শনিবার, ০১ অগাস্ট ২০২৬, ১১:৪৮ অপরাহ্ন
নিউজ ডেস্ক, নেত্রকোণার আলো ডটকম:
স্কটল্যান্ডের গ্লাসগো শহরের ক্লাইড নদীর তীরে অবস্থিত লাল ইটের চমৎকার গ্লাসগো সেন্ট্রাল মসজিদটি শুধু একটি উপাসনালয় নয়, বরং এটি স্কটল্যান্ডের মুসলিম সম্প্রদায়ের ইতিহাস, সংস্কৃতি ও সামাজিক কর্মকাণ্ডের প্রাণকেন্দ্র। ১৯৮৪ সালে প্রতিষ্ঠিত চার একর জায়গাজুড়ে নির্মিত এই মসজিদটি স্কটল্যান্ডের প্রথম উদ্দেশ্যভিত্তিক (purpose-built) ও বৃহত্তম ইসলামিক সেন্টার।
ইতিহাস ও অভিবাসীদের অবদান:
শুরুর কথা: বিংশ শতাব্দীর প্রথমার্ধে ভারতীয় উপমহাদেশ থেকে আসা অভিবাসীরা গ্লাসগোর গর্বালস এলাকায় বসতি গড়েন।
প্রথম যাত্রা: ১৯৪৪ সালে অক্সফোর্ড স্ট্রিটে স্কটল্যান্ডের প্রথম মসজিদ গঠিত হলেও জনসংখ্যা বৃদ্ধির কারণে নতুন মসজিদের প্রয়োজন হয়।
উদ্বোধন: প্রায় ৩০ লাখ পাউন্ড ব্যয়ে নির্মিত বর্তমান মসজিদটি ১৮ মে ১৯৮৪ সালে আনুষ্ঠানিকভাবে উদ্বোধন করা হয়।
স্থাপত্য ও ঐতিহ্য:
ঐতিহ্যবাহী ইসলামী গম্বুজ, খিলান ও আরাবেস্ক বাগানের পাশাপাশি গ্লাসগোর স্থানীয় লাল ইট ও টেরাকোটা দিয়ে এটি নির্মিত। এর অনন্য স্থাপত্যের কারণে ‘হিস্টোরিক এনভায়রনমেন্ট স্কটল্যান্ড’ মসজিদটিকে সর্বোচ্চ ‘ক্যাটাগরি-এ’ ভিত্তিক ঐতিহাসিক স্থাপনার স্বীকৃতি দিয়েছে।
সামাজিক ও সম্প্রীতির ভূমিকা:
একসঙ্গে প্রায় ২,৫০০ মুসল্লির ধারণক্ষমতাসম্পন্ন এই মসজিদে নামাজ ছাড়াও কোরআন শিক্ষা, বিয়ে, আন্তধর্মীয় সংলাপ ও শিক্ষাসফরের মতো কার্যক্রম পরিচালিত হয়। ২০২২ সালের আদমশুমারি অনুযায়ী, স্কটল্যান্ডের মোট ১ লাখ ১৯ হাজার (২.২%) মুসলিমের জন্য এটি চার দশক ধরে বহুসাংস্কৃতিক সম্প্রীতি ও মানবিক সেবার এক অনন্য প্রতীক হিসেবে কাজ করছে।