শুক্রবার, ২৬ Jun ২০২৬, ০৪:৪৩ অপরাহ্ন
নেত্রকোণার আলো ডটকম ডেস্ক:
রাজধানীর সড়কে চলাচলকারী প্রতি চারটি বাসের মধ্যে একটি মেয়াদোত্তীর্ণ, যা পরিবহন খাতের মান ও নিরাপত্তার জন্য উদ্বেগজনক। বাংলাদেশ সড়ক পরিবহন কর্তৃপক্ষের (বিআরটিএ) তথ্য অনুসারে, ঢাকার ১১০টি রুটে চলা ৪,৫৪৬টি বাসের মধ্যে ১,০৫৩টি ২০ বছরের পুরোনো।
বিশেষজ্ঞরা বলছেন, মেয়াদোত্তীর্ণ এসব যানবাহন দ্রুত অপসারণে কার্যকর পদক্ষেপ এবং পুনর্ব্যবহার বন্ধ করতে একটি মোটরযান স্ক্র্যাপ নীতিমালা প্রণয়ন করা জরুরি।
২০১৮ সালের সড়ক পরিবহন আইনে বাস ও মিনিবাসের অর্থনৈতিক আয়ুষ্কাল ২০ বছর নির্ধারণের কথা উল্লেখ থাকলেও, এটি কার্যকরে সরকারের পদক্ষেপ বারবার থমকে গেছে। ২০২৩ সালে একটি প্রজ্ঞাপন জারি করে বাসের আয়ুষ্কাল ২০ বছর নির্ধারণ করা হয়েছিল, তবে সপ্তাহ না পেরোতেই তা বাতিল করা হয়।
বিআরটিএ’র পরিচালক শীতাংশু শেখর বিশ্বাস জানিয়েছেন, পুরোনো বাস সরিয়ে নিতে প্রজ্ঞাপন পুনঃবিবেচনার সিদ্ধান্ত হয়েছে। ২০২৫ সালের মে মাস থেকে ২০ বছরের পুরোনো যানবাহন সড়ক থেকে ডাম্পিংয়ের উদ্যোগ নেওয়া হবে।
বুয়েট দুর্ঘটনা গবেষণা ইনস্টিটিউটের সাবেক পরিচালক ড. মো. হাদিউজ্জামান বলেন, মেয়াদোত্তীর্ণ বাসের ফিটনেস ফিরিয়ে আনা আর্থিকভাবে টেকসই নয়। ফিটনেস পুনরুদ্ধারে ইঞ্জিন ও কাঠামোতে যে পরিবর্তন আনতে হবে, তা বাস মালিকদের জন্য ব্যয়বহুল।
গণপরিবহন বিশেষজ্ঞ মো. হুমায়ুন রশিদ খলিফা বলেন, অনেক মেয়াদোত্তীর্ণ বাস ইতোমধ্যে সড়ক থেকে উঠিয়ে দেওয়া হয়েছে, কিন্তু বিআরটিএ’র কাছে সঠিক হিসাব নেই। এ জন্য একটি কার্যকর স্ক্র্যাপ নীতিমালা অত্যন্ত প্রয়োজন।
বিশ্বের বিভিন্ন দেশে স্ক্র্যাপ নীতিমালা থাকলেও, বাংলাদেশে তা কার্যকর হয়নি। ২০২৩ সালে একটি খসড়া নীতিমালা তৈরি হলেও তা বাস্তবায়ন হয়নি।
বর্তমান বাস্তবতায় স্ক্র্যাপ নীতিমালা কার্যকর করে মেয়াদোত্তীর্ণ যানবাহন সড়ক থেকে সরিয়ে ফেলাই পরিবহন খাতের উন্নতির জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।