শনিবার, ২৭ Jun ২০২৬, ০৩:৪৩ পূর্বাহ্ন
আন্তর্জাতিক ডেস্ক, নেত্রকোণার আলো ডটকম:
বাংলাদেশ পাকিস্তানি নাগরিকদের জন্য ভিসা পাওয়ার ক্ষেত্রে নিরাপত্তা ছাড়পোত্র (সিকিউরিটি ক্লিয়ারেন্স) প্রয়োজনীয়তা তুলে নিয়েছে। ২০১৯ সালে বাংলাদেশ-পাকিস্তান সম্পর্কের টানাপোড়েন এবং নিরাপত্তা উদ্বেগের প্রেক্ষিতে এই শর্তটি যোগ করা হয়েছিল। তবে ২০২৪ সালের ২ ডিসেম্বর বাংলাদেশের স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় এই শর্ত তুলে নেওয়ার ঘোষণা দেয়।
এ পদক্ষেপ বাংলাদেশের নতুন কূটনৈতিক এবং রাজনৈতিক দৃষ্টিভঙ্গির ইঙ্গিত দেয় বলে ধারণা করা হচ্ছে। ৭ ডিসেম্বর ভারতীয় গণমাধ্যম এনডিটিভির এক প্রতিবেদনে এ তথ্য জানানো হয়েছে।
এটি একটি বড় পরিবর্তন, বিশেষ করে পাকিস্তানের হাই-কমিশনার সৈয়দ আহমেদ মারুফের ঢাকা সফরের পর, যেখানে তিনি বিএনপি নেত্রী খালেদা জিয়ার সঙ্গে সাক্ষাৎ করেন। এছাড়াও, বাংলাদেশ সরকার সম্প্রতি করাচি থেকে চট্টগ্রামে সরাসরি কার্গো জাহাজ চলাচলের অনুমতি দিয়েছে, যা দুই দেশের সম্পর্কের উন্নতির আরেকটি দৃষ্টান্ত।
ভারতীয় বিশেষজ্ঞরা মনে করছেন, বাংলাদেশ-পাকিস্তান সম্পর্কের এই নতুন দৃষ্টিভঙ্গি উত্তর-পূর্ব ভারতের নিরাপত্তার জন্য উদ্বেগের কারণ হয়ে দাঁড়াতে পারে। তারা আশঙ্কা করছেন যে, এটি ভারত-বাংলাদেশ সম্পর্কের উপর প্রভাব ফেলতে পারে এবং বাংলাদেশের ভূ-রাজনৈতিক অবস্থানকে নতুনভাবে শেপ দিতে পারে।
সিডনি পলিসি অ্যান্ড অ্যানালাইসিস সেন্টারের নির্বাহী পরিচালক মুবাশার হাসান বলেছেন, বাংলাদেশ এখন পাকিস্তানের সঙ্গে সম্পর্ক স্বাভাবিক করার মাধ্যমে দক্ষিণ এশিয়ার রাজনীতির ভারতকেন্দ্রিক দৃষ্টিভঙ্গি পরিত্যাগ করছে। তবে এটি বাংলাদেশের জন্য দীর্ঘমেয়াদে কতটা কার্যকর হবে, তা নিয়ে প্রশ্ন থেকে যায়।
বিশেষজ্ঞরা ভারতীয় প্রতিবেশী নীতিতে ফাঁকফোকর স্পষ্ট হয়ে ওঠার কথা বলছেন। বাংলাদেশ সরকার ভারতের সঙ্গে বন্ধুত্বপূর্ণ সম্পর্ক রাখতে চাইলেও ভারতের পক্ষ থেকে তেমন কোনো প্রতিক্রিয়া দেখা যাচ্ছে না।
এই পরিস্থিতি দক্ষিণ এশিয়ার ভূরাজনীতি ও নিরাপত্তায় বড় পরিবর্তন আনতে পারে। বিশেষত, বাংলাদেশ-পাকিস্তান সম্পর্কের কারণে ভারতের উত্তর-পূর্ব অঞ্চলে চরমপন্থি গোষ্ঠীগুলোর কার্যক্রম বেড়ে যাওয়ার আশঙ্কা রয়েছে। বাংলাদেশ সরকারের এই পদক্ষেপ ভারতের জন্য এক নিরাপত্তা চ্যালেঞ্জ হতে পারে।