সোমবার, ০২ নভেম্বর ২০২৬, ০১:৪৭ অপরাহ্ন
নিউজ ডেস্ক, নেত্রকোণার আলো ডটকম:
ভারতের ভোটার তালিকা সংশোধনের নামে বিপুলসংখ্যক নাগরিকের নাম বাদ দেওয়ার প্রতিবাদে এবং প্রধান নির্বাচন কমিশনারের পদত্যাগের একদফা দাবিতে রাজধানী দিল্লিতে এক বিশাল বিক্ষোভ সমাবেশ অনুষ্ঠিত হয়েছে। রবিবার (১ নভেম্বর) প্রধান বিরোধী দল কংগ্রেসের শীর্ষ নেতা ও লোকসভার বিরোধীদলীয় নেতা রাহুল গান্ধীর নেতৃত্বে দিল্লির ঐতিহাসিক রামলীলা ময়দানে হাজার হাজার মানুষ এ কর্মসূচিতে অংশ নেন। প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির নেতৃত্বাধীন কেন্দ্রীয় সরকারের বিরুদ্ধে বিরোধী দলগুলোর এক মাসেরও বেশি সময় ধরে চলা লাগাতার আন্দোলনের অংশ হিসেবে এ সমাবেশের আয়োজন করা হয় বলে জানিয়েছে আন্তর্জাতিক বার্তাসংস্থা রয়টার্স।
বিক্ষোভকারীদের মূল অভিযোগ, ভোটার তালিকা হালনাগাদের আড়ালে উদ্দেশ্যপ্রণোদিতভাবে কোটি কোটি নাম বাদ দিয়ে ক্ষমতাসীন হিন্দুত্ববাদী ভারতীয় জনতা পার্টির (বিজেপি) নির্বাচনী বৈতরণী পার হওয়ার ছক আঁকা হয়েছে। এই বিতর্কিত প্রক্রিয়ার প্রতিবাদ জানিয়ে বিক্ষোভকারীরা ভারতের প্রধান নির্বাচন কমিশনার জ্ঞানেশ কুমারের অবিলম্বে পদত্যাগের দাবি তোলেন।
রামলীলা ময়দানে সমবেত জনতার উদ্দেশে দেওয়া বক্তব্যে রাহুল গান্ধী বলেন, ভোটার তালিকা থেকে অন্যায়ভাবে নাম কেটে দেওয়া কেবল কোনো প্রযুক্তিগত ত্রুটি নয়; এটি ভারতের প্রতিটি নাগরিকের সাংবিধানিক ভোটাধিকার এবং মতপ্রকাশের মৌলিক অধিকার ছিনিয়ে নেওয়ার শামিল। গণতন্ত্রের স্বার্থেই নির্বাচন কমিশন প্রধানকে দায়িত্ব ছাড়তে হবে। দেশকে সঠিক ও গণতান্ত্রিক পথে ফিরিয়ে আনার প্রথম পদক্ষেপই হবে তাঁর অপসারণ।
ভারতীয় সংবাদমাধ্যমের বিভিন্ন প্রতিবেদনের তথ্যানুযায়ী, সাম্প্রতিক ভোটার তালিকা সংশোধনে প্রায় ১৩ কোটির বেশি ভোটারের নাম তালিকা থেকে বাদ পড়েছে—যা আয়তন ও সংখ্যার বিচারে জাপানের মোট জনসংখ্যার চেয়েও বেশি। বিরোধী দলগুলোর অভিযোগ, যেসব নাম বাদ দেওয়া হয়েছে তাদের সিংহভাগই মুসলিম এবং অন্যান্য সংখ্যালঘু ও প্রান্তিক জনগোষ্ঠীর নাগরিক।
তবে বিরোধীদের এই অভিযোগ সম্পূর্ণ অস্বীকার করেছে দেশটির নির্বাচন কমিশন (ইসি)। নির্বাচন কমিশনের দাবি, তালিকায় থাকা ভুয়া, দ্বৈত এবং মৃত বা অযোগ্য ভোটারদের তথ্য বাদ দিয়ে একটি স্বচ্ছ ও নির্ভুল তালিকা তৈরির লক্ষ্যেই এ উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। অসাবধানতাবশত যদি কোনো বৈধ ভোটারের নাম বাদ পড়ে থাকে, তবে তারা নিয়ম অনুযায়ী পুনরায় নিবন্ধনের সুযোগ পাবেন। শাসক দল বিজেপিও বিরোধীদের আক্রমণকে প্রত্যাখ্যান করে বলেছে, একটি বৈধ ও সাংবিধানিক প্রশাসনিক প্রক্রিয়াকে বিতর্কিত করে বিরোধীরা দেশের গণতান্ত্রিক কাঠামোকে ইচ্ছাকৃতভাবে দুর্বল করার অপচেষ্টা চালাচ্ছে।
এ বিক্ষোভকে কেন্দ্র করে রাজধানীজুড়ে কড়া নিরাপত্তাব্যবস্থা গ্রহণ করে দিল্লি পুলিশ। রামলীলা ময়দান ও আশপাশের সংবেদনশীল পয়েন্টগুলোতে শত শত নিরাপত্তাকর্মী মোতায়েন ছাড়াও যান চলাচলে কঠোর নিয়ন্ত্রণ আরোপ করা হয়।
অন্যদিকে, এই বিক্ষোভের তীব্র সমালোচনা করেছেন ভারতের কেন্দ্রীয় স্বাস্থ্যমন্ত্রী জগৎ প্রকাশ নাড্ডা। তিনি একে বিরোধীদের ‘পরিকল্পিত নাটক’ বলে অভিহিত করে অভিযোগ করেন, গণতন্ত্র রক্ষার নামে বিরোধী শক্তিগুলো দেশে নৈরাজ্য ও বিশৃঙ্খলা তৈরির গভীর ষড়যন্ত্রে লিপ্ত হয়েছে।
উল্লেখ্য, গত সেপ্টেম্বরের শেষ দিক থেকেই বিতর্কিত এই ভোটার তালিকা সংশোধনের বিরুদ্ধে বিরোধী জোট, শিক্ষার্থী সংগঠন এবং বিভিন্ন নাগরিক অধিকার রক্ষা মঞ্চ ধারাবাহিক প্রতিবাদ কর্মসূচি পালন করে আসছে। বিশেষ করে দ্য ইন্ডিয়ান এক্সপ্রেস-এর এক অনুসন্ধানী প্রতিবেদনে নির্বাচন কমিশনের অভ্যন্তরীণ ত্রুটি, সফটওয়্যার জালিয়াতি এবং দুই উপপ্রধানের গুরুতর আপত্তির তথ্য ফাঁস হওয়ার পর থেকেই এ আন্দোলন জাতীয় স্তরে তীব্র রূপ নেয়।