রবিবার, ২১ Jun ২০২৬, ১১:০২ পূর্বাহ্ন
অনলাইন ডেস্ক, নেত্রকোণার আলো ডটকম:
শেরপুর জেলার শত বছরের ঐতিহ্যবাহী খাবার ছানার পায়েস, যা অনেকের কাছে রসমালাই নামে পরিচিত, পেয়েছে ভৌগোলিক নির্দেশক (জিআই) পণ্যের স্বীকৃতি।
গতকাল (বৃহস্পতিবার) দুপুরে জেলা প্রশাসক তরফদার মাহমুদুর রহমান এই তথ্য নিশ্চিত করেন। শেরপুরের তুলসীমালা ধানের পর এবার জেলার এই ঐতিহ্যবাহী খাবার জিআই পণ্য হিসেবে স্বীকৃত হলো।
জানা যায়, চলতি বছরের ১৫ ফেব্রুয়ারি ছানার পায়েসকে জিআই পণ্য হিসেবে স্বীকৃতির জন্য আবেদন করে শেরপুর জেলা প্রশাসন। আবেদন পর্যালোচনা শেষে শিল্প মন্ত্রণালয়ের অধীন পেটেন্ট, ডিজাইন ও ট্রেডমার্কস অধিদপ্তরের মহাপরিচালক মো. মুনিম হাসান স্বাক্ষরিত চিঠির মাধ্যমে চূড়ান্ত অনুমোদন দেওয়া হয়।
জেলা প্রশাসন সূত্রে জানা গেছে, আন্তর্জাতিক মেধাস্বত্ব সংস্থা ডব্লিউআইপিওর (WIPO) নিয়ম অনুযায়ী, পেটেন্ট, ডিজাইন ও ট্রেডমার্ক অধিদপ্তর (ডিপিডিটি) এই স্বীকৃতি প্রদান করে। জিআই পণ্যের স্বীকৃতি পেতে হলে আবেদনকারীকে প্রমাণ করতে হয় যে পণ্যটি নির্দিষ্ট অঞ্চলের সাথে অঙ্গাঙ্গিভাবে জড়িত এবং মৌলিকভাবে তা অনন্য।
জিআই স্বীকৃতি পাওয়ার খবর জানার পর শেরপুরে ব্যাপক উচ্ছ্বাস দেখা গেছে। জেলা প্রশাসকের কার্যালয়ে মিষ্টি বিতরণ করা হয়। “আওয়ার জেলা”র প্রতিষ্ঠাতা দেলোয়ার হোসাইন বলেন, “জেলাবাসীর প্রাণের দাবি পূরণ হলো। শেরপুরের ছানার পায়েস এখন আন্তর্জাতিক পর্যায়ে পরিচিতি পাবে।”
অনুরাধা মিষ্টান্ন ভাণ্ডারের স্বত্বাধিকারী বাপ্পি দে জানান, “এই স্বীকৃতি শুধু শেরপুরের গৌরবই নয়, দেশের অর্থনীতিতেও ভূমিকা রাখবে। ছানার পায়েস এখন বিদেশে রপ্তানি হলে বৈদেশিক মুদ্রা অর্জিত হবে।”
জেলা প্রশাসক বলেন, “ছানার পায়েস জিআই পণ্য হিসেবে স্বীকৃতি পাওয়ায় শেরপুরের অর্থনীতিতে ইতিবাচক প্রভাব পড়বে। সরকারের অনুমতি সাপেক্ষে এই পণ্য আন্তর্জাতিক বাজারে রপ্তানির পরিকল্পনা রয়েছে।”
এই স্বীকৃতির মাধ্যমে ছানার পায়েস শুধু শেরপুরের নয়, পুরো দেশের গর্ব হয়ে উঠেছে।