শনিবার, ২৭ Jun ২০২৬, ১২:১১ পূর্বাহ্ন
নেত্রকোণার আলো ডটকম ডেস্ক:
ট্রান্সপারেন্সি ইন্টারন্যাশনাল বাংলাদেশ (টিআইবি) প্রকাশিত এক প্রতিবেদনে জানানো হয়েছে, ২০২৩ সালে পাসপোর্ট, বিআরটিএ এবং আইন-শৃঙ্খলা রক্ষাকারী সংস্থাগুলো ছিল দুর্নীতির শীর্ষে। মঙ্গলবার সকালে রাজধানীর মাইডাস সেন্টারে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে টিআইবির নির্বাহী পরিচালক ড. ইফতেখারুজ্জামানসহ গবেষক দলের সদস্যরা এই প্রতিবেদন উপস্থাপন করেন।
দুর্নীতির শিকার খানা: ২০২৩ সালে দেশে মোট খানার ৭০.৯ শতাংশ কোনো না কোনো ধরনের দুর্নীতির শিকার হয়েছে।
ঘুসের শিকার: মোট ৫০.৮ শতাংশ খানা ঘুস দিতে বাধ্য হয়েছে।
গড় ঘুসের পরিমাণ: প্রতি খানা গড়ে ৫,৬৮০ টাকা ঘুস দিয়েছে, যা বিচারিক সেবা, ভূমি সেবা এবং ব্যাংকিং খাতে সর্বোচ্চ।
জাতীয় ঘুসের পরিমাণ: ২০২৩ সালে প্রাক্কলিত মোট ঘুসের পরিমাণ ছিল প্রায় ১০,৯০২ কোটি টাকা, যা ২০২৩-২৪ অর্থবছরের বাজেটের ১.৪৩ শতাংশ এবং জিডিপির ০.২২ শতাংশ।
পাসপোর্ট সেবা: সবচেয়ে বেশি দুর্নীতি হয়েছে পাসপোর্ট খাতে।
বিআরটিএ: পরিবহন সেবা সংস্থাগুলোও ঘুস ও দুর্নীতির উচ্চমাত্রায় শীর্ষে।
বিচারিক সেবা ও আইন-শৃঙ্খলা রক্ষাকারী সংস্থা: ন্যায়বিচার প্রাপ্তি ও সুরক্ষায় বড় বাধা হয়ে উঠেছে।
২০০৯-২০২৪: এই সময়ে সেবাখাতে প্রাক্কলিত মোট ঘুসের পরিমাণ দাঁড়িয়েছে ১ লাখ ৪৬ হাজার ২৫২ কোটি টাকা।
বিচারিক সেবা, ভূমি সেবা, পাসপোর্ট এবং বিআরটিএ’র দুর্নীতি মানুষের মৌলিক সেবা প্রাপ্তি এবং ন্যায়বিচারের অধিকারকে বাধাগ্রস্ত করছে।
টিআইবির প্রতিবেদনে সেবাখাতগুলোর দুর্নীতি ও ঘুস সমস্যার প্রকট চিত্র তুলে ধরা হয়েছে। বিশেষ করে পাসপোর্ট, বিআরটিএ এবং বিচারিক সেবা খাতে দুর্নীতি জনগণের জীবনকে বিপর্যস্ত করছে। টিআইবি এই খাতগুলোর শুদ্ধাচার নিশ্চিত করার জন্য সরকার এবং সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের কার্যকর পদক্ষেপ গ্রহণের আহ্বান জানিয়েছে।