সোমবার, ১৯ অক্টোবর ২০২৬, ০৮:১২ অপরাহ্ন
নিউজ ডেস্ক, নেত্রকোণার আলো ডটকম:
জুলাই গণঅভ্যুত্থানে শহীদদের আত্মত্যাগের স্মৃতি চিরভাস্বর করে রাখতে রাজধানীর ওসমানী উদ্যানে নির্মিত দৃষ্টিনন্দন ‘জুলাই স্মৃতিস্তম্ভ’ উদ্বোধন করেছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। একই সঙ্গে আধুনিক সুযোগ-সুবিধা সম্বলিত নতুন রূপের ঐতিহাসিক ওসমানী উদ্যানেরও আনুষ্ঠানিক উদ্বোধন করেন তিনি।
সোমবার (১৯ অক্টোবর) সকাল ১০টায় ওসমানী উদ্যানে আয়োজিত উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে যোগ দেন প্রধানমন্ত্রী। পরে জুলাই বিপ্লবে শহীদ আবু সাঈদের বাবা মো. মকবুল হোসেন, মীর মাহফুজুর রহমান মুগ্ধের বাবা মোস্তাফিজুর রহমান, শহীদ শাহারিয়ার খাঁন আনাসের মা সানজিদা খান দীপ্তি এবং শহীদ ওয়াসিম আকরামের বাবা মোহাম্মদ শফিউল আলমকে সঙ্গে নিয়ে ফলক উন্মোচনের মাধ্যমে স্মৃতিস্তম্ভটির উদ্বোধন করা হয়। উদ্বোধন শেষে প্রাঙ্গণে একটি গাছের চারা রোপণ করেন এবং উদ্যানের নবনির্মিত পাঠাগার ও বিভিন্ন অংশ ঘুরে দেখেন সরকারপ্রধান।
অনুষ্ঠানে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ, স্থানীয় সরকারমন্ত্রী আবদুল মঈন খান, প্রতিমন্ত্রী মীর শাহে আলম, প্রধানমন্ত্রীর মুখ্য সচিব এ বি এম আব্দুস সাত্তারসহ ঢাকা উত্তর ও দক্ষিণ সিটি করপোরেশনের শীর্ষ কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।
প্রায় এক একর জায়গাজুড়ে নির্মিত এই জাতীয় স্মৃতিস্তম্ভটির উচ্চতা ৯০ ফুট। লেজার কাটিং প্রযুক্তির মাধ্যমে স্তম্ভের গায়ে খোদাই করা হয়েছে জুলাই অভ্যুত্থানে প্রাণ হারানো ৮৩৪ জন শহীদের নাম। এর সামনে স্থাপন করা হয়েছে ২০টি প্রতীকী সমাধিফলক। স্মৃতিস্তম্ভটির দেয়ালে রয়েছে দীর্ঘ রিলিফ ভাস্কর্য, যেখানে ১৯৫২ সালের ভাষা আন্দোলন, ’৬৯-এর গণঅভ্যুত্থান, ’৭১-এর মুক্তিযুদ্ধ এবং ’৯০-এর স্বৈরাচারবিরোধী আন্দোলনের ধারাবাহিকতায় ২০২৪ সালের জুলাই গণঅভ্যুত্থানের গৌরবময় ইতিহাস মূর্ত হয়ে উঠেছে।
অন্যদিকে, পুরান ও নতুন ঢাকার মিলনস্থলে অবস্থিত ঐতিহাসিক ২৩ একর আয়তনের ওসমানী উদ্যানকে রূপান্তর করা হয়েছে এক আধুনিক নাগরিক বিনোদনকেন্দ্রে। উদ্যানে পুরোনো জলাশয় সংস্কারের পাশাপাশি আরও পাঁচটি নতুন জলাশয় তৈরি করা হয়েছে। রয়েছে ৩ দশমিক ১ কিলোমিটারের ওয়াকওয়ে, জিমনেসিয়াম, প্যাগোডা, আধুনিক ড্রেনেজ ব্যবস্থা এবং ৫০ হাজার লিটার ধারণক্ষমতাসম্পন্ন বৃষ্টির পানি সংরক্ষণাগার।
স্মৃতিস্তম্ভ ও আধুনিক উদ্যানটি একদিকে যেমন বীর শহীদদের স্মৃতির প্রতি জাতির বিনম্র শ্রদ্ধার প্রতীক হিসেবে দাঁড়িয়ে থাকবে, তেমনি রাজধানীবাসীর জন্য এক প্রাণবন্ত সবুজ নিঃশ্বাস নেওয়ার স্থান হিসেবে ভূমিকা রাখবে।