বৃহস্পতিবার, ২৫ Jun ২০২৬, ১০:০৮ অপরাহ্ন
নিউজ ডেস্ক, নেত্রকোণার আলো ডটকম:
আকাশযুদ্ধে যুদ্ধবিমান, স্টিলথ ড্রোন এবং ক্রুজ ও ব্যালেস্টিক ক্ষেপণাস্ত্রের ক্রমবর্ধমান হুমকি মোকাবিলায় ইরান গত কয়েক দশকে নিজস্ব প্রযুক্তিতে গড়ে তুলেছে শক্তিশালী বহুস্তরবিশিষ্ট আকাশ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা। এর মধ্যে অন্যতম প্রধান স্তম্ভ হলো মাঝারি পাল্লার ক্ষেপণাস্ত্র ব্যবস্থা ‘খোরদাদ-৩’।
রা’দ থেকে খোরদাদ-৩: প্রযুক্তিগত বিবর্তন
২০১২ সালে ৫০ কিমি পাল্লার ‘রা’দ’ প্রকল্পের মাধ্যমে এর সূচনা হয়। পরবর্তীতে ২০১৪ সালে উন্মোচন করা হয় এর আরও উন্নত সংস্করণ ‘খোরদাদ-৩’। রাশিয়ার বুক-এম২ই (Buk-M2E) সিস্টেমের সঙ্গে কিছুটা সাদৃশ্য থাকলেও এর নকশা ও প্রযুক্তি সম্পূর্ণ ইরানের নিজস্ব। এতে ব্যবহৃত ফেজড অ্যারে রাডার একই সাথে ৪টি লক্ষ্যবস্তু শনাক্ত এবং ৮টি ক্ষেপণাস্ত্র পরিচালনা করতে পারে।
গতি ও কার্যক্ষমতা
পাল্লা: প্রথম দিকে ৫০ কিমি থাকলেও সর্বশেষ সংস্করণে এর পাল্লা ২০০ কিলোমিটার পর্যন্ত পৌঁছেছে।
গতি: এর ক্ষেপণাস্ত্রগুলো শব্দের চেয়ে ৩ থেকে ৪ গুণ বেশি গতিতে ছুটতে সক্ষম।
নিখুঁত লক্ষ্য: লেজারভিত্তিক প্রক্সিমিটি ফিউজের কারণে এটি লক্ষ্যবস্তুর খুব কাছে গিয়ে নিখুঁতভাবে বিস্ফোরিত হতে পারে।
‘শুট অ্যান্ড স্কুট’ কৌশল ও নৌ-প্রতিরক্ষা
এই ব্যবস্থার মূল শক্তি এর উচ্চ গতিশীলতা। সামরিক ভাষায় একে বলা হয় “Shoot and Scoot” বা ‘হামলা করে দ্রুত সরে যাওয়া’ কৌশল। আকস্মিক হামলা চালিয়ে দ্রুত স্থান পরিবর্তন করার ফলে শত্রুপক্ষ এর অবস্থান সহজে শনাক্ত করতে পারে না। এছাড়া স্থলভাগের পাশাপাশি এটি নৌযানেও স্থাপনযোগ্য, যা পারস্য উপসাগরে ইরানের উপকূলীয় প্রতিরক্ষা সক্ষমতা বহু গুণ বাড়িয়ে দিয়েছে।
মার্কিন ড্রোন ভূপাতিত করে বৈশ্বিক আলোচনায়
২০১৯ সালের ২০ জুন হরমুজ প্রণালীর কাছে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের অত্যাধুনিক এমকিউ-৪সি ‘ট্রাইটন’ ড্রোন ভূপাতিত করে আন্তর্জাতিক অঙ্গনে প্রথম বড় চমক দেখায় খোরদাদ-৩। এই ঘটনাটি আধুনিক নজরদারি ড্রোনের বিরুদ্ধে ইরানের দেশীয় প্রযুক্তির কার্যকারিতা প্রমাণ করে।