শনিবার, ০৮ অগাস্ট ২০২৬, ০৭:০৩ অপরাহ্ন
নিউজ ডেস্ক, নেত্রকোণার আলো ডটকম:
টাঙ্গাইলের মির্জাপুর উপজেলার মহেড়া ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান বিভাষ সরকার নুপুরের বিরুদ্ধে এক নারীসহ একই পরিবারের তিনজনকে লাঠি দিয়ে পেটানোর অভিযোগ উঠেছে। গত ২৭ জুন সকালের এই মারধরের একটি ভিডিও সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ভাইরাল হওয়ার পর এলাকায় তীব্র সমালোচনার সৃষ্টি হয়েছে।
অভিযুক্ত বিভাষ সরকার নুপুর নিষিদ্ধ ঘোষিত উপজেলা আওয়ামী লীগের সদস্য এবং ছয়বারের নির্বাচিত চেয়ারম্যান। ৫১ সেকেন্ডের ওই ভাইরাল ভিডিওতে দেখা যায়, চেয়ারম্যান হাতে লাঠি নিয়ে কয়েকজনকে সাথে নিয়ে আসছেন এবং এক মাটির স্তূপের পাশে দাঁড়িয়ে এক নারীকে অশালীন ভাষায় গালিগালাজ করছেন। নারীটি প্রতিবাদ করলে চেয়ারম্যান প্রথমে এক ব্যক্তিকে এবং পরবর্তীতে ওই নারী ও তার মেয়েকে লাঠি দিয়ে আঘাত করেন।
ভুক্তভোগী বাসন্তী রানী অভিযোগ করেন, স্কুলের সীমানা প্রাচীর নির্মাণের পর তাদের চলাচলের পথ বন্ধ হয়ে যায়। এরপর চেয়ারম্যান তাদের নিজস্ব জমির ওপর দিয়ে জোরপূর্বক রাস্তা নির্মাণের চেষ্টা করেন। এতে বাধা দিলে তাকে, তার স্বামী রামগোপাল সাহা ও মেয়ে পায়েল সাহাকে নির্মমভাবে মারধর করা হয়। বর্তমানে তারা চরম নিরাপত্তাহীনতায় ভুগছেন বলেও জানান। স্থানীয়দের অভিযোগ, চেয়ারম্যানের ভয়ে এলাকায় কেউ প্রকাশ্যে মুখ খুলতে সাহস পায় না।
মারধরের বিষয়টি স্বীকার করে চেয়ারম্যান বিভাষ সরকার নুপুর বলেন, “বাউন্ডারির বাইরে স্কুলের জায়গায় রাস্তা করার সময় ওই মহিলা বাধা দেন, তাই তাদের কঞ্চি দিয়ে পিটিয়েছি।” এই বিষয়ে মহেড়া ইউনিয়নের সাবেক চেয়ারম্যান বাদশা মিয়া বলেন, একজন দায়িত্বশীল প্রতিনিধির কাছ থেকে এমন আচরণ কোনোভাবেই কাম্য নয়।
মির্জাপুর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) খান সালমান হাবীব জানান, এই ঘটনায় লিখিত অভিযোগ পেলে প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।