শুক্রবার, ২৬ Jun ২০২৬, ০৭:৪৯ পূর্বাহ্ন
আর্ন্তজাতিক ডেস্ক, নেত্রকোণার আলো ডটকম:
যুক্তরাষ্ট্রের নবনির্বাচিত প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প তাঁর অন্যতম অগ্রাধিকারে রেখেছেন দেশটিতে জন্মসূত্রে অভিবাসীদের সন্তানেরা যে নাগরিকত্ব পান, সেটি রদ করা। ট্রাম্প ও তাঁর রানিং মেট জেডি ভ্যান্সের যৌথ ওয়েবসাইটে এই বিষয়ক একটি পরিকল্পনা প্রকাশ করা হয়েছে। ধারণা করা হচ্ছে, ট্রাম্প দায়িত্ব গ্রহণের দিনেই নির্বাহী আদেশের মাধ্যমে এই পরিকল্পনা কার্যকর করতে পারেন।
ট্রাম্প-ভ্যান্সের পরিকল্পনায় বলা হয়েছে, এই আদেশ বাস্তবায়িত হলে অবৈধ অভিবাসীদের সন্তানদের স্বয়ংক্রিয়ভাবে নাগরিকত্ব পাওয়ার সুযোগ আর থাকবে না। এমনকি, যারা নাগরিক হওয়ার প্রাথমিক ধাপে আছেন অর্থাৎ গ্রিন কার্ড পাওয়ার অপেক্ষায় রয়েছেন, তারাও এতে প্রভাবিত হবেন। প্রস্তাবিত আদেশ অনুযায়ী, সন্তানদের মার্কিন নাগরিকত্বের জন্য পিতা-মাতার অন্তত একজনকে মার্কিন নাগরিক বা বৈধ স্থায়ী বাসিন্দা হতে হবে।
এটি বাস্তবায়িত হলে, যুক্তরাষ্ট্রে বসবাসরত ভারতীয় অভিবাসীদের জন্য একটি বড় ধাক্কা হবে। পিউ রিসার্চের তথ্য অনুযায়ী, যুক্তরাষ্ট্রে বর্তমানে প্রায় ৪৮ লাখ ভারতীয় আমেরিকান আছেন, যাদের ৩৪ শতাংশ যুক্তরাষ্ট্রে জন্মেছেন। এই আইন কার্যকর হলে এদের অনেকেই স্বয়ংক্রিয়ভাবে নাগরিকত্ব বা স্থায়ী বসবাসের অধিকার হারাবেন।
ট্রাম্প-ভ্যান্সের পরিকল্পনায় বলা হয়েছে, প্রস্তাবিত নির্বাহী আদেশটি মার্কিন সংবিধানের ১৪ তম সংশোধনীর সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ। তবে অভিবাসন আইনজীবীরা মনে করেন, এটি সংবিধানের লঙ্ঘন। ইমিগ্রেশন অ্যাটর্নি রাজীব এস খান্না বলেন, “ট্রাম্পের পরিকল্পনা মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রে জন্মগ্রহণকারী শিশুদের নাগরিকত্ব না দেওয়ার ইঙ্গিত দিচ্ছে, যা ১৪ তম সংশোধনীর বিরোধী। আশা করছি, সুপ্রিম কোর্টের মাধ্যমে এর সঠিক ব্যাখ্যা পাবো।”
ওয়াশিংটনের থিংক ট্যাংক কেটো ইনস্টিটিউটের তথ্য অনুযায়ী, ২০২৩ সালের মার্চ পর্যন্ত যুক্তরাষ্ট্রে কর্মসংস্থানভিত্তিক গ্রিন কার্ডের জন্য অপেক্ষমাণ তালিকায় থাকা ভারতীয়দের সংখ্যা এক মিলিয়ন ছাড়িয়েছে। প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, নতুন আইন কার্যকর হলে ভারতীয়দের জন্য গ্রিন কার্ডের জন্য অপেক্ষার সময় বেড়ে ১৩৪ বছর পর্যন্ত হতে পারে, যার ফলে অনেক ভারতীয় মারা যাবেন বা তাঁদের সন্তানেরা নির্ভরশীল ভিসার বৈধতা হারাবেন।