মঙ্গলবার, ২১ এপ্রিল ২০২৬, ০১:২৫ অপরাহ্ন
নিউজ ডেস্ক, নেত্রকোণার আলো ডটকম:
ঢাকা: আন্তর্জাতিক মুদ্রা তহবিলের (আইএমএফ) ঋণের পরবর্তী কিস্তি পাওয়া নিয়ে তৈরি হয়েছে চরম অনিশ্চয়তা। সংস্থাটির দেওয়া কাঠামোগত সংস্কারের শর্তগুলো বাস্তবায়নে সন্তোষজনক অগ্রগতি না হওয়ায় ১.৩ বিলিয়ন (১৩০ কোটি) ডলারের এই অর্থছাড় বিলম্বিত হতে পারে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে।
শর্ত পালনে পিছিয়ে বাংলাদেশ
আইএমএফের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, রাজস্ব আহরণ বৃদ্ধি, ব্যাংকিং খাতের সুশাসন নিশ্চিত করা এবং বাজারভিত্তিক বিনিময় হার চালুর মতো গুরুত্বপূর্ণ শর্তগুলো এখনো পূরণ হয়নি। বিশেষ করে দেশের কর-জিডিপি অনুপাত ৭-৮ শতাংশের মধ্যে সীমাবদ্ধ থাকা এবং খেলাপি ঋণের উচ্চহার নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করেছে সংস্থাটি। এই অবস্থায় আইএমএফ বর্তমান চুক্তির পরিস্থিতি পর্যালোচনা (রিভিউ) না করে কিস্তি ছাড় করতে আগ্রহী নয়। প্রয়োজনে তারা অতিরিক্ত শর্তসহ নতুন ঋণ কর্মসূচির প্রস্তাব দিয়েছে।
জ্বালানি ও বিদ্যুতের দাম বৃদ্ধিতে প্রভাব
ওয়াশিংটনে আইএমএফ ও বিশ্বব্যাংকের বসন্তকালীন বৈঠক থেকে অর্থমন্ত্রী ফেরার পরপরই রেকর্ড পরিমাণ বাড়ানো হয়েছে জ্বালানি তেল ও গ্যাসের দাম। যদিও সরকারের পক্ষ থেকে বলা হচ্ছে এটি বৈশ্বিক কারণে করা হয়েছে, তবে অর্থনীতিবিদরা একে আইএমএফের ভর্তুকি প্রত্যাহারের শর্ত পালনের অংশ হিসেবেই দেখছেন। এর ফলে পরিবহন ভাড়া ও পণ্যমূল্য বেড়ে সাধারণ মানুষের ওপর চাপ বাড়ছে।
ঋণ চুক্তির প্রেক্ষাপট
২০২৩ সালে ৪৭০ কোটি ডলারের ঋণচুক্তি দিয়ে শুরু হলেও পরবর্তী সময়ে অন্তর্বর্তী সরকারের আমলে ঋণের পরিমাণ বাড়িয়ে ৫৫০ কোটি ডলার করা হয়। এ পর্যন্ত ৩৬৪ কোটি ডলার ছাড় করা হলেও বকেয়া কিস্তিগুলো নিয়ে এখন টানাপোড়েন চলছে।
বিশ্বব্যাংকের সাবেক প্রধান অর্থনীতিবিদ ড. জাহিদ হোসেন বলেন, শর্ত পরিপালন করতে না পারলে আইএমএফ যেকোনো সময় সহায়তা থেকে সরে দাঁড়াতে পারে। তাই বাজেট সহায়তা নিশ্চিত করতে সরকারকে কাঠামোগত সংস্কারে আরও কঠোর হতে হবে।