শনিবার, ১৬ মে ২০২৬, ১২:৫২ পূর্বাহ্ন
নিউজ ডেস্ক, নেত্রকোণার আলো ডটকম:
দীর্ঘ দুই দশক পর ক্ষমতায় ফেরা বিএনপি সরকারের প্রথম বাজেট হতে যাচ্ছে এক কঠিন পরীক্ষা। উচ্চ মূল্যস্ফীতি, বৈদেশিক মুদ্রার সংকট আর আইএমএফের শর্তের চাপে ২০ blank অর্থবছরের বাজেট নিয়ে যেমন বড় প্রত্যাশা রয়েছে, তেমনি আছে ঝুঁকিও। এমন পরিস্থিতিতে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান স্পষ্ট নির্দেশ দিয়েছেন, নতুন বাজেটে কোনোভাবেই নিম্ন ও মধ্যবিত্তের ওপর করের বোঝা চাপানো যাবে না।
বৃহস্পতিবার (১৪ মে) সচিবালয়ে জাতীয় রাজস্ব বোর্ডের (এনবিআর) ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের সাথে এক ম্যারাথন বৈঠকে প্রধানমন্ত্রী প্রতিটি কর প্রস্তাব পুঙ্খানুপুঙ্খভাবে পর্যালোচনা করেন। বৈঠকে অর্থমন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরীসহ শীর্ষ কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।
নিত্যপণ্যে কর বাড়ছে না
রাজস্ব বাড়াতে এনবিআর ধান, চাল, ভোজ্যতেল ও চিনিসহ নিত্যপণ্যের সরবরাহ পর্যায়ে উৎসে কর দ্বিগুণ করার প্রস্তাব দিলেও প্রধানমন্ত্রী তা নাকচ করে দিয়েছেন। শীর্ষ পর্যায়ের অনীহার কারণে নিত্যপণ্যে কর বৃদ্ধির সিদ্ধান্ত আপাতত স্থগিত থাকছে।
মধ্যবিত্তের জন্য বড় স্বস্তি
বাজেটে ব্যক্তিশ্রেণির করমুক্ত আয়সীমা সাড়ে ৩ লাখ টাকা থেকে বাড়িয়ে ৪ লাখ টাকা করার নীতিগত অনুমোদন দিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী। এর ফলে মধ্যবিত্ত চাকরিজীবী ও ক্ষুদ্র আয়ের করদাতারা বড় স্বস্তি পাবেন।
মোটরসাইকেল ও অটোরিকশায় করের হার কমছে
রাজস্বের আওতা বাড়াতে মোটরসাইকেল ও ব্যাটারিচালিত অটোরিকশার ওপর অগ্রিম আয়কর বসানোর পরিকল্পনা করা হলেও প্রধানমন্ত্রীর নির্দেশে করের হার প্রাথমিকভাবে প্রস্তাবিত অঙ্কের চেয়ে অনেকটাই কমানো হচ্ছে।
ধনীদের জন্য ‘সম্পদ কর’
বাজেটের সবচেয়ে বড় পরিবর্তন হতে যাচ্ছে সরাসরি ‘ওয়েলথ ট্যাক্স’ বা সম্পদ কর চালু। ৪ কোটি টাকা থেকে শুরু করে ৫০ কোটি টাকার বেশি নিট সম্পদের ওপর ০.৫০% থেকে ২% পর্যন্ত কর আরোপের পরিকল্পনা করা হচ্ছে, যাতে উচ্চবিত্তদের থেকে রাজস্ব আদায় করে নিম্ন আয়ের মানুষের ওপর চাপ কমানো যায়।
বিনিয়োগবান্ধব করনীতি ও আইএমএফের চাপ
আইএমএফ কর-জিডিপি অনুপাত বাড়ানোর চাপ দিলেও সরকার রাজনৈতিক ও সামাজিক বাস্তবতা বিবেচনা করে জনগণের ওপর বাড়তি চাপ দিচ্ছে না। প্রধানমন্ত্রীর মূল ফোকাস এখন শিল্পায়ন, কর্মসংস্থান বৃদ্ধি এবং কর ফাঁকি রোধ করা। আগামী জুনে এই জনবান্ধব বাজেট পেশ হওয়ার কথা রয়েছে।