শুক্রবার, ২৬ Jun ২০২৬, ০৭:৪৪ পূর্বাহ্ন
নেত্রকোণার আলো ডটকম ডেস্ক:
খালেদা জিয়ার লন্ডন যাওয়ার সিদ্ধান্তটি একটি গুরুত্বপূর্ণ ইস্যু ছিল, বিশেষত তার দীর্ঘদিনের অসুস্থতার কারণে। বিএনপি চেয়ারপার্সন খালেদা জিয়া, যিনি ৭৯ বছর বয়সী, নানা ধরনের জটিল রোগে ভুগছেন—যেমন লিভার সিরোসিস, হৃদরোগ, কিডনি সমস্যা, ডায়াবেটিস, ফুসফুসের সমস্যা, আর্থ্রাইটিস, এবং চোখের সমস্যা। তাকে দীর্ঘদিন ধরে ঢাকা শহরের এভারকেয়ার হাসপাতালের চিকিৎসকদের দ্বারা চিকিৎসা দেওয়া হচ্ছে, যেখানে বিশেষজ্ঞ চিকিৎসকরা বিভিন্ন সময় তাকে সেবা দিয়েছেন।
এখন পর্যন্ত তাকে যতগুলো চিকিৎসা দেওয়া হয়েছে, তা তার স্বাস্থ্য পরিস্থিতি পুরোপুরি স্থিতিশীল করতে পারেনি, যার কারণে তার উন্নত চিকিৎসার জন্য বিদেশে যাওয়ার পরিকল্পনা করা হয়েছিল। বিশেষজ্ঞদের পরামর্শে তাকে লন্ডনে নিয়ে যাওয়ার জন্য একটি বিশেষ স্পেশালাইজড এয়ার অ্যাম্বুলেন্স প্রস্তুত করা হয়েছিল, যাতে তিনি যথাসম্ভব দ্রুত এবং নিরাপদে পৌঁছাতে পারেন।
বিএনপির যুক্তরাজ্য শাখার সভাপতি এম এ মালেক জানিয়েছেন, চিকিৎসকদের পরামর্শে এবং শারীরিক অবস্থা বিবেচনা করে তিনি শুক্রবার লন্ডনে যাওয়ার সিদ্ধান্ত বাতিল করেছেন। যদিও তার চিকিৎসার জন্য প্রস্তুতি প্রায় সম্পূর্ণ ছিল, তারপরও তার শারীরিক পরিস্থিতি এই মুহূর্তে বিদেশ যাত্রার উপযুক্ত নয় বলে মনে করছেন চিকিৎসকরা।
খালেদা জিয়ার ছেলে, বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমান এবং পুরো পরিবার অপেক্ষায় ছিলেন, যাতে তিনি চিকিৎসার জন্য লন্ডনে যেতে পারেন। তার চিকিৎসার জন্য যে মেডিকেল বোর্ড গঠিত হয়েছিল, তাতে সাতজন বিশেষজ্ঞ চিকিৎসক ও নার্সরা ছিলেন, যারা তার সঙ্গে যেতে প্রস্তুত ছিলেন। এছাড়া, তার পরিবারের সদস্যদের মধ্যে শর্মিলা রহমান সিথি, আরাফাত রহমান কোকোর স্ত্রী, এবং তার বিশ্বস্ত সহকারীরা ছিলেন। তাদের ভিসাও প্রস্তুত করা হয়েছিল, যাতে তারা খালেদা জিয়ার সঙ্গে চিকিৎসার জন্য বিদেশ যেতে পারেন।
খালেদা জিয়ার চিকিৎসা ব্যবস্থাপনার দায়িত্বে থাকা মেডিকেল বোর্ডের সদস্যরা, যাদের মধ্যে অধ্যাপক ডা. এ জেড এম জাহিদ হোসেন, প্রফেসর ডা. শাহাবুদ্দিন তালুকদার, অধ্যাপক ডা. শামসুল আরেফিন, এবং অন্যান্য চিকিৎসকরা রয়েছেন, তারা তার চিকিৎসার পরামর্শ দিয়েছেন এবং তার অবস্থা পর্যবেক্ষণ করেছেন।
এমন পরিস্থিতিতে, লন্ডন সফর স্থগিত হলেও তার চিকিৎসার জন্য নতুন কোনো পরিকল্পনা নেওয়া হবে কিনা, তা এখনও নিশ্চিত নয়। তবে পরিবারের পক্ষ থেকে আশা করা হচ্ছে যে, তার শারীরিক অবস্থার উন্নতি হলে শিগগিরই তাকে চিকিৎসার জন্য বিদেশ পাঠানো হবে।