শুক্রবার, ২৬ Jun ২০২৬, ০১:১৮ পূর্বাহ্ন
অনলাইন ডেস্ক, নেত্রকোণার আলো ডটকম:
বর্তমান সরকার রায়ের আগে এখনই ভারতের কাছে শেখ হাসিনাকে ফেরত চাইবে না বলে জানিয়েছেন অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের প্রধান উপদেষ্টা অধ্যাপক ড. মুহাম্মদ ইউনূস। যুক্তরাজ্যভিত্তিক গণমাধ্যম ফিন্যান্সিয়াল টাইমস–কে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে তিনি এ কথা বলেন। শান্তিতে নোবেলজয়ী এই অর্থনীতিবিদের সাক্ষাৎকারটি আজ বুধবার প্রকাশিত হয়েছে।
ড. ইউনূস বলেছেন, “তার (শেখ হাসিনা) বিরুদ্ধে মানবতাবিরোধী অপরাধের অভিযোগ আনা হয়েছে। এই মামলার রায় ঘোষণার পর ভারতের সঙ্গে প্রত্যর্পণ চুক্তির আওতায় তাকে ফিরিয়ে আনার চেষ্টা করা হবে। আমি মনে করি না যে, রায় হওয়ার আগে এটা করার দরকার আছে।”
তিনি আরও উল্লেখ করেন, “অবিলম্বে ভারত থেকে শেখ হাসিনাকে ফিরিয়ে চাইবে না সরকার। এই মুহূর্তে বাংলাদেশ তার বড় প্রতিবেশী দেশের সঙ্গে কূটনৈতিক উত্তেজনা এড়াতে এমন সিদ্ধান্ত নিয়েছে।”
প্রসঙ্গত, গত ৫ আগস্ট তৎকালীন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা গণঅভ্যুত্থানের মুখে পদত্যাগ করে দেশ ছেড়ে ভারতে আশ্রয় নেন।
এদেশে আওয়ামী লীগ নিষিদ্ধ হওয়ার প্রসঙ্গে ড. ইউনূস বলেন, “আওয়ামী লীগ হয়তো ভেঙে যেতে পারে, কিন্তু তার সরকার এমন কিছু করবে না। কারণ, তারা রাজনৈতিক সরকার নয়।”
তিনি আরও বলেন, “স্বল্প সময়ের মধ্যে বাংলাদেশে তার (শেখ হাসিনা) বা আওয়ামী লীগের কোনো জায়গা হবে না।”
নির্বাচনে আওয়ামী লীগ অংশ নিতে পারবে কি না, এ প্রসঙ্গে তিনি জানান, এ বিষয়ে দেশের রাজনৈতিক দলগুলোর ‘ঐকমত্য’ প্রয়োজন, তারাই আওয়ামী লীগের রাজনৈতিক অবস্থান নির্ধারণ করবে।
ড. ইউনূস জানান, নির্বাচনের রূপরেখা চূড়ান্তকরণে তাদের কাজ স্বাভাবিক করা এবং প্রয়োজনীয় সংস্কার সম্পন্ন করা। এখনো নির্বাচনের রূপরেখা চূড়ান্ত করা হয়নি; প্রস্তুতি শেষ হলে এ বিষয়ে রাজনৈতিক দলগুলোর সঙ্গে আলোচনা হবে।
ফিন্যান্সিয়াল টাইমস–এর প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে, ড. ইউনূসের সরকার দায়িত্ব নেওয়ার পর ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি বাংলাদেশের সংখ্যালঘু হিন্দুদের নিরাপত্তা নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন। ছাত্র-জনতার আন্দোলনে প্রায় ৮০০ জন নিহত হয়েছেন বলে জানিয়েছে স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়। তবে হিন্দুদের ওপর নৃশংসতা নিয়ে ভারত যে অভিযোগ করেছে, তার সত্যতা নিশ্চিত করেনি মানবাধিকার সংস্থাগুলো।
ড. ইউনূস এ প্রসঙ্গে বলেন, “হিন্দুদের বিরুদ্ধে সহিংসতার কিছু ঘটনা ঘটেছে এবং অল্প সংখ্যক প্রাণহানি হয়েছে। তাদেরকে ধর্মের ভিত্তিতে নয়, আওয়ামী লীগের অনুসারী হিসেবে টার্গেট করা হয়েছে।”
তিনি আরও বলেন, “(আগস্টে হামলার শিকার) অধিকাংশ হিন্দু আওয়ামী লীগের সমর্থক ছিলেন। এটাকে ভিন্ন রূপ দেওয়া হচ্ছে।”
প্রতিবেশী দেশের সঙ্গে সুসম্পর্ক অব্যাহত রাখার বিষয়ে তিনি বলেন, “আমরা প্রতিবেশী। আমাদের একে অপরের প্রয়োজন। আমাদের অবশ্যই সবচেয়ে ভালো সম্পর্ক থাকতে হবে, যেমনটি দুই প্রতিবেশীর থাকা উচিত।”
ভবিষ্যতে রাজনীতিতে যোগদানের কোনো ইচ্ছা নেই:
রাজনীতিতে যোগ দেওয়ার বা রাজনৈতিক দল গঠনের ইচ্ছা নেই বলে জানান ড. ইউনূস।