সোমবার, ০৮ Jun ২০২৬, ০৮:৫৭ অপরাহ্ন
নিউজ ডেস্ক, নেত্রকোণার আলো ডটকম:
মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের যুদ্ধবিরতির অনুরোধ উপেক্ষা করে ইরান ও ইসরায়েলের মধ্যে শুরু হয়েছে দফায় দফায় ক্ষেপণাস্ত্র যুদ্ধ। মাত্র কয়েক ঘণ্টার ব্যবধানে দুই দেশ একে অপরের ভূখণ্ড লক্ষ্য করে ভয়াবহ বিমান ও ক্ষেপণাস্ত্র হামলা চালিয়েছে। সোমবার (৮ জুন) সকালে ইরানে ইসরায়েলি বিমান হামলার জবাবে ইসরায়েলের দিকে নতুন করে ক্ষেপণাস্ত্র ছোড়ে তেহরান। একই সময়ে ইয়েমেন থেকেও ইসরায়েলকে লক্ষ্য করে ক্ষেপণাস্ত্র নিক্ষেপ করা হয়েছে।
ইসরায়েলি প্রতিরক্ষা বাহিনী (আইডিএফ) জানিয়েছে, ইরানের ক্ষেপণাস্ত্রগুলো শনাক্ত করে তাদের আকাশ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা সক্রিয়ভাবে কাজ করছে। ইসরায়েলি সংবাদমাধ্যম ‘চ্যানেল ১২’ জেরিকো এলাকায় ক্ষেপণাস্ত্র প্রতিহতের পর জ্বলন্ত ধ্বংসাবশেষ আকাশ থেকে ভেঙে পড়ার ছবি প্রকাশ করেছে। প্রত্যক্ষদর্শীরা জেরুজালেম ও মধ্য ইসরায়েলে বিস্ফোরণের শব্দ শোনার কথা জানিয়েছেন এবং দেশের দক্ষিণাঞ্চলেও সতর্কতামূলক সাইরেন বাজানো হয়েছে। তবে ইসরায়েলের জরুরি চিকিৎসাসেবা সংস্থা জানিয়েছে, এখন পর্যন্ত কোনো নাগরিক হতাহত হননি।
এর আগে রবিবার রাতে লেবাননের বৈরুতে হামলার প্রতিবাদে ইসরায়েলে ১০টি ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র ছুড়েছিল ইরান। তখন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ইরানকে আলোচনার টেবিলে ফেরার আহ্বান জানান এবং ইসরায়েলকে পাল্টা হামলা থেকে বিরত থাকতে বলেন। কিন্তু সেই অনুরোধ উপেক্ষা করে সোমবার সকালে আকাশ থেকে নিক্ষেপযোগ্য ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র দিয়ে ইরানে আঘাত হানে ইসরায়েল।
এই হামলার পর ওয়াশিংটনে নিযুক্ত ইসরায়েলি রাষ্ট্রদূত ইয়েচিয়েল লেইটার বলেন, “কোনো আত্মমর্যাদাশীল রাষ্ট্র নিজের ওপর এমন ক্ষেপণাস্ত্র হামলা নীরবে সহ্য করবে না।” অন্যদিকে, ইসরায়েলে নিযুক্ত নবনিযুক্ত মার্কিন রাষ্ট্রদূত এই হামলার তীব্র নিন্দা জানিয়ে বলেন, “ইরান ও তাদের প্রক্সি চক্র যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলকে মানচিত্র থেকে মুছে ফেলতে চায়।” পাল্টাপাল্টি এই হামলায় পুরো মধ্যপ্রাচ্য এখন রণক্ষেত্রে পরিণত হয়েছে।