শনিবার, ০৮ অগাস্ট ২০২৬, ০৭:০২ অপরাহ্ন
নিউজ ডেস্ক, নেত্রকোণার আলো ডটকম:
টানা কয়েক দিনের ভারী বৃষ্টি ও পাহাড়ি ঢলে কক্সবাজারের চকরিয়া ও পেকুয়া উপজেলার নিম্নাঞ্চল এখনো প্লাবিত। মাতামুহুরী নদীর পানি কিছুটা কমলেও দুই উপজেলার লক্ষাধিক মানুষ পানিবন্দি অবস্থায় চরম মানবিক সংকটে দিন কাটাচ্ছেন। দুর্গত এলাকায় বিশুদ্ধ পানি, খাবার ও স্যানিটেশনের তীব্র সংকট দেখা দিয়েছে। চকরিয়ার কাকারা, বরইতলী ও হারবাংয়ের মতো দুর্গম এলাকাগুলোতে এখনো সরকারি ত্রাণ পৌঁছায়নি বলে অভিযোগ করেছেন স্থানীয় বাসিন্দারা।
বন্যার পানিতে নলকূপ ও শৌচাগার তলিয়ে যাওয়ায় স্বাস্থ্যঝুঁকি চরম আকার ধারণ করেছে। রান্নার সুযোগ না থাকায় অনেকেই শুকনো খাবার খেয়ে দিন পার করছেন। বন্যাকবলিত এলাকার শিক্ষার্থীদের বই-খাতাও পানিতে নষ্ট হয়ে গেছে। স্থানীয়দের অভিযোগ, মাতামুহুরী নদীর নাব্যতা সংকট, অবৈধ দখল এবং প্রভাবশালী কর্তৃক স্লুইসগেট আটকে মাছ চাষের কারণেই এই স্থায়ী জলাবদ্ধতার সৃষ্টি হয়েছে। কক্সবাজার পরিবেশ ও বন সংরক্ষণ পরিষদের সভাপতি দীপক শর্মা দীপু এই সমস্যার স্থায়ী সমাধানের দাবি জানিয়েছেন।
পানি উন্নয়ন বোর্ডের নির্বাহী প্রকৌশলী মো. নুরুল ইসলাম জানান, নদীর পানির উচ্চতা বেশি থাকায় স্লুইসগেট দিয়ে পানি নামতে পারছে না। তবে চকরিয়া উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) শাহীন দেলোয়ার এবং জেলা প্রশাসক মো. আব্দুল মান্নান আশ্বস্ত করেছেন যে, দুর্গতদের জন্য পর্যাপ্ত চাল, শুকনো খাবার ও নগদ টাকা বরাদ্দ দেওয়া হয়েছে এবং দুর্গম এলাকাগুলোতে নৌকার মাধ্যমে দ্রুত ত্রাণ পৌঁছে দেওয়ার কাজ চলছে। কক্সবাজার আবহাওয়া অফিস জানিয়েছে, রবিবার সকাল ৬টা পর্যন্ত ২৪ ঘণ্টায় ১১৫ মিলিমিটার বৃষ্টিপাত রেকর্ড করা হয়েছে।