মঙ্গলবার, ২৩ Jun ২০২৬, ০৯:২০ অপরাহ্ন
নিউজ ডেস্ক, নেত্রকোণার আলো ডটকম:
অবসর ভেঙে ফিরে এসে একের পর এক রূপকথা লিখছেন লিওনেল মেসি। ২০১৬ সালের কোপা আমেরিকার ফাইনালে হারের পর আন্তর্জাতিক ফুটবলকে বিদায় জানিয়েছিলেন এই আর্জেন্টাইন মহাতারকা। তবে সেই সিদ্ধান্ত বদলে ফেরার পর থেকেই শুরু হয় তার রেকর্ড ভাঙা-গড়ার এক নতুন অধ্যায়।
সোমবার অস্ট্রিয়ার বিপক্ষে ২-০ গোলের জয়ে জোড়া গোল করে বিশ্বকাপ ইতিহাসের সর্বকালের সর্বোচ্চ গোলদাতার আসনে বসেছেন মেসি। বিশ্বকাপে এখন তার মোট গোলসংখ্যা ১৮। এর মাধ্যমে তিনি জার্মানির কিংবদন্তি মিরোস্লাভ ক্লোসা (১৬ গোল) এবং ব্রাজিলের নারী ফুটবল কিংবদন্তি মার্তাকে (১৭ গোল) পেছনে ফেলে পুরুষ ও নারী উভয় বিভাগ মিলিয়ে এককভাবে শীর্ষ স্থান দখল করেছেন।
ডালাসে অনুষ্ঠিত ম্যাচের অষ্টম মিনিটে পেনাল্টি মিস করে কিছুটা হতাশ করলেও, ৩৮ মিনিটে গোল করে ক্লোসার রেকর্ড স্পর্শ করেন মেসি। এরপর যোগ করা সময়ের পঞ্চম মিনিটে দুর্দান্ত আরেক গোল করে গড়েন এই অনন্য ইতিহাস। এটি মেসির ষষ্ঠ বিশ্বকাপ আসর। বিস্ময়কর বিষয় হলো, তার ১৮টি গোলের মধ্যে ১২টিই এসেছে ৩৫ বছর বয়স পার করার পর! এমনকি চলতি বিশ্বকাপে আর্জেন্টিনার করা ৫টি গোলের সবকটিই এসেছে তার পা থেকে।
অস্ট্রিয়ার বিপক্ষে এই কীর্তির মাধ্যমে বিশ্বকাপে টানা ছয় ম্যাচে গোল করার এক বিরল রেকর্ডও ছুঁয়েছেন তিনি। এর আগে ১৯৫৮ সালে ফ্রান্সের জাস্ট ফন্টেইন এবং ১৯৭৭০ সালে ব্রাজিলের জাইরজিনহো এই কীর্তি গড়েছিলেন।
তবে রেকর্ড গড়ার রাতে একটি অনাকাঙ্ক্ষিত রেকর্ডও যুক্ত হয়েছে তার নামের পাশে। বিশ্বকাপ ইতিহাসে সবচেয়ে বেশি পেনাল্টি নেওয়া (৭টি) এবং সবচেয়ে বেশি পেনাল্টি মিস করা (৩টি) খেলোয়াড়ও এখন এই আর্জেন্টাইন অধিনায়ক। তবে সব ছাপিয়ে মাঠের পারফরম্যান্সে ফুটবল বিশ্বকে মুগ্ধ করে চলেছেন তিনি। সাবেক ইংল্যান্ড মিডফিল্ডার ড্যানি মারফির মতে, মেসির ফুটবল বুদ্ধিমত্তা অন্য এক পর্যায়ের।
এক সময় জাতীয় দলকে বিদায় জানানো সেই ফুটবলারই আজ বিশ্বকাপ ইতিহাসের সর্বোচ্চ গোলের মালিক এবং তার হাত ধরেই আর্জেন্টিনা পৌঁছে গেল আরেকটি নকআউট পর্বে।