শুক্রবার, ২৬ Jun ২০২৬, ১০:২৯ পূর্বাহ্ন
নিউজ ডেস্ক, নেত্রকোণার আলো ডটকম:
বহুল আলোচিত জিয়া অরফানেজ ট্রাস্ট মামলায় বিএনপি চেয়ারপারসন খালেদা জিয়ার ১০ বছরের কারাদণ্ডের আদেশ স্থগিত করেছে দেশের সর্বোচ্চ আদালত। বিচারপতি মো. আশফাকুল ইসলামের নেতৃত্বে তিন বিচারপতির আপিল বিভাগ সোমবার খালেদা জিয়ার লিভ টু আপিল (আপিলের অনুমতি চেয়ে করা আবেদন) মঞ্জুর করে এ আদেশ দেন।
গতকাল এই মামলার শুনানিতে দুর্নীতি দমন কমিশনের (দুদক) পক্ষে সিনিয়র আইনজীবী মো. আসিফ হাসান আদালতে বলেন, “এই ট্রাস্টের টাকা আত্মসাৎ হয়নি, বরং শুধু ফান্ডটি মুভ হয়েছে এবং টাকাটি সুদে আসলে অ্যাকাউন্টে জমা রয়েছে।”
অ্যাটর্নি জেনারেল মো. আসাদুজ্জামান খালেদা জিয়ার ৩৪২ ধারায় দেওয়া বক্তব্য উল্লেখ করে বলেন, “কাজী নজরুল ইসলামের কবিতার মতোই রাজবন্দীর জবানবন্দির প্রতিফলন রয়েছে খালেদা জিয়ার বক্তব্যে। তিনি এতিম তহবিলের কোনো অনুদান গ্রহণ বা বিতরণের সঙ্গে যুক্ত ছিলেন না।”
খালেদা জিয়ার পক্ষে সিনিয়র আইনজীবী জয়নুল আবেদীন আদালতকে বলেন, “হাইকোর্টের দেওয়া সাজা বাড়ানোর রায়ে আইনের ত্রুটি রয়েছে এবং তা ভ্রান্ত ধারণাপ্রসূত।”
সোমবার আপিল বিভাগে আদেশের জন্য দিন ধার্য করা হয়। এই দিন খালেদা জিয়ার আইনজীবীরা আপিলের গ্রাউন্ডগুলো তুলে ধরেন।
২০১৮ সালের ৮ ফেব্রুয়ারি ঢাকার বিশেষ জজ আদালত-৫ অরফানেজ ট্রাস্ট মামলায় খালেদা জিয়াকে পাঁচ বছরের কারাদণ্ড দেন। একই সঙ্গে তার ছেলে তারেক রহমানসহ আরও চারজনকে ১০ বছরের কারাদণ্ড দেওয়া হয়। ২৮ মার্চ দুদকের আবেদনে হাইকোর্ট খালেদা জিয়ার সাজা পাঁচ বছর থেকে বাড়িয়ে ১০ বছর করেন।
এছাড়া ২০১৮ সালের ২৯ অক্টোবর জিয়া চ্যারিটেবল ট্রাস্ট মামলায় খালেদা জিয়াকে সাত বছরের কারাদণ্ড এবং ১০ লাখ টাকা জরিমানা করেন ঢাকার বিশেষ জজ আদালত-৫। এই রায়ের বিরুদ্ধে হাইকোর্টে আপিল করেন খালেদা জিয়া এবং নিজ খরচে পেপারবুক তৈরির অনুমতি পান।
শেখ হাসিনা সরকারের পতনের পর রাষ্ট্রপতি খালেদা জিয়ার দণ্ড মওকুফ করেন, তবে তিনি ক্ষমা চাননি। বিএনপির আইনজীবীরা জানিয়েছেন, খালেদা জিয়া অপরাধ করেননি এবং বিষয়টি আইনের মাধ্যমে মোকাবিলা করতে আইনজীবীদের নির্দেশ দিয়েছেন।