্রতিষ্ঠান ও প্রতারণামূলক আর্থিক ফাঁদ থেকে সবাইকে সতর্ক থাকার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে।
উল্লেখ্য, ১৯২৪ সালে ইতালির মিলানে অনুষ্ঠিত প্রথম আন্তর্জাতিক সঞ্চয় ব্যাংক কংগ্রেস থেকে বিশ্ব সঞ্চয় দিবস পালনের ঐতিহাসিক সূচনা হয়। এরপর থেকেই প্রতি বছর ৩১ অক্টোবর বিশ্বব্যাপী দিবসটি উদযাপিত হয়ে আসছে। দিবসটির মূল দর্শন—সঞ্চয় কেবল অর্থ জমিয়ে রাখা নয়, বরং নিরাপদ ও স্বাবলম্বী ভবিষ্যৎ বিনির্মাণের সবচেয়ে কার্যকর হাতিয়ার।