শনিবার, ০৮ অগাস্ট ২০২৬, ০৭:২৮ অপরাহ্ন
নিউজ ডেস্ক, নেত্রকোণার আলো ডটকম:
ঢাকা: দীর্ঘ তিন মাসব্যাপী সংঘাতের পর অবশেষে মধ্যপ্রাচ্যে শান্তির সুবাতাস বইতে শুরু করেছে। যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে যুদ্ধ অবসান এবং হরমুজ প্রণালি পুনরায় খুলে দেওয়ার লক্ষ্যে একটি ঐতিহাসিক সমঝোতা স্মারক (এমওইউ) স্বাক্ষরিত হয়েছে। মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প জানিয়েছেন, ইলেকট্রনিকভাবে এই চুক্তি সম্পন্ন হয়েছে এবং আগামী শুক্রবারের মধ্যে গুরুত্বপূর্ণ এই আন্তর্জাতিক নৌপথটি পুরোপুরি উন্মুক্ত করা হবে।
আন্তর্জাতিক গণমাধ্যমের তথ্য অনুযায়ী, এই সমঝোতার ফলে মধ্যপ্রাচ্যের চলমান উত্তেজনা প্রশমনের নতুন আশা তৈরি হয়েছে। সদ্য সমাপ্ত জি-৭ সম্মেলনেও বিষয়টি অত্যন্ত গুরুত্বের সাথে আলোচিত হয়েছে এবং বিশ্বনেতারা এই অগ্রগতিকে স্বাগত জানিয়েছেন।
এদিকে ইরানি গণমাধ্যম জানিয়েছে, মার্কিন নৌ অবরোধ প্রত্যাহারের পরপরই তিনটি ইরানি তেলবাহী ট্যাংকার ও দুটি পণ্যবাহী জাহাজ ইতিমধ্যেই হরমুজ প্রণালি অতিক্রম করেছে। এর ফলে আন্তর্জাতিক জ্বালানি বাজার ও বাণিজ্যিক নৌপথে দ্রুত স্বাভাবিকতা ফিরবে বলে আশা করা হচ্ছে।
তবে এই বড় কূটনৈতিক সাফল্যের মধ্যেও পুরো অঞ্চলের নিরাপত্তা পরিস্থিতি এখনো পুরোপুরি স্বাভাবিক হয়নি। ইসরাইলের প্রধানমন্ত্রী বেঞ্জামিন নেতানিয়াহু স্পষ্ট জানিয়েছেন, এই চুক্তির পরও দক্ষিণ লেবাননে ইসরাইলি সেনাদের অবস্থান ও সামরিক কার্যক্রম অব্যাহত থাকবে।
শান্তি চুক্তির খবরে দক্ষিণ লেবাননের বাস্তুচ্যুত মানুষজন নিজেদের ঘরবাড়িতে ফিরতে শুরু করলেও, ওই এলাকায় এখনো ইসরাইলি বাহিনী ও হিজবুল্লাহর মধ্যে বিচ্ছিন্ন গোলাগুলির খবর পাওয়া যাচ্ছে। রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, এই সমঝোতা মধ্যপ্রাচ্যের রাজনীতিতে বড় প্রভাব ফেলবে। তবে দক্ষিণ লেবাননের মতো সংঘাতপ্রবণ পকেটগুলোতে উত্তেজনা বজায় থাকায় স্থায়ী শান্তি প্রতিষ্ঠার পথ এখনো বেশ চ্যালেঞ্জিং।