শুক্রবার, ২৬ Jun ২০২৬, ০৯:৪৫ অপরাহ্ন
আন্তর্জাতিক ডেস্ক, নেত্রকোণার আলো ডটকম:
সিরিয়ার উত্তর আলেপ্পো প্রদেশে সেনাবাহিনী ও বিদ্রোহী গোষ্ঠী হায়েত তাহরির আল-শাম (এইচটিএস)-এর মধ্যে ব্যাপক সংঘর্ষে প্রায় ১০০ জন নিহত হয়েছেন। বৃহস্পতিবার (২৮ নভেম্বর) আল জাজিরার এক প্রতিবেদনে এ তথ্য জানানো হয়।
প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, প্রেসিডেন্ট বাশার আল-আসাদের বাহিনীর নিয়ন্ত্রণে থাকা অন্তত ১০টি এলাকা এইচটিএস এবং তাদের মিত্র বাহিনী দখল করেছে। সংঘর্ষে নিহতদের মধ্যে ৪৪ জন এইচটিএস যোদ্ধা ও ১৬ জন মিত্র সশস্ত্র গোষ্ঠীর সদস্য। অন্যদিকে সিরিয়ার সেনাবাহিনীর ৩৭ জন সদস্য নিহত হয়েছেন, যাদের মধ্যে চারজন ছিলেন উচ্চপদস্থ কর্মকর্তা। শাসক বাহিনীর পাঁচজন সদস্যকে বন্দি করা হয়েছে।
সংঘর্ষে বিদ্রোহীরা সেনাবাহিনীর অস্ত্রাগার, সাঁজোয়া যান এবং ভারী অস্ত্র দখলে নিয়েছে। এ ছাড়া আলেপ্পোর বিভিন্ন এলাকায় সেনা অবস্থান লক্ষ্য করে শত শত শেল ও ক্ষেপণাস্ত্র নিক্ষেপ করেছে সিরিয়ার সেনাবাহিনী।
সিরিয়ান অবজারভেটরি ফর হিউম্যান রাইটস (এসওএইচআর) জানিয়েছে, সংঘর্ষে শিশুসহ বেসামরিক লোকজন হতাহত হয়েছেন। তারা আরো জানায়, এইচটিএস যোদ্ধারা আলেপ্পো শহরের উপকণ্ঠে প্রায় ১০ কিলোমিটার দূর পর্যন্ত অগ্রসর হয়েছে। নুবল ও জাহরা এলাকাগুলোতে ইরান সমর্থিত হিজবুল্লাহর শক্তিশালী উপস্থিতি থাকায় সেখানে উত্তেজনা আরো তীব্র হতে পারে।
সরকারি অবস্থান ও পালানোর ঢল
সরকারি সংবাদমাধ্যম এই সংঘর্ষের বিষয়ে কোনো তথ্য প্রকাশ না করলেও সরকারপন্থি ওয়েবসাইটগুলো দাবি করেছে, সেনাবাহিনী এইচটিএসের গোপন আস্তানায় হামলা চালিয়ে কয়েক ডজন যোদ্ধাকে হত্যা করেছে। Meanwhile, সিরিয়ার বিরোধী শিবিরের শেষ আশ্রয়স্থল আলেপ্পো থেকে শত শত পরিবার তুর্কি সীমান্তের দিকে পালিয়ে গেছে।
একসময় আল-কায়েদার সঙ্গে যুক্ত থাকা এইচটিএস বর্তমানে নিজেদের একটি স্বাধীন ব্র্যান্ড হিসেবে প্রতিষ্ঠা করেছে। তারা উত্তর-পশ্চিম সিরিয়ার সবচেয়ে শক্তিশালী বিদ্রোহী গোষ্ঠী হিসেবে নিজেদের অবস্থান দৃঢ় করেছে এবং সরকার ও রাশিয়ান বাহিনীর নিয়মিত লক্ষ্যবস্তুতে পরিণত হয়েছে।
সিরিয়ার চলমান সংকটে এই সংঘর্ষ দেশটির রাজনৈতিক ও মানবিক পরিস্থিতিকে আরো জটিল করে তুলেছে।