সোমবার, ০২ নভেম্বর ২০২৬, ০২:৩৫ অপরাহ্ন
নিউজ ডেস্ক, নেত্রকোণার আলো ডটকম:
ইয়েমেনে হুথি বিদ্রোহীদের বিরুদ্ধে সর্বাত্মক সামরিক অভিযান আরও জোরদার করেছে সৌদি আরব সমর্থিত সরকারি বাহিনী। হুথিদের নিয়ন্ত্রণে থাকা এলাকা ও রাজধানী সানা পুনরুদ্ধারে চলমান ‘ডন অব ইয়েমেন’ অভিযানের আওতায় গত ২৪ ঘণ্টায় ১ হাজার ২৭২টি বিমান ও বহুমুখী সামরিক হামলা চালানো হয়েছে। এসব তীব্র হামলায় অন্তত ৫০০ হুথি যোদ্ধা ও ফিল্ড কমান্ডার হতাহত হয়েছেন বলে দাবি করেছে ইয়েমেনের আন্তর্জাতিকভাবে স্বীকৃত সরকার।
রবিবার (১ নভেম্বর) ইয়েমেনের সশস্ত্র বাহিনীর মুখপাত্র মাজেদ আল-নুজাইলি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্স-এ (সাবেক টুইটার) দেওয়া এক বার্তায় এ তথ্য নিশ্চিত করেন।
আল-নুজাইলি জানান, হুথিদের সামরিক সক্ষমতা গুঁড়িয়ে দিতে বিভিন্ন রণাঙ্গনে তাদের অবস্থান, প্রতিরক্ষা ব্যূহ, পর্যবেক্ষণ চৌকি, আর্টিলারি ঘাঁটি, অস্ত্রাগার ও রসদ সরবরাহ নেটওয়ার্ক লক্ষ্য করে নিখুঁত এসব হামলা চালানো হয়। প্রাথমিক তথ্য অনুযায়ী, অভিযানে ৫০০-এর বেশি হুথি যোদ্ধা ও কমান্ডার হতাহত হওয়ার পাশাপাশি তাদের ১৬৯টি সামরিক যান, ভারি অস্ত্র ও সামরিক সরঞ্জাম ধ্বংস করা হয়েছে। তবে হামলায় সুনির্দিষ্টভাবে কতজন নিহত বা কতজন আহত হয়েছেন, সে বিষয়ে বিস্তারিত কিছু জানানো হয়নি।
মুখপাত্র আরও জানান, উত্তর ইয়েমেনের আল-জাওফ ফ্রন্টে সরকারি বাহিনীর স্থল অভিযানের অগ্রযাত্রা নিশ্চিত করতে এবং হারানো ঘাঁটিগুলো পুনর্দখলের অংশ হিসেবে এই আকাশ ও স্থল অভিযান সমন্বিতভাবে পরিচালনা করা হচ্ছে। এছাড়া মারিব, আল-বাইদা ও তাইজ প্রদেশেও সরকারি বাহিনীর তীব্র আক্রমণ অব্যাহত রয়েছে।
তাইজে সেনাবাহিনীর পাশাপাশি তাদের মিত্র পপুলার রেজিস্ট্যান্সের যোদ্ধারা যুদ্ধবিমান, সামরিক ড্রোন ও কামানের সহায়তায় হুথিদের প্রতিরোধে লড়াই চালিয়ে যাচ্ছেন। সরকারি বাহিনী দাবি করেছে, এসব অভিযানে বেসামরিক নাগরিক ও স্থাপনা সুরক্ষায় সর্বোচ্চ সতর্কতা বজায় রাখা হচ্ছে। তবে সংঘাতের মধ্যে বেসামরিক হতাহতের ঘটনাও ঘটেছে। ইয়েমেনের স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের বরাতে জানা যায়, পশ্চিম তাইজে হুথিদের একটি ড্রোন হামলায় এক নারী ও এক শিশু নিহত এবং অপর এক নারী আহত হয়েছেন।
এদিকে আল-জাওফ প্রদেশে সরকারি বাহিনী কৌশলগতভাবে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ ‘হওয়াশিয়ান’ পর্বতমালা নিজেদের নিয়ন্ত্রণে নেওয়ার দাবি করেছে। এই পর্বতমালাটিকে হুথি নিয়ন্ত্রিত প্রাদেশিক রাজধানী আল-হাজমের মূল প্রবেশদ্বার ও প্রধান রক্ষণাত্মক রেখা হিসেবে বিবেচনা করা হতো।
উল্লেখ্য, সৌদি আরব সমর্থিত সরকারি বাহিনী গত ৫ অক্টোবর থেকে রাষ্ট্রীয় প্রতিষ্ঠানসমূহ ও রাজধানী সানার নিয়ন্ত্রণ ফিরে পেতে ‘ডন অব ইয়েমেন’ শীর্ষক বড় ধরনের সামরিক অভিযান শুরু করে। জাতিসংঘের এক পরিসংখ্যান অনুযায়ী, গত জুলাই মাস থেকে সংঘাত নতুন করে তীব্র রূপ নেওয়ার পর থেকে হাজার হাজার মানুষ হতাহত হয়েছেন এবং আড়াই লাখেরও বেশি মানুষ ঘরবাড়ি ছেড়ে বাস্তুচ্যুত হয়েছেন। এর ফলে ২০২২ সালের এপ্রিল থেকে বজায় থাকা দীর্ঘদিনের যুদ্ধবিরতি ও শান্তিপ্রক্রিয়া পুরোপুরি ভেস্তে গিয়ে দেশটি আবারও সর্বাত্মক গৃহযুদ্ধের মুখে পড়েছে।