শুক্রবার, ২৬ Jun ২০২৬, ০৮:৫৮ পূর্বাহ্ন
নেত্রকোণার আলো ডটকম ডেস্ক:
ইসলাম, বৌদ্ধ, হিন্দু ও খ্রিষ্টানসহ সব ধর্মের মানুষ মিলে সুন্দর বাংলাদেশ গড়ার আকাঙ্ক্ষা ব্যক্ত করেছেন বাংলাদেশ সেনাবাহিনীর প্রধান জেনারেল ওয়াকার-উজ-জামান। শুক্রবার রাজধানীর মেরুল বাড্ডায় আন্তর্জাতিক বৌদ্ধবিহারে অনুষ্ঠিত পবিত্র কঠিন চীবর দান উৎসব ও জাতীয় বৌদ্ধধর্মীয় মহাসম্মেলনে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এ কথা বলেন।
সেনাপ্রধান বলেন, “ইসলাম, বৌদ্ধ, হিন্দু, খ্রিষ্টানসহ সব ধর্ম ও জাতিগোষ্ঠী মিলে আমরা একটি সুন্দর বাংলাদেশ গঠন করতে চাই। এখানে শান্তিতে বসবাস করতে এবং দেশ ও জাতির উন্নতি করতে চাই।” তিনি বাংলাদেশের সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতির উদাহরণ তুলে ধরে বলেন, “যখন আজান হচ্ছিল, তখন বৌদ্ধ ধর্মাবলম্বীরাই বললেন, আজান শেষ হলে অনুষ্ঠান শুরু করা যাক। এটাই হলো ধর্মীয় বোঝাপড়া ও মমত্ববোধের নিদর্শন।”
অনুষ্ঠানে উপস্থিত বৌদ্ধ ধর্মাবলম্বীদের উদ্দেশ্যে সেনাপ্রধান বলেন, “আমরা চাই আপনারা প্রতিনিয়ত আপনাদের ধর্মীয় অনুষ্ঠানগুলো পালন করবেন, সুখে-শান্তিতে থাকবেন। এজন্য যা কিছু করতে হয়, আমরা সেটা করব।” দুর্গাপূজার সময়ও সেনাবাহিনী নিরাপত্তা প্রদান করেছে উল্লেখ করে তিনি বলেন, “যেকোনো সময় আপনারা যে ধরনের সহযোগিতা চাইবেন, আমরা তা প্রদান করব।”
অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন বিভিন্ন দেশের কূটনীতিকরা, বিশেষ করে থাইল্যান্ডের রাষ্ট্রদূত, যিনি বাংলাদেশের বিভিন্ন বৌদ্ধমন্দির নির্মাণে আর্থিক সহায়তা করেছেন। এছাড়া ভিয়েতনাম ও অস্ট্রেলিয়ার প্রতিনিধিদের উপস্থিতিও প্রশংসনীয় বলে মন্তব্য করেন সেনাপ্রধান।
তিন পার্বত্য জেলা প্রসঙ্গে জেনারেল ওয়াকার-উজ-জামান বলেন, “পার্বত্য এলাকায় আমরা শান্তি ও সম্প্রীতির পরিবেশ তৈরি করতে চাই, যেন পাহাড়ি-বাঙালি সবাই একসঙ্গে বসবাস করতে পারে।”
বাংলাদেশ বৌদ্ধ ফেডারেশনের প্রধান উপদেষ্টা অধ্যাপক সুকোমল বড়ুয়ার সভাপতিত্বে আয়োজিত এ অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি হিসেবে শুভেচ্ছা বক্তব্য দেন থাইল্যান্ডের রাষ্ট্রদূত মাকাওয়াদি সুমিতমোর, ভিয়েতনামের রাষ্ট্রদূত ন্যুয়েন মান কুঅং এবং অস্ট্রেলিয়ার ডেপুটি হাইকমিশনার নারদিয়া সিম্পসন।