বৃহস্পতিবার, ১৪ মে ২০২৬, ০৫:০৭ অপরাহ্ন
নিউজ ডেস্ক, নেত্রকোণার আলো ডটকম:
কোরবানি কেবল একটি ইবাদত নয়, এর সঙ্গে মিশে আছে আত্মত্যাগের মহান ইতিহাস। প্রতি বছর ঈদুল আজহার সময় একটি সাধারণ প্রশ্ন অনেকের মনেই জাগে—কোরবানির মাংস কি তিন দিনের বেশি সংরক্ষণ করা যায়? ইসলামি শরিয়াহ ও নির্ভরযোগ্য হাদিসের আলোকে এর উত্তর অত্যন্ত পরিষ্কার।
সংরক্ষণ নিয়ে ভ্রান্তি ও হাদিসের ব্যাখ্যা:
মদিনার প্রাথমিক যুগে অভাব ও দুর্ভিক্ষ চলায় রাসুলুল্লাহ (সা.) সাহাবিদের তিন দিনের বেশি মাংস জমিয়ে রাখতে নিষেধ করেছিলেন, যাতে অভাবীরা সহজে মাংস পায়। তবে পরবর্তী সময়ে অভাব দূর হলে তিনি নিজেই সেই নিষেধাজ্ঞা তুলে নেন। সহিহ মুসলিমের (হাদিস: ১,৯৭১) বর্ণনা অনুযায়ী, নবীজি (সা.) বলেছেন, “আমি আগে তোমাদের মাংস খেতে ও দান করতে বলেছিলাম (সংরক্ষণ নয়), কারণ তখন দরিদ্ররা এসেছিল। এখন তোমরা খেতে পারো, সংরক্ষণ করতে পারো এবং দান করতে পারো।
কার ওপর কোরবানি ওয়াজিব?
সুস্থ মস্তিষ্কসম্পন্ন প্রত্যেক প্রাপ্তবয়স্ক মুসলিম, যিনি ১০ জিলহজ সুবহে সাদিক থেকে ১২ জিলহজ সূর্যাস্ত পর্যন্ত সময়ের মধ্যে নেসাব পরিমাণ (সাড়ে ৭ ভরি স্বর্ণ বা সাড়ে ৫২ ভরি রুপার সমমূল্য) সম্পদের মালিক হবেন, তার ওপর কোরবানি করা ওয়াজিব।
সঠিক সংরক্ষণের ৪টি গুরুত্বপূর্ণ পরামর্শ:
১. নিয়তের বিশুদ্ধতা: মাংস সংরক্ষণের মূল উদ্দেশ্য যেন হয় পরিবারের প্রয়োজন মেটানো, নিছক বিলাসিতা বা অপচয় নয়।
২. স্বাস্থ্যবিধি: মাংস পরিষ্কার করে সঠিক তাপমাত্রায় ফ্রিজারে রাখতে হবে।
৩. দানের অগ্রাধিকার: নিজের জন্য সংরক্ষণের আগেই অভাবীদের অংশ বণ্টন করা কোরবানির অন্যতম মূল উদ্দেশ্য।
৪. অপচয় রোধ: ইসলাম অপচয় সমর্থন করে না। তাই ততটুকুই সংরক্ষণ করুন যা নষ্ট হবে না।
ইসলামি স্কলারদের মতে, বর্তমানে আধুনিক ফ্রিজিং ব্যবস্থায় মাংস দীর্ঘদিন নিরাপদ রাখা শরিয়তসম্মত ও বৈধ।