শুক্রবার, ২৬ Jun ২০২৬, ০১:০০ অপরাহ্ন
নেত্রকোণার আলো ডটকম ডেস্ক:
সংবিধানে সংস্কারের মাধ্যমে জনগণের প্রতি পাঁচ বছর পর পর স্বাধীন ও সার্বভৌম ভোটাধিকার প্রয়োগ নিশ্চিত করা প্রয়োজন বলে মন্তব্য করেছেন অ্যাটর্নি জেনারেল মো. আসাদুজ্জামান। তিনি বলেন, “এটি নিশ্চিত করা গেলে সংবিধান প্রকৃত অর্থে সার্বভৌম হবে এবং দেশের মানুষের আশা-আকাঙ্ক্ষার প্রতিফলন ঘটবে।”
শনিবার রাজধানীতে আয়োজিত ‘খসড়া সংবিধানের প্রস্তাবনা’ শীর্ষক সেমিনারে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন। বিচারপতি সৈয়দ মোহাম্মদ দস্তগীর হোসেনের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে খসড়া সংবিধানের প্রস্তাব তুলে ধরেন ফোরামের সাবেক সভাপতি ও দৈনিক ইত্তেফাকের নির্বাহী সম্পাদক সালেহ উদ্দিন।
অ্যাটর্নি জেনারেল বলেন, “জনগণের ভোটাধিকার নিশ্চিত হলে আইনের শাসন, বিচার বিভাগের স্বাধীনতা এবং মৌলিক অধিকার প্রতিষ্ঠা সহজ হবে। কিন্তু সংবিধানে গরমিল থাকলে, যতবারই প্রতিষ্ঠানগুলো ঢেলে সাজানো হোক না কেন, তা কার্যকর হবে না।”
তিনি আরও বলেন, “বিপ্লবোত্তর বাংলাদেশে যেসব শহীদ তাদের রক্ত দিয়ে দেশকে গড়ে তুলেছেন, তাদের প্রতি শ্রদ্ধা জানাতে সংবিধানে সংশোধন আনা জরুরি। তবে সংবিধানের ৯৩ অনুচ্ছেদ অনুযায়ী বর্তমান পরিস্থিতিতে এই সংশোধন কতটা বাস্তবায়নযোগ্য, তা পর্যালোচনা করতে হবে।”
সেমিনারে বিভিন্ন বিশিষ্টজন সংবিধান সংস্কার ও প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নিয়ে তাদের মতামত তুলে ধরেন।
আপিল বিভাগের সাবেক বিচারপতি এম. এ. মতিন বলেন, “যারা জীবন দিয়েছেন, তাদের চাওয়া-পাওয়ার ভিত্তিতে রাজনৈতিক সমঝোতা ও সুষ্ঠু নির্বাচন আয়োজন করা উচিত।”
সুজন সম্পাদক বদিউল আলম মজুমদার বলেন, “পঞ্চদশ সংশোধনীর মাধ্যমে সংবিধান ও নির্বাচন ব্যবস্থাকে ক্ষতিগ্রস্ত করা হয়েছে। বিকেন্দ্রীকরণ ছাড়া শাসন ব্যবস্থা কার্যকর হবে না।”
ব্যারিস্টার সারা হোসেন বলেন, “সংবিধানের কিছু জায়গায় নতুন চিন্তা-ভাবনার প্রয়োজন আছে। মৌলিক অধিকার নিশ্চিত করতে ভবিষ্যতে কী করা যায়, তা নিয়ে ভাবা উচিত।”
অ্যাডভোকেট হাসনাত কাইয়ুম বলেন, “গত ৫৩ বছরে আমরা কার্যকর নির্বাচনি ব্যবস্থা তৈরি করতে ব্যর্থ হয়েছি। মৌলিক অধিকার নিশ্চিত না করলে কোনো ধরনের সংস্কারই সফল হবে না।”
সাংবাদিক কামাল আহমেদ বলেন, “রাজনীতিবিদেরা নাগরিকদের প্রজা মনে করেন। নাগরিকদের ক্ষমতা পুনরুদ্ধার না করা পর্যন্ত এ অবস্থার পরিবর্তন সম্ভব নয়।”
সেমিনারে উপস্থাপিত খসড়ায় বেশ কিছু গুরুত্বপূর্ণ প্রস্তাব তুলে ধরা হয়, যেমন: দ্বি-কক্ষ বিশিষ্ট আইনসভা প্রতিষ্ঠা। রাষ্ট্রপতি ও প্রধানমন্ত্রী পদে দুবারের বেশি কেউ নির্বাচিত হতে পারবেন না। তত্ত্বাবধায়ক সরকার ব্যবস্থা পুনর্বহাল।
নির্বাচন কমিশন ও বিচারক নিয়োগে সুপ্রিম জুডিশিয়াল কমিশন গঠন।
বক্তারা সংবিধান সংস্কারের মাধ্যমে জনগণের ভোটাধিকার নিশ্চিত করা এবং সুষ্ঠু নির্বাচনি ব্যবস্থার প্রয়োজনীয়তার ওপর জোর দিয়েছেন। গণতন্ত্র পুনঃপ্রতিষ্ঠা ও মৌলিক অধিকার সুরক্ষায় সংশোধনগুলো জরুরি বলে তারা মত প্রকাশ করেন।