সোমবার, ০২ নভেম্বর ২০২৬, ০৫:০৯ অপরাহ্ন

হামলার মুখে ‘সীমাহীন পাল্টা জবাবের’ হুঁশিয়ারি মোজতবা খামেনির

হামলার মুখে ‘সীমাহীন পাল্টা জবাবের’ হুঁশিয়ারি মোজতবা খামেনির

নিউজ ডেস্ক, নেত্রকোণার আলো ডটকম:

যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের সম্ভাব্য নতুন সামরিক হামলার আশঙ্কার মুখে সশস্ত্র বাহিনীকে সর্বোচ্চ সতর্কাবস্থায় থাকার নির্দেশ দিয়েছেন ইরানের সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ মোজতবা খামেনি। দেশ আক্রান্ত হলে কোনো ধরনের ভৌগোলিক সীমারেখা বিবেচনা না করেই তাৎক্ষণিক, কার্যকর ও সর্বাত্মক পাল্টা হামলা চালানোর প্রস্তুতি নিশ্চিত করতে বলেছেন তিনি। শনিবার সামরিক বাহিনীর শীর্ষ কমান্ডারদের সঙ্গে উচ্চপর্যায়ের বৈঠকে তিনি এই কঠোর নির্দেশনা দেন বলে নিশ্চিত করেছে খামেনির কার্যালয়।

কাতারভিত্তিক আন্তর্জাতিক বার্তাসংস্থা আল-জাজিরার এক প্রতিবেদনে বলা হয়, এমন যুদ্ধমুখী পরিস্থিতির মধ্যেও তেহরান ও ওয়াশিংটনের মধ্যে সর্বাত্মক সংঘাত এড়াতে নেপথ্যে মধ্যস্থতাকারীদের জোর কূটনৈতিক তৎপরতা অব্যাহত রয়েছে।

খামেনির কার্যালয় থেকে দেওয়া আনুষ্ঠানিক বিবৃতিতে জানানো হয়, সম্ভাব্য হামলা মোকাবিলায় সশস্ত্র বাহিনীকে সর্বোচ্চ প্রতিরোধক্ষমতা অর্জনের তাগিদ দেওয়া হয়েছে। গত মার্চে পিতা আয়াতুল্লাহ আলী খামেনি নিহত হওয়ার পর সর্বোচ্চ নেতার দায়িত্বভার গ্রহণ করেন মোজতবা খামেনি। দায়িত্ব নেওয়ার পর এটিই তাঁর বড় ধরনের সামরিক নীতিনির্ধারণী বার্তা।

এদিকে মধ্যপ্রাচ্যে নতুন করে যুদ্ধ ছড়িয়ে পড়া ঠেকাতে কাতারের জ্যেষ্ঠ কূটনীতিকেরা তেহরানে পৌঁছে ইরানি কর্মকর্তাদের সঙ্গে দফায় দফায় ম্যারাথন বৈঠক করছেন।

কূটনৈতিক সূত্রে জানা গেছে, এর কয়েক দিন আগে মার্কিন ভাইস প্রেসিডেন্ট জেডি ভ্যান্সের পক্ষ থেকে তেহরানের শীর্ষ নিরাপত্তা কর্মকর্তা মোহসেন রেজাইকে উদ্দেশ্য করে একটি স্পর্শকাতর চিঠি পাঠানো হয়েছে। চিঠিতে আন্তর্জাতিক পরমাণু শক্তি সংস্থাকে (আইএইএ) পারমাণবিক স্থাপনা পরিদর্শনের অনুমতি এবং উচ্চমাত্রার সমৃদ্ধ ইউরেনিয়ামের ভবিষ্যৎ নির্ধারণের বিষয়ে কিছু প্রতিশ্রুতি চাওয়া হয়েছে বলে ধারণা করা হচ্ছে। যদিও সমৃদ্ধ ইউরেনিয়াম দেশের বাইরে পাঠানোর প্রস্তাব শুরু থেকেই নাকচ করে আসছে তেহরান। মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প নতুন শান্তি আলোচনার নির্দেশনার খবর উড়িয়ে দিয়ে দাবি করেছেন, ওই চিঠির মূল লক্ষ্য ইরানে জরুরি চিকিৎসাসামগ্রী প্রবেশের পথ সুগম করা।

ইরানি গণমাধ্যমের তথ্য অনুযায়ী, হরমুজ প্রণালি খুলে দেওয়ার বিনিময়ে গত জুনের সমঝোতা স্মারকে ফিরে যাওয়াই মধ্যস্থতাকারীদের প্রস্তাবের মূল কেন্দ্রবিন্দু। বিপরীতে ইরানের প্রধান দাবিগুলোর মধ্যে রয়েছে—ইরানি বন্দরগুলো থেকে মার্কিন নৌ-অবরোধ প্রত্যাহার, তেল রপ্তানিতে নিষেধাজ্ঞার ছাড় এবং লেবাননসহ আঞ্চলিক অঙ্গনে স্থায়ী যুদ্ধবিরতি কার্যকর করা।

এদিকে ইরানের প্রভাবশালী সংবাদপত্র ‘জমহুরি-এ ইসলামি’ এক সম্পাদকীয়তে সতর্ক করে লিখেছে, ৩ নভেম্বর যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যবর্তী নির্বাচনের পর যেকোনো সময় নতুন করে সংঘাত ছড়িয়ে পড়তে পারে। ফলে ওয়াশিংটনের সঙ্গে মতৈক্যের সম্ভাবনা ক্ষীণ হলেও আলোচনা চালিয়ে যাওয়া জরুরি; কারণ কোনোভাবেই ‘যুদ্ধকে ইরানের অনিবার্য নিয়তি’ হিসেবে মেনে নেওয়া যাবে না।

( নেত্রকোণার আলো ডট কম’র প্রকাশিত/প্রচারিত কোনো সংবাদ, তথ্য, ছবি, আলোকচিত্র, রেখাচিত্র, ভিডিওচিত্র, অডিও কনটেন্ট কপিরাইট আইনে পূর্বানুমতি ছাড়া ব্যবহার করা যাবে না। )

Comments are closed.




© All rights reserved © 2024 www.netrakon-r-alo.com