বুধবার, ৩০ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ০৭:৩৮ অপরাহ্ন
নিউজ ডেস্ক, নেত্রকোণার আলো ডটকম:
নেত্রকোণায় একের পর এক শিশু ধর্ষণের ঘটনায় নারী ও শিশুদের নিরাপত্তা নিয়ে চরম উদ্বেগ সৃষ্টি হয়েছে। সাম্প্রতিক একাধিক ঘটনায় অভিযুক্ত হিসেবে বাবা, শিক্ষক ও পরিচিত ব্যক্তিদের নাম সামনে আসছে, যা সুরক্ষার প্রাথমিক স্থানগুলোতেই বড় প্রশ্ন তুলে দিয়েছে।
সম্প্রতি জেলাটিতে ১১ বছর বয়সী এক শিশু ধর্ষণের শিকার হয়ে সন্তান প্রসব করেছে এবং একই বয়সী আরেকটি শিশু বর্তমানে সাত মাসের অন্তঃসত্ত্বা। তাছাড়া পূর্বধলায় বাবার বিরুদ্ধেই নিজের মেয়েকে ধর্ষণের অভিযোগ উঠেছে। জেলা পুলিশের তথ্য অনুযায়ী, গত তিন বছরে থানায় ধর্ষণের মোট ৪০৮টি মামলা (২০২৪ সালে ২৬৭টি, পরের বছর ১১৩টি এবং চলতি বছরের জুন পর্যন্ত ২৮টি) রেকর্ড হয়েছে।
পরিসংখ্যান অনুযায়ী মামলার সংখ্যা কমলেও মানবাধিকারকর্মীদের মতে, প্রকৃত চিত্র ভিন্ন। সামাজিক চাপ, লোকলজ্জা ও প্রভাবশালী মহল কর্তৃক গ্রাম্য সালিশে মীমাংসার চেষ্টার কারণে অনেক ঘটনা ধামাচাপা পড়ে যায়। সম্প্রতি ৫ লাখ টাকায় একটি শিশু ধর্ষণের ঘটনা মীমাংসার ভিডিও ছড়িয়ে পড়ার পর পুলিশি হস্তক্ষেপে মামলা হলেও, আড়ালে থেকে যাওয়া অপরাধের সংখ্যা নিয়ে প্রশ্ন থেকেই যাচ্ছে।
জেলা পুলিশের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার মো. হাফিজুল ইসলাম স্পষ্টভাবে জানিয়েছেন, ধর্ষণের ঘটনায় গ্রাম্য সালিশের কোনো আইনি সুযোগ নেই। ঘটনা ঘটলেই দ্রুত পুলিশকে অবহিত করার আহ্বান জানান তিনি। এদিকে দ্রুত তদন্ত ও ভুক্তভোগী পরিবারের সার্বিক নিরাপত্তা নিশ্চিতের তাগিদ দিয়েছেন স্থানীয় আইনজীবী ও মানবাধিকারকর্মীরা।