বৃহস্পতিবার, ০৫ নভেম্বর ২০২৬, ০৯:৪৮ অপরাহ্ন
নিউজ ডেস্ক, নেত্রকোণার আলো ডটকম:
দেশজুড়ে মশাবাহিত রোগ ডেঙ্গু ও সংক্রামক ব্যাধি হামের মারাত্মক প্রকোপ অব্যাহত রয়েছে। গত ২৪ ঘণ্টায় ডেঙ্গুতে আক্রান্ত হয়ে আরও সাতজনের মৃত্যু হয়েছে। একই সময়ে হাম এবং হামের উপসর্গ নিয়ে প্রাণ হারিয়েছে আরও তিন নিষ্পাপ শিশু। এ নিয়ে চলতি বছর ডেঙ্গুতে মোট ৪৫২ জন এবং হাম ও এর উপসর্গে মোট ১ হাজার ২৭২ জনের মৃত্যু হলো।
বৃহস্পতিবার (৫ নভেম্বর) স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের পৃথক নিয়মিত সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এ উদ্বেগজনক তথ্য জানানো হয়েছে।
স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের ডেঙ্গুবিষয়ক তথ্য অনুযায়ী, গত ২৪ ঘণ্টায় নতুন করে ডেঙ্গু আক্রান্ত হয়ে সারা দেশের বিভিন্ন হাসপাতালে ভর্তি হয়েছেন ১ হাজার ৫৯৬ জন রোগী। এ নিয়ে চলতি বছর ডেঙ্গুতে আক্রান্ত হয়ে হাসপাতালে ভর্তি হওয়া মোট রোগীর সংখ্যা বেড়ে দাঁড়িয়েছে ১ লাখ ৪৪ হাজার ৩৭৪ জনে। তবে আক্রান্তদের মধ্যে এ পর্যন্ত চিকিৎসা শেষে সুস্থ হয়ে বাড়ি ফিরেছেন ১ লাখ ৩৮ হাজার ৮০ জন।
চলতি বছর ডেঙ্গুতে মারা যাওয়া ৪৫২ জনের মাসভিত্তিক পরিসংখ্যানে দেখা গেছে, সবচেয়ে বেশি ১৮১ জনের মৃত্যু হয়েছে সদ্য সমাপ্ত অক্টোবর মাসে। এছাড়া সেপ্টেম্বরে ১৪৮ জন, আগস্টে ৪৩ জন, জুলাইয়ে ৩৬ জন, জুনে ১৩ জন, মে মাসে একজন এবং জানুয়ারি ও ফেব্রুয়ারিতে দুজন করে মারা যান।
অন্যদিকে, শিশুদের মধ্যে হামের সংক্রমণ পরিস্থিতিও অত্যন্ত ঝুঁকিপূর্ণ রূপ নিয়েছে। গত ২৪ ঘণ্টায় হাম ও হামের উপসর্গ নিয়ে আরও তিন শিশুর মৃত্যু হয়েছে। এ নিয়ে চলতি বছরে ল্যাব পরীক্ষায় নিশ্চিত হওয়া হামে ১০৫ জন এবং হামের উপসর্গ নিয়ে ১ হাজার ১৬৭ জনের মৃত্যু হলো। সব মিলিয়ে রোগটিতে মৃতের সংখ্যা দাঁড়িয়েছে ১ হাজার ২৭২ জনে।
স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের হামবিষয়ক প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়, গত ২৪ ঘণ্টায় দেশে সন্দেহজনক ও নিশ্চিত হাম আক্রান্ত রোগী শনাক্ত হয়েছে ১ হাজার ৩৯৬ জন। এর মধ্যে এককভাবে ঢাকা বিভাগেই শনাক্ত হয়েছেন সর্বোচ্চ ৫২৭ জন। গত ২৪ ঘণ্টায় মারা যাওয়া তিন শিশুর মধ্যে ঢাকা বিভাগে একজন এবং চট্টগ্রাম বিভাগে দুজনের মৃত্যু হয়েছে।
এছাড়া গত ২৪ ঘণ্টায় নতুন করে হাম নিয়ে দেশের বিভিন্ন হাসপাতালে ভর্তি হয়েছেন ১ হাজার ২২০ জন। একই সময়ে সুস্থ হয়ে হাসপাতাল থেকে ছাড়পত্র পেয়েছেন ১ হাজার ২৫৯ জন। স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের হিসাবে, গত ১৫ মার্চ থেকে এ পর্যন্ত হাম ও এর উপসর্গে হাসপাতালে চিকিৎসা নেওয়া রোগীদের মধ্যে মোট ২ লাখ ১ হাজার ১৫৩ জন সুস্থ হয়ে স্বাভাবিক জীবনে ফিরেছেন।