রবিবার, ১০ মে ২০২৬, ১০:২৭ পূর্বাহ্ন
অনলাইন ডেস্ক, নেত্রকোণার আলো ডটকম:
জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) আহ্বায়ক নাহিদ ইসলাম বলেছেন, ‘বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলন আগের অবস্থানে নেই। সেখান থেকে একটি ছাত্রসংগঠন ও রাজনৈতিক দল তৈরি হয়েছে। বর্তমানে বৈষম্যবিরোধী বা সমন্বয়ক পরিচয়টি আর অস্তিত্ব রাখে না। আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর প্রতি আমাদের অনুরোধ, কেউ যদি এই পরিচয় ব্যবহার করে কোনো অপকর্মে লিপ্ত হয়, তাহলে তার বিরুদ্ধে আইন অনুযায়ী ব্যবস্থা নেওয়া হোক।’
শুক্রবার বিকেলে রাজধানীর রূপায়ন টাওয়ারে জাতীয় নাগরিক কমিটির কার্যালয়ে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে তিনি এসব কথা বলেন।
আগামী নির্বাচনে ৩০০ আসনে প্রার্থী দেওয়ার বিষয়ে জানতে চাইলে এনসিপি আহ্বায়ক বলেন, ‘দল আত্মপ্রকাশের পর আমরা এখন নিবন্ধনের শর্তাবলির প্রতি গুরুত্ব দিচ্ছি এবং সাংগঠনিক বিস্তারে মনোযোগী হয়েছি। রোজার পর এসব কার্যক্রম আরও জোরদার হবে। এরপর আমরা নির্বাচনের বিষয়ে সিদ্ধান্ত নেব।’
নাহিদ ইসলাম বলেন, ‘জাতীয় নির্বাচনের পাশাপাশি আমরা গণপরিষদ নির্বাচন দেখতে চাই। তবে এ মুহূর্তে নির্বাচনই আমাদের একমাত্র দাবি নয়। আমরা দৃশ্যমান বিচার চাই এবং রাজনৈতিক ঐক্যের ভিত্তিতে “জুলাই সনদ” বাস্তবায়ন দেখতে চাই। যেখানে সব রাজনৈতিক দলের স্বাক্ষর থাকবে, জনগণ বুঝতে পারবে কোন দল কোন সংস্কারের পক্ষে বা বিপক্ষে রয়েছে।’
রয়টার্সকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকার প্রসঙ্গে তিনি বলেন, ‘আমি কখনো বলিনি যে ডিসেম্বরের মধ্যে নির্বাচন সম্ভব নয়। আমি বলেছি, বর্তমান পরিস্থিতিতে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর নাজুক অবস্থার কারণে নির্বাচন সুষ্ঠুভাবে পরিচালনা করা কঠিন হতে পারে। তবে আমরা নির্বাচনের জন্য মানসিকভাবে প্রস্তুত।’
তিনি আরও বলেন, ‘রয়টার্সের ইন্টারভিউতে কিছু তথ্য ভুলভাবে উপস্থাপিত হয়েছে। আমি বলেছিলাম, সমাজের সচ্ছল মানুষ ও শুভাকাঙ্ক্ষীদের সহযোগিতায় আমরা ক্রাউড ফান্ডিংয়ের দিকে যাচ্ছি—অনলাইন ও অফলাইনে এই কার্যক্রম চালানো হবে। এর মাধ্যমে দলীয় কার্যালয় স্থাপনসহ নির্বাচন তহবিল সংগ্রহ করা হবে। বিভিন্ন গণমাধ্যমে এ নিয়ে ভুল তথ্য এসেছে, যা সংশোধনের অনুরোধ জানাচ্ছি।’
জাতীয় নাগরিক পার্টির প্রথম সভায় দেশের বিভিন্ন স্থানে ঘটে যাওয়া নারী নির্যাতনের ঘটনার প্রতি উদ্বেগ প্রকাশ করা হয়। নাহিদ ইসলাম বলেন, ‘ধর্ষণ, ইভটিজিংসহ নারীদের বিরুদ্ধে সহিংসতার ঘটনাগুলো আমাদের দৃষ্টিতে এসেছে। আমরা এর তীব্র নিন্দা জানাই। অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের প্রতি আহ্বান, জনপরিসরে নারীর নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে কঠোর ব্যবস্থা নিতে হবে এবং দোষীদের দ্রুত বিচারের আওতায় আনতে হবে।’