শুক্রবার, ২৬ Jun ২০২৬, ০৭:৩৫ পূর্বাহ্ন

শিরোনাম :
অনলাইনে চলছে মাদক ব্যবসা, অর্থ পাচার রুখতে আসছে কঠোর ও আধুনিক আইন চীনা ব্যবসায়ীদের বাংলাদেশে বিনিয়োগের আহ্বান প্রধানমন্ত্রীর ২৪ ঘণ্টার ব্যবধানে আবারও কমলো স্বর্ণের দাম, জেনে নিন আজকের রেট! ৩৬ বছর পর বিশ্বকাপে মুখোমুখি হতে যাচ্ছে ব্রাজিল-আর্জেন্টিনা! ভেনেজুয়েলায় পরপর দুটি শক্তিশালী ভূমিকম্প, ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতির আশঙ্কা নেইমারের প্রত্যাবর্তন ও ভিনিসিয়ুসের রেকর্ডে গ্রুপ চ্যাম্পিয়ন হয়ে নকআউটে ব্রাজিল ২৪ ঘণ্টায় হামের উপসর্গে আরও ৩ শিশুর মৃত্যু নেইমারের প্রত্যাবর্তনে ব্রাজিলে স্বস্তি, সামনে ঐতিহাসিক রেকর্ড ১৬ জেলায় দুপুরের মধ্যে ঝোড়ো হাওয়া ও বজ্রবৃষ্টির আভাস, নদীবন্দরে সতর্কতা রেকর্ড বল দখল করেও জয়বঞ্চিত ইংল্যান্ড, ঘানার ঐতিহাসিক ড্র
জেডি ভান্স হলেন ভাইস প্রেসিডেন্ট

জেডি ভান্স হলেন ভাইস প্রেসিডেন্ট

আন্তর্জাতিক ডেস্ক, নেত্রকোণার আলো ডটকম:

আট বছর আগে ২০১৬ সালের মার্কিন প্রেসিডেন্ট নির্বাচনে জেডি ভ্যান্স ডোনাল্ড ট্রাম্পের তিক্ত সমালোচক ছিলেন। প্রকাশ্যে তিনি রিপাবলিকান এই নেতা এবং ২০২৪ সালের বিজয়ী প্রেসিডেন্ট ট্রাম্পকে ‘মূর্খ’ এবং ‘ঘৃণ্য’ ব্যক্তি হিসেবে অভিহিত করেছিলেন। এমনকি ব্যক্তিগতভাবে জেডি ভ্যান্স ট্রাম্পকে অ্যাডলফ হিটলারের সঙ্গেও তুলনা করতেন।

কিন্তু এত কিছুর পরেও মার্কিন প্রেসিডেন্ট নির্বাচনে সদ্য বিজয়ী ট্রাম্প গত জুলাই মাসে ভ্যান্সকে তার রানিং মেট হিসেবে বেছে নেন।

গতকাল মঙ্গলবার যুক্তরাষ্ট্রের ৪৭তম প্রেসিডেন্ট নির্বাচিত হয়েছেন রিপাবলিকান প্রার্থী ডোনাল্ড ট্রাম্প। সেই সঙ্গে ভাইস প্রেসিডেন্ট হিসেবে নির্বাচিত হলেন ট্রাম্পকে ‘মূর্খ’ বলা ৪০ বছর বয়সী সেই জেডি ভান্স।

২০১৬ সালে জেডি ভ্যান্সের একটি স্মৃতিকথামূলক বই প্রকাশিত হয়। নাম হিলবিলি এলিজি।

বইটি নিই ইয়র্ক টাইমসের বেস্ট সেলার বই। পরবর্তীতে বইটি নিয়ে একটি চলচ্চিত্রও নির্মিত হয়। বই থেকে জানা যায়, ওহাইওর মিডলটাউনে তার জন্ম। পুরো নাম জেমস ডোনাল্ড বোম্যান ভ্যান্স।

তার মা মাদকাসক্ত ছিলেন। ছোটবেলায় বাবা তাদেরকে ছেড়ে চলে যান। পরে নানা-নানির কাছে বড় হন ভ্যান্স।

২০২২ সালে ওহাইওর সিনেট নির্বাচনে লড়াই না করার ঘোষণা দেন রিপাবলিকান সিনেটর রব পোর্টম্যান। তখন তরুণ রাজনীতিক হিসেবে ভ্যান্সের নাম সামনে আসে।

রিপাবলিকান প্রার্থী হিসেবে প্রথমবারের মতো ওহাইও রাজ্যের সিনেটর নির্বাচিত হন ভ্যান্স।

ভ্যান্স ডোনাল্ড ট্রাম্প সম্পর্কে ২০১৬ সালে টুইটার (বর্তমানে এক্স হ্যান্ডেল) এবং সাক্ষাৎকারের সময় বলেছিলেন, ‘আমি একেবারেই ট্রাম্পের সমর্থক নই। আমি ওকে কখনওই পছন্দ করিনি। আমার তাকে ঘৃণ্য ব্যক্তি মনে হয়, একজন মূর্খ্য।’  ওই সময়ই জেডি ভান্সের স্মৃতিকথা ‘হিলবিলি এলিজি’ প্রকাশ পায়, যা তাকে দেশজুড়ে খ্যাতি এনে দেয়।

সেই বছরেই ফেসবুকে তার ল স্কুলের রুমমেট এবং বন্ধু জন ম্যাক্লরিনের (বর্তমানে জর্জিয়ার একজন স্টেট সেনেটর) সঙ্গে কথোপকথনের সময় ডোনাল্ড ট্রাম্পকে ‘আমেরিকান হিটলার’ বলেও মন্তব্য করতে শোনা গিয়েছিল তাকে।

নিজেকে একজন ট্রাম্পবিরোধী হিসেবে পরিচয় দেওয়া ভান্সকেই প্রেসিডেন্ট নির্বাচনে রিপাবলিকান প্রার্থী ট্রাম্প নিজের রানিং মেট বা নিজের পরবর্তী প্রশাসনের ভাইস প্রেসিডেন্ট মনোনীত করায় বেশ শোরগোল দেখা দেয়। তবে ট্রাম্প ও তার অনেক মিত্র এবং উপদেষ্টা ভ্যান্সের রূপান্তরকে বেশ ভালোভাবেই দেখেছে।

তাদের ধারণা, ভ্যান্সের রাজনৈতিক বিশ্বাসের সঙ্গে ট্রাম্পের যথেষ্ঠ মিল রয়েছে। উভয়ই রিপাবলিকান পার্টির পুরানো নেতৃত্বদের সঙ্গে মতানৈক্য রয়েছে, যেখানে বিদেশী নীতির বাজপাখি এবং মুক্ত বাজারের প্রচারকরা এখনও প্রভাব বিস্তার করে।

রক্ষণশীল ভাষ্যকার টাকার কার্লস রয়টার্সকে বলেছেন, ‘ভ্যান্স আসলে বুঝতে পেরেছিলেন ট্রাম্প কী নিয়ে চলছেন।’ যদিও ট্রাম্পের নতুন প্রশাসনের রূপগুলো এখনও অস্পষ্ট, তবে ধারণা করা যায়, ভ্যান্স নীতি প্রণয়নে ভূমিকা রাখতে পারে।

ভ্যান্স গত সপ্তাহে অ্যারিজোনার এক সমাবেশে বলেছিলেন, ‘আমি সত্যিই বিশ্বাস করি যে, যোগ্য নেতৃত্বের মাধ্যমে আমরা আমেরিকান সমৃদ্ধির স্বর্ণযুগের চূড়ায় আছি।’

জেডি ভান্সের এই পরিবর্তন অবাক করেছে অনেককেই। কয়েক বছরের মধ্যেই ট্রাম্পকে নিয়ে ভান্সের মনোভাব বদলে যায়। কট্টর সমালোচক থেকে শুভাকাঙ্ক্ষী বনে যান তিনি। হয়ে ওঠেন ট্রাম্পের ঘনিষ্ঠ মিত্রদের একজন।

সূত্র: রয়টার্স

( নেত্রকোণার আলো ডট কম’র প্রকাশিত/প্রচারিত কোনো সংবাদ, তথ্য, ছবি, আলোকচিত্র, রেখাচিত্র, ভিডিওচিত্র, অডিও কনটেন্ট কপিরাইট আইনে পূর্বানুমতি ছাড়া ব্যবহার করা যাবে না। )

Comments are closed.




© All rights reserved © 2024 www.netrakon-r-alo.com