শুক্রবার, ২৬ Jun ২০২৬, ১১:৩৫ অপরাহ্ন
আন্তর্জাতিক ডেস্ক, নেত্রকোণার আলো ডটকম:
গাজার পরিস্থিতি ক্রমেই আরও বিপর্যস্ত হয়ে উঠছে। ইসরায়েলের লাগাতার হামলায় ফিলিস্তিনিদের মানবিক সংকট চরম আকার ধারণ করেছে। আলজাজিরার প্রতিবেদনে উল্লেখিত তথ্য অনুযায়ী, গাজার উত্তরাঞ্চলে বিশেষত বেইত লাহিয়া এবং আশেপাশের এলাকায় ইসরায়েলের বিমান হামলায় ১০০ জনেরও বেশি ফিলিস্তিনি নিহত হয়েছেন, যার মধ্যে শুধুমাত্র দুটি বাড়িতে নিহত হয়েছেন ৭৫ জন। ধ্বংসস্তূপের নিচে এখনও অসংখ্য মানুষ আটকা পড়ে আছেন, এবং তাদের উদ্ধারে স্থানীয়দের প্রচেষ্টা অব্যাহত রয়েছে।
ইসরায়েলের হামলায় এখন পর্যন্ত প্রায় ৪৪ হাজার ৩৬৩ ফিলিস্তিনি নিহত এবং এক লাখ পাঁচ হাজারেরও বেশি আহত হয়েছেন।
প্রায় ২০ লাখ মানুষ তাদের ঘরবাড়ি ছেড়ে বাস্তুচ্যুত হয়েছেন।
জাতিসংঘ জানিয়েছে, গাজার ৮৫% মানুষ বাস্তুচ্যুত অবস্থায় আছেন।
খাদ্য, পানি, ওষুধসহ মৌলিক চাহিদার তীব্র সংকটে ভুগছেন গাজার জনগণ।
প্রায় ৭০% অবকাঠামো সম্পূর্ণ বা আংশিকভাবে ধ্বংস হয়ে গেছে।
হাসপাতাল, স্কুল, মসজিদ, এবং শরণার্থী শিবিরগুলোর ওপর হামলায় গাজার প্রায় সব গুরুত্বপূর্ণ স্থাপনা ধ্বংসপ্রাপ্ত।
১০ হাজারের বেশি মানুষ ধ্বংসস্তূপের নিচে নিখোঁজ রয়েছেন।
আন্তর্জাতিক প্রতিক্রিয়া ও আহ্বান
জাতিসংঘসহ আন্তর্জাতিক সম্প্রদায় যুদ্ধবিরতির আহ্বান জানালেও ইসরায়েল হামলা অব্যাহত রেখেছে।
মানবাধিকার সংগঠনগুলো ইসরায়েলের এই কার্যক্রমকে গণহত্যা হিসেবে অভিহিত করেছে এবং আন্তর্জাতিক অপরাধ আদালতে তাদের বিরুদ্ধে অভিযোগ দায়ের করা হয়েছে।
পরিস্থিতি মোকাবিলায় করণীয়
অবিলম্বে যুদ্ধবিরতি কার্যকর করা।
আন্তর্জাতিক সহায়তা পৌঁছানোর ব্যবস্থা করা।
ধ্বংসস্তূপ থেকে আটকে থাকা মানুষদের উদ্ধারে আন্তর্জাতিক দল মোতায়েন।
মানবিক সহায়তা নিশ্চিত করে পুনর্বাসন কার্যক্রম শুরু করা।
গাজার এই সংকট শুধু একটি নির্দিষ্ট ভূখণ্ডের নয়, এটি বিশ্বব্যাপী মানবাধিকারের জন্য একটি বড় চ্যালেঞ্জ হয়ে দাঁড়িয়েছে। যুদ্ধবিরতি ও শান্তি প্রতিষ্ঠার লক্ষ্যে আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের দ্রুত পদক্ষেপ নেওয়া জরুরি।