রবিবার, ০১ নভেম্বর ২০২৬, ০৩:৩০ অপরাহ্ন

বাংলাদেশকে ৪৫ কোটি ডলার ঋণ দিচ্ছে বিশ্বব্যাংক, আছে যে শর্ত

বাংলাদেশকে ৪৫ কোটি ডলার ঋণ দিচ্ছে বিশ্বব্যাংক, আছে যে শর্ত

নিউজ ডেস্ক, নেত্রকোণার আলো ডটকম:

দেশের ভঙ্গুর ব্যাংকিং খাত পুনর্গঠন, কার্যকর সংস্কার এবং সার্বিক আর্থিক খাতের নিরাপত্তা বলয় শক্তিশালী করতে বাংলাদেশকে সহজ শর্তে ৪৫ কোটি মার্কিন ডলার ঋণ দিচ্ছে বিশ্বব্যাংক গ্রুপের অঙ্গপ্রতিষ্ঠান আন্তর্জাতিক উন্নয়ন সংস্থা (আইডিএ)। বর্তমান বিনিময় হার অনুযায়ী (প্রতি ডলার ১২৪ টাকা ধরে) বাংলাদেশি মুদ্রায় এই ঋণের পরিমাণ প্রায় ৫ হাজার ৫৮০ কোটি টাকা।

‘ফাইন্যান্সিয়াল সেক্টর সাপোর্ট-২’ শীর্ষক প্রকল্পের আওতায় এ অর্থায়ন নিশ্চিত করতে ইতোমধ্যে বাংলাদেশ সরকার ও বিশ্বব্যাংকের মধ্যে একটি আনুষ্ঠানিক ঋণচুক্তি স্বাক্ষরিত হয়েছে। অর্থনৈতিক সম্পর্ক বিভাগের (ইআরডি) সচিব মো. শাহরিয়ার কাদের ছিদ্দিকী এবং বাংলাদেশ ও ভুটানের জন্য বিশ্বব্যাংকের ডিভিশন ডিরেক্টর জাঁ পেসমে নিজ নিজ পক্ষের হয়ে এ চুক্তিতে স্বাক্ষর করেন।

শনিবার (৩১ অক্টোবর) অর্থনৈতিক সম্পর্ক বিভাগ থেকে পাঠানো এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানানো হয়েছে।

ইআরডি সূত্রে জানা গেছে, ২০২৬ সালের ১ জুলাই থেকে ২০৩১ সালের ৩০ জুনের মধ্যে পাঁচ বছর মেয়াদে প্রকল্পটি বাস্তবায়িত হবে। অর্থ মন্ত্রণালয়ের আর্থিক প্রতিষ্ঠান বিভাগের সার্বিক তত্ত্বাবধানে প্রকল্পটির মূল বাস্তবায়নের দায়িত্বে থাকবে বাংলাদেশ ব্যাংক। এ প্রকল্পের মাধ্যমে দেশের আর্থিক সুরক্ষা জোরদার, প্রযুক্তিনির্ভর আধুনিক ব্যাংকিং ব্যবস্থা সুসংহতকরণ এবং কেন্দ্রীয় ব্যাংকের তদারকি সক্ষমতা ব্যাপক মাত্রায় বৃদ্ধি করা হবে।

প্রকল্পের আওতায় প্রধান কার্যক্রমের মধ্যে রয়েছে—ব্যাংকিং খাতে আইসিটি অবকাঠামো আধুনিকায়ন, ক্রয় সক্ষমতা উন্নয়ন, ডিপোজিট ইন্স্যুরেন্স কার্যক্রমের সক্ষমতা বৃদ্ধি এবং পেমেন্ট নিষ্পত্তির সময়সীমা কমিয়ে আনা। এছাড়া দুর্বল ও সমস্যাগ্রস্ত ব্যাংকের কার্যকর রেজল্যুশন ও পুনর্গঠন বাস্তবায়ন, রাষ্ট্রায়ত্ত ব্যাংকগুলোর করপোরেট সুশাসন প্রতিষ্ঠা এবং আর্থিক স্থিতিশীলতা ট্রাস্ট ফান্ডের (ডিআইটিএফ) সক্ষমতা বাড়ানো এ প্রকল্পের অন্যতম লক্ষ্য।

ঋণের শর্তাবলী:

সহজ শর্তের এই আইডিএ ঋণের উত্তোলিত অর্থের ওপর বার্ষিক ১ দশমিক ৫ শতাংশ হারে সুদ দিতে হবে। এছাড়া অনুত্তোলিত অংশের ওপর সর্বোচ্চ ০ দশমিক ৫ শতাংশ পর্যন্ত কমিটমেন্ট ফি প্রযোজ্য হবে। ৫ বছরের রেয়াতকালসহ (গ্রেস পিরিয়ড) মোট ২৫ বছরে বাংলাদেশ সরকারকে এই ঋণ পরিশোধ করতে হবে।

উল্লেখ্য, স্বাধীনতা-পরবর্তী সময় থেকেই বিশ্বব্যাংক বাংলাদেশের অন্যতম বৃহত্তম বহুপক্ষীয় উন্নয়ন সহযোগী হিসেবে অর্থনৈতিক স্থিতিশীলতা, অবকাঠামো এবং প্রাতিষ্ঠানিক সুশাসন নিশ্চিতে কাজ করে আসছে। ব্যাংকিং খাতের চলমান সংকট নিরসনে এ বড় অঙ্কের অর্থায়ন অত্যন্ত তাৎপর্যপূর্ণ ভূমিকা রাখবে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্ট অর্থনীতিবিদেরা।

( নেত্রকোণার আলো ডট কম’র প্রকাশিত/প্রচারিত কোনো সংবাদ, তথ্য, ছবি, আলোকচিত্র, রেখাচিত্র, ভিডিওচিত্র, অডিও কনটেন্ট কপিরাইট আইনে পূর্বানুমতি ছাড়া ব্যবহার করা যাবে না। )

Comments are closed.




© All rights reserved © 2024 www.netrakon-r-alo.com