শনিবার, ২৭ Jun ২০২৬, ০৪:১৩ পূর্বাহ্ন
আন্তর্জাতিক ডেস্ক, নেত্রকোণার আলো ডটকম:
সিরিয়ার প্রেসিডেন্ট বাশার আল-আসাদ দেশ ছেড়ে পালিয়েছেন। রাজধানী দামেস্কে বিদ্রোহীরা প্রবেশ করার পর আজ সকালে ব্যক্তিগত উড়োজাহাজে করে দেশ ছাড়েন তিনি। ধরে এই কারাগার এখন খুলে দেওয়া হয়েছে।
সিরিয়ার বিদ্রোহী যোদ্ধারা দেশটির তৃতীয় বৃহত্তম শহর হোমস দখলের পর কোনো প্রতিরোধ ছাড়াই রোববার রাজধানী দামেস্কে প্রবেশ করেছে। রাজধানী প্রবেশের কয়েক ঘণ্টার মধ্যেই বিদ্রোহীরা ঘোষণা দিয়েছে, প্রেসিডেন্ট বাশার আল আসাদ সরকারের পতন ঘটেছে।
বিদ্রোহীদের এই ঘোষণা আসাদ পরিবারের পাঁচ দশকের শাসনামলের অবসান বলে মনে করা হচ্ছে। বার্তা সংস্থা এএফপি ও রয়টার্সের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, বিদ্রোহীদের দামেস্ক দখলের মুখে প্রেসিডেন্ট বাশার আল-আসাদ অজ্ঞাত স্থানে পালিয়ে গেছেন।
২০১১ সালে আরব বসন্তের জেরে শুরু হওয়া বিক্ষোভ থেকে ক্রমেই গৃহযুদ্ধে রূপ নেয় সিরিয়ার সংকট। রাশিয়া ও ইরানের সমর্থনে আসাদ দীর্ঘদিন ধরে ক্ষমতায় টিকে থাকলেও সাম্প্রতিক সপ্তাহে বিদ্রোহীদের নতুন আক্রমণে একের পর এক গুরুত্বপূর্ণ শহরের নিয়ন্ত্রণ হারিয়েছে সরকারি বাহিনী।
রোববার বিদ্রোহী দলগুলো টেলিগ্রামে বার্তা দিয়ে জানায়, “বাথ শাসনের অধীনে ৫০ বছরের নিপীড়নের পর, এবং ১৩ বছরের অপরাধ, অত্যাচার ও জোরপূর্বক বাস্তুচ্যুতির অবসান ঘটিয়ে আমরা আজ সিরিয়ার জন্য একটি নতুন যুগের সূচনা ঘোষণা করছি।”
হোমসে উল্লাস
বিদ্রোহীদের দখলে হোমস চলে যাওয়ার পর হাজারো মানুষ রাস্তায় নেমে আসেন। তারা নাচ-গান আর স্লোগানে উল্লাস প্রকাশ করেন। স্লোগানে শোনা যায়, “আসাদ শেষ, হোমস মুক্ত” এবং “সিরিয়া দীর্ঘজীবী হোক, আসাদ নিপাত যাক।” বিদ্রোহীরা আকাশে গুলি ছুঁড়ে তাদের আনন্দ প্রকাশ করে।
কারাগার মুক্তি ও বিদ্রোহীদের অগ্রগতি
বিদ্রোহীরা দামেস্কের উত্তরে কুখ্যাত সাইদনায়া সামরিক কারাগারে প্রবেশ করে বন্দিদের মুক্ত করেছে। ব্রিটেন-ভিত্তিক সিরিয়ান অবজারভেটরি ফর হিউম্যান রাইটস জানিয়েছে, সরকারি বাহিনীর সদস্যরা রাজধানীর আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর ছেড়ে চলে গেছে। শহরের বিভিন্ন স্থানে গুলির শব্দ শুনেছে স্থানীয় বাসিন্দারা।
আসাদ পরিবারের শাসনের ইতিহাস
১৯৭০ সালে সামরিক অভ্যুত্থানের মাধ্যমে সিরিয়ার ক্ষমতায় আসেন জেনারেল হাফিজ আল আসাদ। তিনি তিন দশকের বেশি সময় শক্ত হাতে দেশ শাসন করেন এবং আলাওয়ি সম্প্রদায়ের হাতে ক্ষমতা কেন্দ্রীভূত করেন। ২০০০ সালে হাফিজের মৃত্যু হলে তার ছোট ছেলে বাশার আল আসাদ ক্ষমতায় আসেন। প্রায় দুই দশক ধরে স্বৈরাচারী শাসন চালিয়ে দেশটিকে একক নিয়ন্ত্রণে রাখেন তিনি।
বিদ্রোহীদের সাম্প্রতিক বিজয়ে পাঁচ দশকের এই শাসনের সমাপ্তি ঘটেছে বলে মনে করা হচ্ছে।