বৃহস্পতিবার, ২১ মে ২০২৬, ০৫:৪২ পূর্বাহ্ন
নিউজ ডেস্ক, নেত্রকোণার আলো ডটকম:
রাজধানীর পল্লবীতে দ্বিতীয় শ্রেণির শিক্ষার্থী রামিসা আক্তার (৭) হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় গ্রেফতার প্রধান আসামি জাকির হোসেন ওরফে সোহেল রানাকে নিয়ে গা শিউরে ওঠার মতো তথ্য দিয়েছেন তার স্ত্রী স্বপ্না। পুলিশের জিজ্ঞাসাবাদে স্বপ্না জানিয়েছেন, জাকির চরম বিকৃত যৌনরুচিসম্পন্ন ব্যক্তি এবং তিনি নিজেও দীর্ঘদিন ধরে তার পাশবিক নির্যাতনের শিকার হয়ে আসছিলেন।
গত মঙ্গলবার (১৯ মে) সকালে পল্লবীর একটি ফ্ল্যাটের খাটের নিচ থেকে রামিসার মস্তকবিহীন দেহ এবং বাথরুম থেকে তার বিচ্ছিন্ন মাথা উদ্ধার করে পুলিশ। তদন্ত কর্মকর্তারা ধারণা করছেন, শিশুটিকে বিকৃত যৌন নির্যাতন বা ধর্ষণ করার পর ঘটনা ধামাচাপা দিতে শ্বাসরোধে হত্যা করা হয়। পরে লাশ গুমের উদ্দেশ্যে মাথা ও হাত কেটে বিচ্ছিন্ন করা হয়। ঢাকা মেট্রোপলিটন পুলিশের (ডিএমপি) অতিরিক্ত কমিশনার এস এন নজরুল ইসলাম জানান, ময়নাতদন্ত ও কেমিক্যাল পরীক্ষার রিপোর্ট এলে বিষয়টি পুরোপুরি নিশ্চিত হওয়া যাবে।
পুলিশ আরও জানায়, ঘটনার দিন সকালে রামিসাকে খুঁজে না পেয়ে তার মা ওই ফ্ল্যাটের সামনে শিশুর স্যান্ডেল দেখে দরজায় নক করেন। ঠিক তখনই ভেতরে হত্যাকাণ্ড চলছিল। ঘাতক জাকিরকে জানালার গ্রিল কেটে পালিয়ে যাওয়ার সুযোগ করে দিতেই তার স্ত্রী স্বপ্না দীর্ঘক্ষণ দরজা খোলেননি। জাকির পালিয়ে যাওয়ার পর স্বপ্না দরজা খোলেন। ঘটনার পর ফ্ল্যাট থেকে স্বপ্নাকে এবং পরবর্তীতে তথ্যপ্রযুক্তির সহায়তায় নারায়ণগঞ্জ থেকে বিকাশ কাউন্টার থেকে টাকা তোলার সময় জাকিরকে গ্রেফতার করা হয়। এই নৃশংস হত্যাকাণ্ডে স্বপ্নাকেও সহযোগী হিসেবে সন্দেহ করছে পুলিশ।