বৃহস্পতিবার, ১৮ Jun ২০২৬, ১১:২৮ অপরাহ্ন
নিউজ ডেস্ক, নেত্রকোণার আলো ডটকম:
দীর্ঘ উত্তেজনা ও সংঘাতের অবসান ঘটিয়ে অবশেষে সমঝোতার পথে হাঁটল যুক্তরাষ্ট্র ও ইরান। দুই দেশের মধ্যে স্বাক্ষরিত একটি সমঝোতা স্মারক ইতোমধ্যে কার্যকর হয়েছে। এর ফলে বিশ্বের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ নৌপথ ‘হরমুজ প্রণালি’ আবারও বাণিজ্যিক জাহাজ চলাচলের জন্য খুলে দেওয়ার প্রক্রিয়া শুরু হয়েছে। যুদ্ধের কারণে এই পথটি বন্ধ থাকায় বিশ্ববাজারে জ্বালানি তেলের দামে বড় অস্থিরতা তৈরি হয়েছিল।
আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যম বিবিসি জানিয়েছে, এই সমঝোতা বড় অগ্রগতি হলেও পারমাণবিক কর্মসূচি, নিষেধাজ্ঞা প্রত্যাহার ও আঞ্চলিক নিরাপত্তার মতো প্রধান বিষয়গুলো এখনো চূড়ান্ত নিষ্পত্তি হয়নি। সমঝোতা অনুযায়ী, আগামী ৬০ দিনের মধ্যে উভয় দেশ একটি পূর্ণাঙ্গ ও স্থায়ী চুক্তির লক্ষ্যে আলোচনা চালাবে।
চুক্তির মূল শর্তসমূহ:
ইউরেনিয়াম নিয়ন্ত্রণ: ইরান তার উচ্চমাত্রায় সমৃদ্ধ ইউরেনিয়ামের মজুত আন্তর্জাতিক পরমাণু শক্তি সংস্থার (IAEA) তত্ত্বাবধানে কম সমৃদ্ধ পর্যায়ে নামিয়ে আনতে সম্মত হয়েছে।
অর্থনৈতিক পরিকল্পনা: ইরানের পুনর্গঠনে ৩০০ বিলিয়ন ডলারের একটি পরিকল্পনা রয়েছে। মার্কিন কর্মকর্তাদের দাবি, এই অর্থ যুক্তরাষ্ট্র সরাসরি দেবে না, বরং আঞ্চলিক অংশীদারদের মাধ্যমে উন্নয়ন প্রকল্প হিসেবে আসবে।
নিষেধাজ্ঞা প্রত্যাহার: যুক্তরাষ্ট্র ধাপে ধাপে ইরানের ওপর থেকে অর্থনৈতিক নিষেধাজ্ঞা তুলে নেওয়ার এবং আটকে থাকা কিছু অর্থ ছাড়ের বিষয়ে কাজ করবে।
লেবানন প্রসঙ্গ: উভয় পক্ষই লেবাননের সার্বভৌমত্বকে সম্মান জানাবে এবং নতুন করে কোনো সামরিক অভিযান চালাবে না।
তবে এই চুক্তি নিয়ে যুক্তরাষ্ট্রের ভেতরে বিতর্ক শুরু হয়েছে। কয়েকজন রিপাবলিকান নেতার অভিযোগ—ইরানের কাছ থেকে পর্যাপ্ত ছাড় না নিয়েই ওয়াশিংটন সুবিধা বেশি দিয়েছে। অবশ্য মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প সতর্ক করে দিয়ে বলেছেন, ৬০ দিনের মধ্যে চূড়ান্ত চুক্তি না হলে আলোচনা যেমন চালানো যাবে, তেমনই আলোচনা ব্যর্থ হলে আবারও সামরিক পদক্ষেপের পথ খোলা থাকবে। পরবর্তী দুই মাসের আলোচনার ওপরই এখন নজর বিশ্বরাজনীতির।