সোমবার, ১৮ মে ২০২৬, ০৭:৫৩ অপরাহ্ন
নিউজ ডেস্ক, নেত্রকোণার আলো ডটকম:
তেহরানের সঙ্গে ওয়াশিংটনের শান্তি আলোচনা স্থবির হয়ে পড়ার পর, ইরানের বিরুদ্ধে আবারও কঠোর ও সহিংস হুঁশিয়ারি উচ্চারণ করেছেন যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। কাতারভিত্তিক সংবাদমাধ্যম আল-জাজিরার এক প্রতিবেদনে এই তথ্য জানানো হয়েছে।
রোববার (১৭ মে) সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ‘ট্রুথ সোশ্যাল’-এ দেওয়া এক সংক্ষিপ্ত পোস্টে ট্রাম্প সতর্ক করে বলেন, “ইরানের জন্য ঘড়ির কাঁটা টিকটিক করে চলছে। তাদের দ্রুত পদক্ষেপ নেওয়া উচিত, খুব দ্রুত, অন্যথায় তাদের আর কিছুই অবশিষ্ট থাকবে না। সময় খুব মূল্যবান!” এর মাত্র একদিন আগেই ট্রাম্প এআই (কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা) দিয়ে তৈরি একটি যুদ্ধজাহাজের সঙ্গে নিজের ছবি পোস্ট করে ক্যাপশনে লিখেছিলেন— “এটি ছিল ঝড়ের আগের শান্তাবস্থা।”
বিশ্লেষকদের মতে, লক্ষ্য অর্জনে মার্কিন প্রশাসন যখন কূটনৈতিক টেবিলে হিমশিম খাচ্ছে, তখন প্রতিপক্ষকে মনস্তাত্ত্বিক চাপে রাখতেই ট্রাম্প এই আক্রমণাত্মক কৌশল বেছে নিয়েছেন। গত ২৮ ফেব্রুয়ারি ইসরায়েল ও যুক্তরাষ্ট্রের যৌথ বিমান হামলার মাধ্যমে শুরু হওয়া এই সংঘাতে ট্রাম্পের মূল লক্ষ্য— ইরানের ক্ষেপণাস্ত্র ভাণ্ডার ধ্বংস করা, আঞ্চলিক মিত্রদের সঙ্গে দেশটির সম্পর্ক ছিন্ন করা এবং পারমাণবিক কর্মসূচি বন্ধ করা। এর আগে গত ৭ এপ্রিলও ট্রাম্প ইরানকে সম্পূর্ণ ধ্বংসের ইঙ্গিত দিয়ে পোস্ট করেছিলেন, যা নিয়ে আন্তর্জাতিক অঙ্গনে তীব্র সমালোচনা হয়।
এদিকে মার্কিন প্রেসিডেন্টের এই হুঁশিয়ারিকে সরাসরি প্রত্যাখ্যান করেছে তেহরান। ইরানের সংবাদ সংস্থা ‘মেহের’ জানিয়েছে, ওয়াশিংটন আলোচনার টেবিলে কোনো বাস্তবসম্মত ছাড় না দিয়ে, যুদ্ধের মাঠের অধরা সাফল্য কূটনীতির মাধ্যমে আদায় করতে চাইছে— যা কখনোই সফল হবে না। রোববার ইরানের সশস্ত্র বাহিনীর মুখপাত্র কড়া হুঁশিয়ারি দিয়ে বলেন, “আমেরিকার অপমান পুষিয়ে নিতে যেকোনো ধরনের বোকামির পুনরাবৃত্তি করলে, তারা আরও বেশি বিধ্বংসী ও মারাত্মক পাল্টা আঘাত পাবে।”
আল-জাজিরার তেহরান সংবাদদাতাদের মতে, কূটনৈতিক আলোচনার সুযোগ দিন দিন সংকুচিত হয়ে আসছে এবং উভয় পক্ষই এখন ‘ট্রিগারে আঙুল দিয়ে’ যুদ্ধের জন্য প্রস্তুত। তবে পররাষ্ট্রনীতি বিশ্লেষক অ্যাডাম ক্লিমেন্টস মনে করেন, এই চটকদার বক্তব্যের পেছনে মার্কিন অভ্যন্তরীণ রাজনীতির উদ্দেশ্য এবং ভোটারদের নজর কাড়ার চেষ্টা থাকতে পারে।