সোমবার, ২৯ Jun ২০২৬, ১১:৫৪ অপরাহ্ন
নিউজ ডেস্ক, নেত্রকোণার আলো ডটকম:
আধুনিক সমাজে বিবাহবিচ্ছেদ বা ডিভোর্সের হার ক্রমেই বাড়ছে। তবে সম্পর্ক বিশেষজ্ঞরা বলছেন, কোনো একটি একক কারণে সাধারণত ডিভোর্স হয় না। দীর্ঘদিন ধরে জমে থাকা অসন্তোষ, ভুল বোঝাবুঝি এবং মানসিক দূরত্বের সম্মিলিত ফলই হলো বিচ্ছেদ। সাম্প্রতিক বিভিন্ন বৈজ্ঞানিক গবেষণার ভিত্তিতে দাম্পত্য সম্পর্ক ভাঙনের প্রধান কারণগুলো নিচে তুলে ধরা হলো:
যোগাযোগের ঘাটতি ও অবজ্ঞা: গবেষক স্টিভেন বি. স্কট এবং জন গটম্যানের মতে, স্বামী-স্ত্রীর মধ্যে খোলামেলা আলোচনার অভাবই বিচ্ছেদের অন্যতম প্রধান কারণ। বিশেষ করে সঙ্গীকে সমালোচনা করা, অবজ্ঞা বা তুচ্ছ করার প্রবণতা সম্পর্ককে দ্রুত ধ্বংসের দিকে ঠেলে দেয়।
মানসিক দূরত্ব ও একঘেয়েমি: লিন গিগি ও জোয়ান বি. কেলির গবেষণায় দেখা গেছে, সব বিচ্ছেদ নাটকীয় কারণে হয় না। অনেক সময় একই ছাদের নিচে থেকেও দম্পতিরা মানসিকভাবে বিচ্ছিন্ন হয়ে পড়েন এবং একঘেয়েমির কারণে সম্পর্ক ভেঙে যায়।
পরকীয়া ও বিশ্বাসভঙ্গ: পল আর. অ্যামাটোর গবেষণা অনুযায়ী, বিশ্বাসঘাতকতা বা পরকীয়া সম্পর্কের ভিত্তি দুর্বল করে দেয়। তবে অনেক সময় সম্পর্কের ভেতরের দীর্ঘদিনের অসন্তোষ থেকেই মানুষ পরকীয়ায় জড়িয়ে পড়ে।
অর্থনৈতিক চাপ ও আর্থিক গোপনীয়তা: আয়-ব্যয় নিয়ে দ্বন্দ্ব বা সঙ্গীর কাছ থেকে ঋণ ও খরচের তথ্য গোপন করা সম্পর্কের আস্থা নষ্ট করে, যা বিচ্ছেদের পথ তৈরি করে।
প্রতিশ্রুতির অভাব ও সহিংসতা: সম্পর্ক টিকিয়ে রাখার মানসিক দায়বদ্ধতার অভাব, মাদকাসক্তি এবং পারিবারিক মানসিক বা শারীরিক নির্যাতন অনেক সম্পর্ককে স্থায়ীভাবে বিষিয়ে তোলে।
বিশেষজ্ঞদের মতে, ডিভোর্স হঠাৎ ঘটে না। সম্পর্ক টিকিয়ে রাখতে প্রয়োজন নিয়মিত খোলামেলা আলোচনা, পারস্পরিক শ্রদ্ধা, স্বচ্ছতা এবং প্রয়োজনে প্রফেশনাল কাউন্সেলিং বা পেশাদার সহায়তা নেওয়া।