বুধবার, ২০ মে ২০২৬, ০৬:১০ পূর্বাহ্ন
নিউজ ডেস্ক, নেত্রকোণার আলো ডটকম:
উপসাগরীয় দেশগুলোর অনুরোধে এবং গুরুত্বপূর্ণ আলোচনা চলমান থাকায় ইরানের ওপর পরিকল্পিত সামরিক হামলা স্থগিত করেছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। মঙ্গলবার (১৯ মে) এই হামলা চালানোর কথা থাকলেও শেষ মুহূর্তে তা স্থগিতের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়। খবর বিবিসির।
নিজের সোশ্যাল মিডিয়া প্ল্যাটফর্ম ‘ট্রুথ সোশ্যাল’-এ দেওয়া এক পোস্টে ট্রাম্প জানান, কাতার, সৌদি আরব এবং সংযুক্ত আরব আমিরাতের (ইউএই) শীর্ষ নেতাদের অনুরোধে তিনি এই পদক্ষেপ নিয়েছেন। তিনি উল্লেখ করেন, আলোচনার মাধ্যমে এমন একটি চুক্তি হতে যাচ্ছে যা যুক্তরাষ্ট্রের জন্য ‘খুবই গ্রহণযোগ্য’ হবে। চুক্তিটি সফল হলে ইরান কোনোভাবেই পারমাণবিক অস্ত্র তৈরি করতে পারবে না বলেও তিনি দৃঢ় প্রত্যয় ব্যক্ত করেন।
তবে ট্রাম্প হুঁশিয়ারি দিয়ে বলেন, গ্রহণযোগ্য কোনো চুক্তি না হলে যেকোনো মুহূর্তে ইরানের ওপর পূর্ণাঙ্গ ও বড় ধরনের হামলা চালাতে প্রস্তুত থাকবে মার্কিন সামরিক বাহিনী। এদিকে, ইরানের একজন শীর্ষ সামরিক কমান্ডার যুক্তরাষ্ট্রকে সতর্ক করে দিয়ে বলেছেন, ওয়াশিংটন যেন আবারও কোনো ‘কৌশলগত ভুল বা ভ্রান্ত হিসাব’ না করে।
বিবিসির প্রতিবেদন অনুযায়ী, ট্রাম্পের এই ঘোষণা এমন এক সময়ে এলো যখন খোদ যুক্তরাষ্ট্রেই তার জনপ্রিয়তা কমছে। সাম্প্রতিক জনমত জরিপ বলছে, মার্কিন নাগরিকরা ইরানের সাথে এই যুদ্ধকে সহজভাবে নিচ্ছেন না। সোমবার প্রকাশিত ‘নিউইয়র্ক টাইমস/সিয়েনা’র জরিপ অনুযায়ী, প্রায় ৬৪ শতাংশ ভোটার মনে করেন ইরানের বিরুদ্ধে যুদ্ধে জড়ানোর সিদ্ধান্তটি ভুল ছিল। এছাড়া, প্রেসিডেন্ট হিসেবে ট্রাম্পের কাজের পারফরম্যান্সকে সমর্থন করছেন মাত্র ৩৭ শতাংশ ভোটার, যা আগামী মধ্যবর্তী নির্বাচনে রিপাবলিকানদের জন্য বড় চ্যালেঞ্জ তৈরি করতে পারে।
উল্লেখ্য, গত ২৮ ফেব্রুয়ারি ইসরায়েলি ও মার্কিন বাহিনী ইরানে ব্যাপক বিমান হামলা শুরু করার পর মধ্যপ্রাচ্যে তীব্র উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়ে। এর জবাবে তেহরানও ইসরায়েলসহ উপসাগরীয় অঞ্চলে থাকা মার্কিন লক্ষ্যবস্তুতে ড্রোন ও ক্ষেপণাস্ত্র হামলা চালায়। ফলে নতুন করে মার্কিন হামলা হলে ইরান কীভাবে পাল্টা জবাব দেবে, তা নিয়ে তীব্র আতঙ্কে রয়েছে উপসাগরীয় আরব দেশগুলো।
সোমবার রাতে হোয়াইট হাউসে সাংবাদিকদের সাথে আলাপকালে ট্রাম্প চলমান আলোচনাকে ‘ইতিবাচক অগ্রগতি’ হিসেবে অভিহিত করলেও চূড়ান্ত ফলাফল নিয়ে কিছুটা সংশয় প্রকাশ করেন। তিনি বলেন, “এবারের পরিস্থিতি একটু ভিন্ন এবং চুক্তির একটি ভালো সম্ভাবনা রয়েছে। ব্যাপক বোমাবর্ষণ না করেই যদি সমাধান সম্ভব হয়, তবে আমি সবচেয়ে বেশি খুশি হব।