বৃহস্পতিবার, ২৫ Jun ২০২৬, ০৫:৪৯ অপরাহ্ন
নিউজ ডেস্ক, নেত্রকোণার আলো ডটকম:
যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে চলমান শান্তি আলোচনা নিয়ে বিনিয়োগকারীদের সংশয় বাড়ায় আন্তর্জাতিক বাজারে অপরিশোধিত তেলের দাম আবারও বেড়েছে। তবে সপ্তাহজুড়ে ব্যাপক ওঠানামার কারণে সামগ্রিকভাবে ব্রেন্ট ও ডব্লিউটিআই—দুই ধরনের তেলই সাপ্তাহিক হিসাবে লোকসানের মুখে রয়েছে।
চলতি সপ্তাহের বাজারচিত্র
বৃহস্পতিবার রয়টার্সের প্রতিবেদন অনুযায়ী, আন্তর্জাতিক বাজারে তেলের দামের বর্তমান অবস্থা:
ব্রেন্ট ক্রুড: ব্যারেলপ্রতি ১.৬% বেড়ে ১০৪.২৪ ডলারে দাঁড়িয়েছে (তবে সপ্তাহে কমেছে ৪.৬%)।
ডব্লিউটিআই (WTI): ১.২% বেড়ে হয়েছে ৯৭.৪৬ ডলার (তবে সপ্তাহে কমেছে ৭.৬%)।
শান্তি আলোচনা ও ভূরাজনীতি
যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের চুক্তি নিয়ে বাজারে আশা-নিরাশার দোলাচলের কারণেই এই অস্থিরতা। ইরানের এক জ্যেষ্ঠ কর্মকর্তা আলোচনায় অগ্রগতির কথা জানিয়েছেন। অন্যদিকে মার্কিন পররাষ্ট্রমন্ত্রী মার্কো রুবিও কিছু “ইতিবাচক সংকেত” থাকার কথা উল্লেখ করেছেন। তবে তেহরানের ইউরেনিয়াম মজুত এবং হরমুজ প্রণালির নিয়ন্ত্রণ নিয়ে দুই দেশের বড় মতবিরোধ এখনও কাটেনি।
সরবরাহ সংকট ও ভবিষ্যৎ পূর্বাভাস
যুদ্ধের আগে বিশ্বের প্রায় ২০% জ্বালানি হরমুজ প্রণালি দিয়ে পরিবাহিত হতো। সংঘাতের কারণে বর্তমানে প্রতিদিন প্রায় ১ কোটি ৪০ লাখ ব্যারেল (বৈশ্বিক সরবরাহের ১৪%) তেল বাজার থেকে কমে গেছে। সংযুক্ত আরব আমিরাতের রাষ্ট্রীয় তেল কোম্পানি ADNOC জানিয়েছে, যুদ্ধ এখনই শেষ হলেও ২০২৭ সালের মাঝামাঝির আগে হরমুজ প্রণালিতে তেল পরিবহন স্বাভাবিক হবে না।
ক্যাপিটাল ইকোনমিকস–এর প্রধান পণ্য বিশ্লেষক ডেভিড অক্সলি জানান, বাজারের মৌলিক অবস্থার উন্নতি না হলে ২০২৭ সাল পর্যন্ত তেলের দাম কমার সম্ভাবনা কম। এদিকে আগামী ৭ জুন OPEC+ বৈঠকে বসছে, যেখানে জুলাই মাসের জন্য তেল উৎপাদন কিছুটা বাড়ানোর সিদ্ধান্ত আসতে পারে।