সোমবার, ২৯ Jun ২০২৬, ০১:০৮ অপরাহ্ন
নিউজ ডেস্ক, নেত্রকোণার আলো ডটকম:
মধ্যপ্রাচ্যে চরম উত্তেজনার মাঝেই নতুন করে শান্তি আলোচনায় বসতে সম্মত হয়েছে ইরান ও যুক্তরাষ্ট্র। হরমুজ প্রণালিতে বিরোধ নিষ্পত্তি ও সাময়িক হামলা বন্ধে দুই পক্ষ রাজি হয়েছে বলে নিশ্চিত করেছেন এক শীর্ষ মার্কিন কর্মকর্তা। আগামী মঙ্গলবার কাতারে এই বিষয়ে পরবর্তী দ্বিপাক্ষিক বৈঠক অনুষ্ঠিত হওয়ার কথা রয়েছে।
গত ১৭ জুন স্বাক্ষরিত ১৪ দফার অন্তর্বর্তীকালীন যুদ্ধবিরতি চুক্তিকে ভিত্তি করেই এই কারিগরি আলোচনা এগিয়ে নেওয়া হবে। নতুন এই সিদ্ধান্ত অনুযায়ী, আপাতত উভয় দেশই সব ধরনের সামরিক উসকানি ও পাল্টা হামলা থেকে বিরত থাকবে। একই সাথে বিশ্ব বাণিজ্যের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ রুট ‘হরমুজ প্রণালি’ দিয়ে আন্তর্জাতিক জাহাজ চলাচল স্বাভাবিক রাখার বিষয়েও একমত হয়েছে দুই দেশ।
এর আগে, গত বৃহস্পতিবার হরমুজ প্রণালিতে একটি পণ্যবাহী জাহাজে ইরান প্রজেক্টাইল নিক্ষেপ করলে নতুন করে সংঘাতের সূত্রপাত হয়। এর জের ধরে রোববার ভোরে কুয়েত ও বাহরাইনে অবস্থিত মার্কিন সামরিক ঘাঁটি লক্ষ্য করে ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন হামলা চালায় ইরানের ইসলামিক রেভল্যুশনারি গার্ড কর্পস (আইআরজিসি)। হামলার কিছুক্ষণ আগেই মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে হুশিয়ারি দিয়ে লিখেছিলেন, “ইরান চুক্তি না মানলে তাদের অস্তিত্ব থাকবে না।”
অবশ্য রয়টার্সকে দেওয়া মার্কিন কর্মকর্তার তথ্যমতে, ইরানের এই হামলায় কোনো মার্কিন সেনা হতাহত বা বড় ক্ষয়ক্ষতি হয়নি। তবে বাহরাইনের আবাসিক এলাকায় ড্রোন আঘাত হানায় দেশটি জাতিসংঘের নিরাপত্তা পরিষদের জরুরি বৈঠক দাবি করেছে। অন্যদিকে কুয়েত দুটি ক্ষেপণাস্ত্র সফলভাবে ভূপাতিত করার দাবি করেছে। এই সামরিক তৎপরতার মাঝে কাতার তাদের এক নাগরিকের মৃত্যুর খবর নিশ্চিত করলেও নির্দিষ্ট কোনো পক্ষকে দায়ী করেনি।
উদ্ভূত এই পরিস্থিতিতে আঞ্চলিক শান্তি বজায় রাখতে ইসরায়েল ও লেবানন সীমান্তের সংঘাত বন্ধের ওপরও জোর দিয়েছে ইরান। মূলত গত ২৮ ফেব্রুয়ারি থেকে শুরু হওয়া দীর্ঘ সংঘাত বন্ধ, অর্থনৈতিক করিডোর সচল রাখা এবং ইরানের পারমাণবিক কর্মসূচি নিয়ে সৃষ্ট জটিলতা নিরসনের লক্ষ্যেই কাজ করছে ১৭ জুনের এই অন্তর্বর্তী চুক্তি।