শনিবার, ২৪ অক্টোবর ২০২৬, ১২:৫২ অপরাহ্ন
নিউজ ডেস্ক, নেত্রকোণার আলো ডটকম:
জর্ডানের মধ্যাঞ্চলে কারাক গভর্নরেটের হামুদ এলাকায় একটি ঐতিহাসিক গির্জায় সশস্ত্র বন্দুকধারীদের বর্বরোচিত হামলায় অন্তত সাতজন নিহত হয়েছেন। এ ঘটনায় আহত হয়েছেন আরও অন্তত ৩৪ জন। শুক্রবার প্রার্থনারত সাধারণ মানুষকে লক্ষ্য করে এ রক্তক্ষয়ী হামলা চালানো হয় বলে নিশ্চিত করেছে ব্রিটিশ আন্তর্জাতিক বার্তাসংস্থা বিবিসি।
বিবিসির প্রতিবেদন ও যাচাইকৃত সিসিটিভি ফুটেজে দেখা গেছে, একটি পিকআপ ভ্যানে করে আসা তিন অজ্ঞাতপরিচয় বন্দুকধারী পিস্তল ও স্বয়ংক্রিয় অস্ত্র উঁচিয়ে গির্জা প্রাঙ্গণে প্রবেশ করে। এরপর কোনো কিছু বুঝে ওঠার আগেই প্রার্থনারত উপাসকদের লক্ষ্য করে প্রায় ১০ থেকে ১৫ মিনিট ধরে এলোপাতাড়ি গুলি ছুড়তে থাকে। হামলা শেষে পালানোর সময়ও তারা চারদিকে গুলিবর্ষণ করে দ্রুত স্থান ত্যাগ করে। এখন পর্যন্ত কোনো সশস্ত্র গোষ্ঠী এ নারকীয় হামলার আনুষ্ঠানিক দায় স্বীকার করেনি।
প্রত্যক্ষদর্শীদের ভাষ্য অনুযায়ী, প্রার্থনার শব্দ ছাপিয়ে হঠাৎ গুলির বিকট আওয়াজ ও জানালার কাচ ভাঙার শব্দ ছড়িয়ে পড়লে গির্জার ভেতরে চরম আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে। প্রাণ বাঁচাতে অনেকে উপাসনালয়ের বেঞ্চের নিচে ও মেঝেতে শুয়ে পড়েন। কেউ নিজের সন্তানদের বুকে আগলে ধরে বাঁচানোর চেষ্টা করছিলেন, আবার কেউ রক্তাক্ত স্বজনদের জড়িয়ে ধরে আর্তনাদ করছিলেন। পুরো গির্জা প্রাঙ্গণে রক্তাক্ত মরদেহ ও আহতদের ছড়িয়ে-ছিটিয়ে পড়ে থাকতে দেখা যায়।
এক সংবাদ সম্মেলনে জর্ডানের স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী মাজেন আল-ফারায়া হামলাকারীদের একটি ‘চরমপন্থী গোষ্ঠী’ হিসেবে উল্লেখ করে এই ঘটনাকে দেশের ইতিহাসে নজিরবিহীন ও বেদনাদায়ক আখ্যা দেন। তিনি জানান, হামলাকারীদের দ্রুত শনাক্ত ও গ্রেপ্তারে যৌথ নিরাপত্তা অভিযান শুরু হয়েছে।
এদিকে জর্ডানের বাদশাহ দ্বিতীয় আবদুল্লাহ কারাকে পরিচালিত এই কাপুরুষোচিত ‘সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ডের’ তীব্র নিন্দা জানিয়ে ঘোষণা দিয়েছেন, দায়ীদের বিরুদ্ধে কঠোরতম শাস্তিমূলক ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে। তিনি ইতোমধ্যে হাসপাতালে গিয়ে আহতদের খোঁজখবর নিয়েছেন। অন্যদিকে লেবাননের প্রেসিডেন্ট জোসেফ আউন এই ঘটনাকে ‘জঘন্য সন্ত্রাসী হামলা’ বলে আখ্যা দিয়ে আন্তর্জাতিক অঙ্গনে তীব্র নিন্দা জানিয়েছেন।
উল্লেখ্য, মুসলিম সংখ্যাগরিষ্ঠ দেশ জর্ডানের কারাক অঞ্চলে উল্লেখযোগ্যসংখ্যক খ্রিস্টান সম্প্রদায়ের বসবাস রয়েছে। দেশটিতে সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতি দীর্ঘদিনের ঐতিহ্য হলেও অতীতে বিচ্ছিন্ন কিছু হামলার নজির ছিল। সাম্প্রতিক এই ঘটনায় পুরো জর্ডানজুড়ে এখন চরম নিরাপত্তা সতর্কতা জারি করা হয়েছে।