সোমবার, ০২ নভেম্বর ২০২৬, ০১:৪৩ অপরাহ্ন
নিউজ ডেস্ক, নেত্রকোণার আলো ডটকম:
ইসরায়েলের দীর্ঘদিনের প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহুকে ক্ষমতাচ্যুত করতে বিরোধী জোটের মধ্যকার সরকার গঠনের আলোচনা তীব্র আকার ধারণ করেছে। এর অংশ হিসেবে দেশটির পরবর্তী প্রধানমন্ত্রী হিসেবে সাবেক সেনাপ্রধান ও ইয়াশার পার্টির নেতা গাদি আইজেনকটকে প্রকাশ্যে সমর্থন দেওয়ার ঘোষণা দিয়েছেন বিরোধী জোটের দুই শীর্ষ নেতা নাফতালি বেনেট এবং ইয়ার গোলান।
রবিবার (১ নভেম্বর) দিনভর রাজনৈতিক তৎপরতা ও দফায় দফায় দর-কষাকষির পর সোমবার (২ নভেম্বর) দ্য টাইমস অব ইসরায়েলের এক বিশেষ প্রতিবেদনে এ চাঞ্চল্যকর তথ্য উঠে এসেছে।
প্রতিবেদনে জানানো হয়, নেতানিয়াহুবিরোধী চারটি জায়নবাদী দলের সমন্বয়ে গঠিত জোট ‘চেঞ্জ ব্লক’ নতুন সরকার গঠনের সম্ভাব্য রূপরেখা নিয়ে জোর আলোচনা চালাচ্ছে। নির্বাচনে আইজেনকটের ইয়াশার পার্টি ২১টি আসন লাভ করে জোটের মধ্যে শীর্ষে অবস্থান করছে। অন্যদিকে সাবেক প্রধানমন্ত্রী নাফতালি বেনেটের বি’ইয়াচাদ পার্টি ১২টি এবং ইয়ার গোলানের নেতৃত্বাধীন ডেমোক্র্যাটস পার্টি ৮টি আসন পেয়েছে। নির্বাচনী প্রতিশ্রুতির অংশ হিসেবে জনগণের রায়কে সম্মান জানিয়ে বেনেট এবং গোলান দুজনই আইজেনকটকে প্রধানমন্ত্রী মনোনীত করার পক্ষে নিজেদের অবস্থান স্পষ্ট করেছেন।
তবে সরকার গঠনের জন্য প্রয়োজনীয় সাধারণ সংখ্যাগরিষ্ঠতা (৬১ আসন) অর্জন করতে বিরোধী জোটকে কঠিন সমীকরণের মুখে পড়তে হচ্ছে। জোটের চতুর্থ দল ইসরায়েল বেইতেনুর নেতা আভিগদর লিবারম্যানের সঙ্গে আইজেনকটের আলোচনা হলেও আরব নেতৃত্বাধীন দলগুলোর সমর্থনে সংখ্যালঘু সরকার গঠনের বিষয়ে তাদের মধ্যে মতানৈক্য দেখা দিয়েছে। লিবারম্যানের দাবি, আরব দলগুলোর সঙ্গে সমঝোতার বার্তা প্রচারে বিরোধীদের রাজনৈতিক ক্ষতি হয়েছে।
এদিকে নতুন সরকার গঠনের পাশাপাশি বিরোধী জোটের তাৎক্ষণিক কৌশলগত লক্ষ্য হয়ে দাঁড়িয়েছে নেসেটের (ইসরায়েলি পার্লামেন্ট) বর্তমান স্পিকার আমির ওহানাকে অপসারণ করা। তিনি নেতানিয়াহুর দল লিকুদের সদস্য। পার্লামেন্টের কার্যপ্রণালীর ওপর নিয়ন্ত্রণ প্রতিষ্ঠা এবং বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ সংস্কার বিল পাসের পথ সুগম করতে বিরোধীরা স্পিকার পরিবর্তন করতে চায়।
নেতানিয়াহুর ঘনিষ্ঠ মহল থেকে হুঁশিয়ারি দেওয়া হয়েছে, স্পিকার ওহানাকে সরানোর প্রক্রিয়া অব্যাহত থাকলে লিকুদ পার্টির সঙ্গে কোনো ধরনের জাতীয় ঐক্যের আলোচনা হবে না। তবে আইজেনকটের দল স্পষ্ট জানিয়ে দিয়েছে, স্পিকার অপসারণের পরিকল্পনা থেকে তারা পিছু হটবে না এবং নেতানিয়াহুর সঙ্গে নতুন কোনো সরকারে যাওয়ার প্রশ্নই ওঠে না।
এছাড়াও গত জুনে নেতানিয়াহুর ব্যক্তিগত আইনজীবী মাইকেল রাবেলোকে বিতর্কিত প্রক্রিয়ায় রাষ্ট্রীয় নিয়ন্ত্রক নিয়োগ দেওয়ার বিষয়টি সুপ্রিম কোর্টের আদেশে স্থগিত হওয়ায় সেখানে পুনরায় নির্বাচনের উদ্যোগ নিতে যাচ্ছে বিরোধীরা। সব মিলিয়ে, আরব দল কিংবা অতি-অর্থোডক্স ইহুদি দলগুলোকে জোটে টানার মতবিরোধ নিষ্পত্তি করে শেষ পর্যন্ত আইজেনকটের নেতৃত্বে নেতানিয়াহুকে বিদায় করা সম্ভব হবে কি না, তা নিয়ে দেশটির রাজনীতিতে চরম নাটকীয়তা বিরাজ করছে।