শুক্রবার, ২৬ Jun ২০২৬, ০২:২৫ অপরাহ্ন
নিউজ ডেস্ক, নেত্রকোণার আলো ডটকম:
প্রধান উপদেষ্টা ড. মুহাম্মদ ইউনূস বলেছেন, “কোনো একটি দল বা অন্য একটি দলকে বেছে নেওয়ার জন্য আমি রাজনৈতিক ব্যক্তি নই। আমি রাজনীতিকদের আকাঙ্ক্ষাকে বাস্তবায়ন করতে সহায়তা করছি।”
ভারতীয় সংবাদমাধ্যম দ্য হিন্দু-কে দেওয়া এক বিশেষ সাক্ষাৎকারে ড. ইউনূস এসব কথা বলেছেন। রাজধানী ঢাকার প্রধান উপদেষ্টার বাসভবন যমুনায় এ সাক্ষাৎকার অনুষ্ঠিত হয় এবং সোমবার (১৯ নভেম্বর) সাক্ষাৎকারটি অনলাইনে প্রকাশিত হয়।
নির্বাচন প্রসঙ্গে মন্তব্য
সাক্ষাৎকারে আওয়ামী লীগের নির্বাচনে অংশগ্রহণ প্রসঙ্গে ড. ইউনূস বলেন, “আমরা কোনো রাজনৈতিক দলের বিষয়ে সিদ্ধান্ত নিতে চাইনি। বিএনপি ইতিমধ্যেই বলেছে, সব রাজনৈতিক দল অবশ্যই নির্বাচনে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করবে। আমরা দেশের একটি প্রধান দলের মতামতকে উপেক্ষা করতে পারি না।”
তিনি আরও উল্লেখ করেন, “কোনো একটি দলকে বেছে নেওয়া আমার উদ্দেশ্য নয়। আমি রাজনৈতিক দলগুলোর চাওয়া-পাওয়াকে বাস্তবে রূপ দিতে চাই।”
বাংলাদেশ-ভারত সম্পর্ক ও সংখ্যালঘু ইস্যু
ড. ইউনূস সংখ্যালঘু নির্যাতন নিয়ে বিভিন্ন প্রশ্নের জবাবে বলেন, “অনেক অপপ্রচার চলছে। কিন্তু যখন আন্তর্জাতিক সম্প্রদায় বাস্তবতা দেখবে, তখন তারা উপলব্ধি করবে যে বাংলাদেশ নিয়ে প্রচুর ভুল তথ্য ছড়ানো হয়েছে।”
তিনি প্রধানমন্ত্রী মোদির সঙ্গে তার কথোপকথনের প্রসঙ্গ টেনে বলেন, “আমি তাকে স্পষ্টভাবে জানিয়েছি যে এগুলো অপপ্রচার এবং বাস্তবতার সঙ্গে মেলে না। বাংলাদেশের সংখ্যালঘুরা এখানে নিরাপদ।”
সংবাদমাধ্যমের স্বাধীনতা ও রাজনৈতিক সহিংসতা
মানবাধিকার সংগঠন ‘অধিকার’-এর প্রতিবেদন নিয়ে প্রশ্নের জবাবে ড. ইউনূস বলেন, “মানুষ বিচার করবে যে এই সরকার ও অন্য সরকারের মধ্যে পার্থক্য কোথায়। আমরা সংবাদমাধ্যমের স্বাধীনতা নিশ্চিত করেছি এবং কোনো বিতর্ক থাকলে সেটি আইনি কাঠামোর মধ্যেই সমাধান করা উচিত।”
শেখ হাসিনার প্রত্যার্পণ ইস্যু
শেখ হাসিনাকে প্রত্যার্পণ নিয়ে প্রশ্নের জবাবে ড. ইউনূস বলেন, “আমরা সব আইনি প্রক্রিয়া অনুসরণ করছি। কিন্তু এখনো প্রত্যার্পণের আনুষ্ঠানিক ধাপে পৌঁছাইনি। ভারত-বাংলাদেশ চুক্তির ভিত্তিতে এ বিষয়ে আলোচনা হবে।”
তিনি আরও বলেন, “যদি ভারত চুক্তি লঙ্ঘন করে এবং রাজনৈতিক উদ্দেশ্যে তাকে আশ্রয় দেয়, তাহলে এটি দুই দেশের সম্পর্কের জন্য ভালো হবে না।”
ড. ইউনূস সাক্ষাৎকারের শেষ পর্যায়ে বলেন, “বাংলাদেশ একটি নতুন ধাপে এগিয়ে যাচ্ছে, যেটাকে আমরা ‘নতুন বাংলাদেশ’ বলি। আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের উচিত আমাদের অর্থনৈতিক ও সামাজিক উন্নয়নকে সমর্থন করা।”